দাদু ০১

মোঃ নোমান সরকার

আবীর এসে দাদুর গলা জড়িয়ে ধরল। দাদু হেসে উঠে বলল, আরে মরে যাব তো। তুমি তো দেখি এখন অনেক বড় হয়ে গেছ। ভালো ওজন হয়েছে, গুড ভেরি গুড!

আবীর দাদুর গলা থেকে হাত সিরিয়ে বলল, আগামি ২ বছর পরেই আমার ১৮ হবে। তখন আমি হব রাজা। যা খুশি তাই করতে পারব।

বল কি! যা খুশি তাই! দাদু আনন্দিত গলায় বলল।

আবীর পাশ ফিরে বলল, রতন মুন্না আমি কি ঠিক বলিনি?

রতন মুন্না দাদুর সামনে কাচামাচু করতে লাগল।

আরে ইয়ং ম্যান, বল বল। তোমরা কি ভাব? দাদু প্রবল উৎসাহ দিয়ে বলল। এতেই রতন মুন্নার ভয় কেটে গেল। তারা আবীরের দাদুকে কিভাবে নিবে তাই নিয়ে চিন্তিত ছিল। দাদু যে এত সহজ বা এত সহজে মিশে যাবে তাদের ধারনাই ছিল না। মনে হচ্ছে নিজের দাদু!

রতন আর মুন্না আবীরের বন্ধু। দাদুর সামনে ওরা আজ প্রথম। দাদু সাউথ আফ্রিকায় ছিলেন এগারো বছর। দাদি সেখানে মারা গেছেন। দাদুর চাকরির মেয়াদ থাকলেও তিনি দাদি মারা যাবার পরে লাশ নিয়ে দেশে চলে এসেছেন। তারপর অনেক দিন পর গ্রাম ছেড়ে ঢাকায় বড় ছেলের বাসায় উঠেছেন। আবীর ওদের বাসায় নিয়ে এসেছে, দাদুর সাথে পরিচয় হতে। ওদের কারো দাদু নেই। তাই ওরা প্রচণ্ড আনন্দিত এই জন্য যে আবীরের দাদুকে দাদু বলে ডাকতে পারবে। খুব আশা নিয়ে ওরা এসেছে। ওদের খুব ইচ্ছে হচ্ছে আরীরের মতন দাদুর গলা জড়িয়ে ধরতে।

মুন্না বলল, হ্যা দাদু আমরাও ৩ জনই একই বয়সী। আমাদের ২ বছর পর ১৮ হবে। তখন আমরা যা খুশি তাই করতে পারব। মুন্না এই কথা বলে খুবই খুশি। সে আবীরের দাদুকে দাদু বলতে পেরেছে। এতে সম্ভবত দাদু সহজ ভাবে নিয়েছে। ও যখন দাদু বলে ডাকছিল, তখন মুন্না খেয়াল করেছে দাদুর মুখের হাসিটা বড় হয়েছে। সে খুবই খুশি।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top