• মূলপাতা
  • সাহিত্য
    • কিশোর গল্প
    • শিশুতোষ গল্প
    • ছড়া
  • কিছু কথা
    • আমার ছোটবেলা
    • স্বাস্থ্য কথা
    • জানা অজানা
    • বিবিধ
  • তুলির আঁচড়
    • গ্যালাক্সি
  • কেনাকাটা
  • রান্না ঘর
    • রান্না ঘর

      স্পাইসি চিকেন গোজন্স

      November 16, 2019

      রান্না ঘর

      বাটার কেক

      November 11, 2019

      রান্না ঘর

      ডিমের কোরমা

      July 31, 2019

      রান্না ঘর

      কাঁকরোলের দোলমা

      July 27, 2019

      রান্না ঘর

      মিষ্টি কুমড়া দিয়ে মুরগী রান্না

      July 19, 2019

  • আমাদের কথা
  • যোগাযোগ
Samogro
গল্প

পিপিলিকার শখ

by Admin September 30, 2026
written by Admin

মোঃ নোমান সরকার

তোমার নাম কি? তোমার নাম কি? দুই প্রজাপতিরা প্রশ্ন করল পিপিলিকা।

পিপিলিকা খুশি মনে বলল, আমার নাম ইলিং। তা তোমাদের নাম কি?

এক প্রজাপতি ডানা নাচাতে নাচাতে বলল, আমার পং আর ওর নাম টং। আচ্ছা তুমি কোথায় থাকো আর কোথায় বা যাও, বলত? এই পথটা কিন্তু তোমার জন্য না। এইখানে প্রচুর টিকটিকি বসবাস করে।

বলো কি! তাহলে তো অন্য পথে বিশ্ব দেখতে যেতে হবে। আমি বের হয়েছি এই গোটা পৃথিবী দেখতে। আমি এসেছি মিমিটাও নামে এক জায়গা থেকে। এই জঙ্গলেই এই এলাকা। খুব বেশি দূরে না।” ওর কথায় প্রজাপতি দুইটির আনন্দ বেড়ে গেলো। আহা কি আনন্দ, আহা কি আনন্দ! তুমি চাো, গোটা পৃথিবী দেখতে! এমন আকজন বন্ধুর দেখা পেয়ে আমরা খুব খুশি! আমি এর আগে এমন কথা কখনো শুনিনি।

যাবে নাকি আমার সাথে?

পং আর টং একসাথে হিহিহি করে হেসে ফেলে বলল, আমরা আদের এই জঙ্গলেই থাকতে চাই। এখানেই আনন্দ আমাদের। তবে তোমার কথাগুলো আমরা প্রজাপতি রাজ্যে জানিয়ে দিব। সবাই আনন্দ পাবে। গোটা পৃথিবী দেখার ইচ্ছে হয়, এমন খবরে সবাই অনেক আনন্দ পাবে। তোমার কত বড় শখ! ভালো লাগলো তোমার মতন সাহসী একজনের সাথে পরিচয় হয়ে।

ইলিং বলল, তোমরা বলছ, এই পথটা এড়িয় যেতে।

দুই প্রজাপতি একসাথে মাথা ঝাঁকিয়ে বলল, টিকটিকি গুলো ভারী দুষ্ট। কাছে কিছু পেলেই খপ করে ধরে ফেলে। ইলিং বলল, বলো কি!

পং আর টং বলল, আমরা তোমাকে নিরাপদ পথে খবর দিতে পারি। তুমি আমাদের অনুসরণ করলে আমরা অনেক্টূকু পথ দেখিয়ে দিব, যেখানে টিকটিকি নেই,এম্পন জায়গা।

ঠিক আছে। ঠিক আছে। আমি তোমাদের অনুসরণ করব।

ঠিক তখনই পিপিলিকা দেখতে পেলো গাঢ় সবুজ রঙ এক পিপিলিকাকে। চমকে উঠল। এমন পিপিলিকাকে সে আগে কখনো দেখেনি।

পিপিলিকা চিৎকার করে বলল, তুমি কে? তুমি কে?

আকৃতিতে তার সমান সে ঝাঁপিয়ে পরেছে এক টিকটিকির উপর এবং কঠিন ভাষায় তার দিকে বলল, পালাও! ডানের পথ ধরে যাও তার পর পাতার উপরে গিয়ে বস। আমি দেখছি।

ইলিং অবাক চোখে তাকিয়ে আছে। সে গাঢ় সবুজ পিপিলিকার কথা মতন ডান পথে গেলো। হ্যা একোটা গাছের পাতা আছে। সে উঠে পরল। তখনই সে দেখতে পেলো, নীচে আরেকটা টিকটিকি এসে দাঁড়াল সেখানে যেখানে একটু আগে ছিল। হুম, বেঁচে গেছি। কৃতজ্ঞতায় মন ভরে উঠোলো। সে দেখতে পেলো, একের পর এক টিকিটিকি মেরে ফেলছে এই গাঢ় সবুজ রঙ এর পিপিলিকা।

সে আকাশের দিকে তাকালো প্রজাপতিরাও অবাক বিস্ময়ে গাঢ় রঙ এর পিপিলিকাকে দেখছে।

একটা সময় যুদ্ধ থামলো। গাঢ় সবুজ রঙ এর পিপিলিকা এসে পাশে দাঁড়ালো। তোমার নাম ইলিং? তাই না?

তুমি কিভাবে জানো!

আমি পিপিলিক নই , আমি রবোট। আমার নাম এল ফোর টুইনটি। আমাকে মানুষেরা বানিয়েছে পিপিলিকাদের বিষয় সব ধরনের তথ্য পেতে। কিন্তু আমরা মানুষের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করে পালিয়ে এখানে এসেছি। ইলিং তোমার সাহায্য আমার লাগবে।

আরে আমি তো সারা পৃথিবী দেখব বলে ঘর থেকে বেরিয়ে এসেছি।

September 30, 2026 0 comment
0 FacebookTwitterPinterestEmail
কিশোর গল্পজানা অজানা

আমাদের বাগদাদ

by Admin September 23, 2026
written by Admin

মোঃ নোমান সরকার

বাগদাদ! কে বলবে ছবিটা ১২৫৮ সালের আগের বাগদাদ শহরের! শত শত বছরের তিল তিল করে গড়ে উঠা অতুলনীয় কারুকাজ করা শহর এখনো প্রেরণা স্থাপত্য শিল্পীদের জন্য। অবাক বিস্ময়ে সেই কাজ আর কারুকাজ ভাবায় সব ধরনের মানুষকে। এত বছর পরেও শহরের এই মডেলটি সম্ভবত আর তৈরি হয়নি। শহরের এই ছবিটাই প্রমান করে এ যেন এক স্বপ্নের উদ্যান, স্বপ্নের শহর! রূপকথার মতনই! গোটা ইউরোপ সহ সারা দুনিরার ছেলেমেয়েরা এখানেই পড়তে আসত। জ্ঞানে বিজ্ঞানে তারা ছিল সবার সেরা তখন। নিজেকে কিছুটা সময়ের জন্য সেই শহরের বাসিন্দা মনে করে কল্পনা করে দেখতেই পারি আমরা।

তখন আব্বাসীয় সাম্রাজ্যের শেষ খলিফা ছিলেন আল-মুসতাসিম বিল্লাহ। চেঙ্গিস খানের নাতি হালাকু খান বিশাল মঙ্গোল বাহিনী নিয়ে বাগদাদ আক্রমণ করেন। ১২৫৮ সালের ২৯ জানুয়ারি থেকে ১০ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত বাগদাদ অবরুদ্ধ ছিল। মঙ্গোলদের বিরুদ্ধে ২০,০০০ অশ্বারোহীর একটি বাহিনী প্রেরণ করেন। কিন্তু সৈনাবাহিনী বেতন না দিয়ে এই বাহিনীকে অযোগ্য করে রাখা হয়েছিল বহুকাল আগে থেকেই। শক্তিশালী সেনা বাহিনীর প্রয়োজন মনে করেননি খলিফা। ফলে দুর্বল সেনা বাহিনী খুব কম সময়ে পরাজিত হয়। এই অশ্বারোহীরা মঙ্গোলদের সাথে যুদ্ধে পরাজিত হলেও পরের সময়টাতেও দুর্বল সেনাদের কারনে বড় ধরনের প্রতিরোধ করতে পারেনি।

ভোগ বিলাসে ডুবে থাকা বাগদাদবাসী স্বপ্নেও ভাবিনি কি ঘটতে যাচ্ছে তাদের সাথে। ১০ ফেব্রুয়ারি শহর আত্মসমর্পণ করে। ১৩ তারিখ, ১২৫৮ মঙ্গোলরা শহরে প্রবেশ করে হত্যা ও ধ্বংসযজ্ঞ শুরু করে। পালিয়ে যেতে চেষ্টা করা নাগরিকদেরকে মঙ্গোলরা গণহারে হত্যা করে খুব অল্প দিনেই। দ্য নিউ ইয়র্কারের ইয়ান ফ্রেজিয়ারের মতে মৃতের সংখ্যা ২,০০,০০০ থেকে ১০,০০,০০০। বাগদাদবাসীদের হত্যা করে তাদের মাথার খুলি দিয়ে পিরামিড তৈরি করে রেখেছিল যাতে মঙ্গলদের ভয়ে সবাই দিশেহারা হয়। বাগদাদের বাইতুল হিকমাহ গ্রন্থাগার এই সময় ধ্বংস হয়ে যায়। ফলে চিকিৎসা, জ্যোতির্বিদ্যাসহ বিভিন্ন বিষয়ের উপর রচিত অসংখ্য মূল্যবান বই হারিয়ে যায়।

কত অল্প সময়ে কি অবাক করা পতন! কি বিস্ময়! ভোগ বিলাসে ডুবে যাওয়া মানুষের নির্মম পরিনিতি এমন হয় কে বুঝতে চায়! আসলে রাষ্ট্র হোক আর ব্যক্তি জীবনেই হোক ভোগ বিলাসের পরিনতি হয়ত এমনই হয়। বাগদাদ শেখায় আমাদের, যে যত বড় তার দায়িত্ব ততো বড়। নিজের আনন্দটাই তাই বড় করে দেখতে নেই। সেই সময়ের সেরা দেশের এমন অবাক করা পতন এবং এত দ্রুত পতন আমাদের কি ভাবায়? নিজের জীবন, নিজের সমাজ, নিজের রাষ্ট্রকে আঁকড়ে রাখতে না পারলে পরিনতি এমনই তো হয়! কি অবিশ্বাস্য পতন! আসুন আমরা নিজেকে দেখি। নিজের মধ্য দিয়ে নিজের পরিবার, নিজের সমাজ, নিজের দেশকে দেখি। ভাবতেই হবে। মৃত্যুর আগে জেনে যাই, আমরা ‘মানুষ’ ।

ভুলে যাওয়া যাবে না এই দোয়া, “হাসবুনাল্লাহু ওয়া নি’মাল ওয়াকিল।” আমাদের জন্য আল্লাহই যথেষ্ট, আর তিনিই উত্তম কর্মবিধায়ক (বা অভিভাবক)। [কোরআন, সুরা আলে ইমরান, আয়াত ১৭৩]

মানুষ সৃষ্টিকর্তার দিক থেকে মুখ ফিরিয়ে নেওয়ার পরিণতি পতনের মধ্য দিয়ে দেখতে পায়।

September 23, 2026 0 comment
0 FacebookTwitterPinterestEmail
ভূতের গল্প

আমি!

by Admin September 23, 2026
written by Admin

বিকালের মধ্যেই পৌছে যাবার কথা। কিন্তু রাস্ত খারাপ হওয়ায় সন্ধ্যা হয়ে এলো গ্রামে পৌছাতে। ঝুপ করেই সন্ধ্যাটা নেমেছে, সাথে শীত। বাতাসের জন্য শীতটাকে প্রবল মনে হচ্ছে।

এই বাসায় এই প্রথম আসা। আমার বন্ধু মুন্নার গ্রামের বাড়ি। আগে আসিনি। এসেই বিপদে খবর জানা হলো। মুন্না আমাকে একা রেখে তার আত্নীয়কে নিয়ে গেছে সদর হাসপাতালে।

আমরা আজ সকালে ওদের গ্রামের বাড়িতে বেড়াতে এসেছিলাম।
হঠাত করে আমার কাছে সব যেন বদলে যেতে শুরু করল। আনন্দের খোঁজে এত দূর আসা। কিন্তু মুন্নার আত্মীয়র অসুস্থতায় সব বদলে গেলো। মন খারাপ করে লাভ নেই। আমি নিজেকে বুঝিয়ে মানিয়ে নিয়েছি।

আমি হাই তুলতে তুলতে টেবিলে রাখা লেবটপ অন করতেই মনে হলো, ঘরে আমি একা নই। আমি ঘুরে তাকালাম, চারদিক ভালো করে চোখ বুলালাম।


খানিক খন চুপ করে থাকলাম। এমন মনে হবার কারন কি হতে পারে? আমি বিরক্ত হলাম। অনেক দিন পর গ্রামে এসেছি। যদিও বিদ্যুৎ আছে। পাকা বাড়ি। ভারী আসবাব পত্র। খুব সুন্দর করে সাজানো। ঘরের ভিতর থেকে বোঝার উপায় নেই এটা গ্রামের বাড়ি।


অনিচ্ছা সত্ত্বেও ওয়াস রুমের আলো জ্বালালাম। ঘরে এখন খাটের নীচ দেখা বাকী। আমি নিজেকে ধমক দিলাম। কি অসভ্যতা! কৈশোরে গল্পে এমন কাহিনী পড়েছি। হাসি পেলো। দারুণ অভিজ্ঞতা!


আমি ইউটিউবে একটা টাইম ট্রভলের ভালো কি সিনেমা এসেছে দেখতে লাগলাম। খুট করে শব্দ হল। মনে হল আমার কাছেই শব্দটা হল। ইদুর নিশ্চয়ই। আমি আবার শব্দের উৎস খুজলাম। তখনই আমার ঘাড়ের কাছে দীর্ঘশ্বাসের শব্দ পেলাম। আমি আঁতকে লাফিয়ে সরে গেলাম।

September 23, 2026 0 comment
0 FacebookTwitterPinterestEmail
গল্প

ভুল থেকে আরো ভুলে

by Admin July 27, 2025
written by Admin

এক বানার গাছের উঁচু ডালে উঠতেই বিকট শব্দ শুনতে পেল। সে কৌতূহলী হয়ে শব্দের উৎসের দিকে তাকিয়ে রইল। ক্রমেই শব্দটা বাড়ছে, কাছে আসছে।

সে দেখতে পেল একটা হাতি খুব জোরে দৌড়ে এদিকেই আসছে। যেন এই গাছের দিকেই আসছে। হাতিটা কি এই গাছটাকে ধাক্কা দিবে না তো। বানর প্রচণ্ড ভয় পেয় গেল। হতেও পারে। বনের রাজা বুড়ো হয়ে যাওয়ায় এই বনে যে যা খুশি তাই করে বেড়াচ্ছে। আরে বুড়ো হয়েছেন, রাজ্য এইবার যুবকদের ছেড়ে দেন। না ক্ষমতা আঁকড়ে থাকবে। এদিকে সারা বন যা ইচ্ছে তাই হয়ে যাচ্ছে। পসুরা অসভ্য হয়ে উঠছে। কেউ কাউকে মানে না। সম্মান তো করেই না। এ যেন যা ইচ্ছে তাই এর রাজ্য।

বানর নিজেকে থামাল। বকা দিল আপন মনে, আরে হাতি কেন গাছকে ধাক্কা দিতে এখানে আসবে? সে দৌড়াচ্ছে। দৌড়াবে। তবুও সে তীক্ষ চোখে তাকিয়ে রইলো।

হাতি দৌড়ে যখন একদম কাছে আসল, তখন বানর দেখল, হাতির দুই চোখ বন্ধ করা মানে কি? হাতি কি অন্ধ? হুম, হাতি অন্ধ। অন্ধ হাতি এত জোরে দৌড়ায়? সে তো বিপদে পড়ে যাবে! অদ্ভূত বিষয় তো!

বানার হাতি দৌড়ের সাথে পাল্লা দিয়ে এক গাছ থেকে আরেক গাছে ঝুলে যহুলে ছুটছে। এক সময় সে হাতির কাছাকাছি আসতে লাফিয়ে হাতির পিঠে নেমে পড়ল। তখন হাতি থামল।

প্রচণ্ড গতিতে সে ধমক দিয়ে জানতে চাইল, আমার পিঠে কেরে?

বানর বিনীত ভাবে বলল, আমি বানর।

কি চাও? কেন তুমি আমার পিঠে এভাবে লাফিয়ে নামলে?

বানর বিনীত ভবে অনেক মায়া নিয়ে বলল, তুমি যে চোখে দেখো না কিন্তু এভাবে প্রচণ্ড গতিতে দৌড়াচ্ছ। তুমি তো বিপদে পড়ে যাবে।

তমার সমস্যা কি? আমার বিপদ নিয়ে তোমাকে কে ভাবতে বলেছে, হতচ্ছরা। তোমার সাহস হল কিভাবে আমার পিঠে লাফিয়ে নামার?

বানর বলল, তুমি দেখতে পাচ্ছ না বলে বুঝতেও পারছ না কত প্রানী তোমার পায়ের নীচে চাপা পড়েছে। অন্যায় ভাবে কাউকে হত্যা বা আহত তো তুমি করতে পার না।

হাতি ব্লল, হতচ্ছরার সাহস দেখো! আমাকে উপদেশ দিচ্ছে! দাঁড়াও দেখাচ্ছি মজা। বলেই সে তার শুড় দিয়ে বানারকে পেচিয়ে ধরল।

বানার বলল, একি একি কি ক্রছ তুমি। আমি তোমার ভালো চাইতেই তোমার কাছে এসেছিলাম। আর তুমি?

অন্ধ হাতি বলল, আমি কি তোমার কাছে কোন উপকার চেয়েছি? সাহায্য চেয়েছি। যে আমার ভালো তোমাকেই করতে হবে? বেয়াদপ।

বানর প্রচণ্ড ভয় পেয়ছে। হাতি শক্ত ভাবে তাকে ধরে আছে। যে কন সময় বিপদ আসতে পারে।

বানর বলল, আমাকে ছেড়ে দাও। এভাবে আমাকে অপমান কর না।

হাতি আট্টহাসিতে ফেটে পড়ল। কি আমার অপমানরে। শরীরে নেই কিছু অথচ লম্বা কথা বলে।

বানর কাতরাতে কতরাতে বলল, অহংকার করো না নিজের শক্তি দেখাতে গিয়ে। আর মনে রেখো তুমি বড় প্রানী হলেও অন্ধ। তোমার খুব ভেবে পথ চলাটাই ভালো ছিল। তুমি তা বুঝতে চাও না। আমাকে এবারের মতন ছেড়ে দাও। কথা দিচ্ছি, আর কখনো তোমাকে বিরক্ত করব না।

হাতি বলল,জ্ঞান দিচ্ছ খুব। দুর্বলরা ই কাজ ভালো পারে। দাড়ো দেখাচ্ছি মজা। এই কথা বলে সে বানার কে ছুড়ে দিল পায়ের কাছে। তারপর পা উচু করে যতটা সম্ভব জোরে পিষে দিল। রক্তে মাটি লাল হলেও অন্ধ হাতি তা না দেখলেও বুঝতে পেরেছে হাতিটাকে সে পিশে মেরেছে। সে আনন্দে আত্মহারা হয়ে গেল।

এর বেশ কিছু ক্ষন পরে অন্ধ হাতি আবার দৌড়াতে শুরু করল। কিন্তু সে দেখতে পেল না সামনে ছিল ছোট্ট পুকুরের আকৃতির এক বড় গর্ত। সে পড়ে গেল।

হাতির তখন বানরের কথাগুল মনে হচ্ছিল।

অন্ধ হাতি ধীরে ধীরে গর্তের ভিতর ডেবে যেতে লাগল। সে প্রান পন চেষ্টা করেও কিছুই করতে পারলো না।

জ্ঞানীরা যা বলে তাকে অস্বীকার করা সহজ কিন্তু সত্য কখনো মিথ্যা হয় না। সে অন্ধ ,এই বিশাল দেহ টি নিয়ে যতদিন সে সাবধানে পা ফেলে ফেলে এগিয়েছে সে কখনো বিপদে পড়েনি। কিন্তু আজ সে সকাল থেকে পাগলামি করতে চাইছিল। বারবার নিজেকে বুঝা্ছিল, এই পথ আমার অতি চেনা।

July 27, 2025 0 comment
0 FacebookTwitterPinterestEmail
গল্প

না বলা কথা ৩

by Admin January 15, 2025
written by Admin

মোঃ নোমান সরকার

তাকে দেখে আমি খুশিতে এতই আত্মহারা হয়েছিলাম , নোমান।

আমার হৃদয়ের ভগ্নদশা যা দেখাতে আমি যুগ অপেক্ষায় ছিলাম, তাই প্রকাশ করা হল না।।

January 15, 2025 0 comment
0 FacebookTwitterPinterestEmail
গল্প

না বলা কথা

by Admin March 13, 2024
written by Admin

নোমান, চৌদ্দটা গোলাপ আমার হাতে। আমি একবার ফিরে দেখি তাকে।

আর একবার গোলাপের দিকে। রব, আজ তো সেই সকাল।।

March 13, 2024 0 comment
0 FacebookTwitterPinterestEmail
গল্প

ভূতের মন খারাপ

by Admin April 21, 2022
written by Admin

মোঃ নোমান সরকার

ছোট ভুতটি শব্দ করে কাঁদছে। বনের সব প্রানী, পাখির আর ছোট ছোট প্রান যারাই আছে তারা সবাই ভয়ে কাঁপছে। কারন একটাই এই ছোট ভুতটির মা খুবই ভয়ংকর। সে রেগে গেলে যাকে কাছে পায় তারই ঘাড় ভেঙ্গে দেয়। বাঘ, ভাল্লুক, সিংহ, ঈগল, পিপীলিকা কেউ ভূতের কাছ থেকে রেহাই পায়নি।

ছোট ভূত মাকে খুঁজে পাচ্ছে না বলেই কাঁদছে।

বনের সব প্রানীরা জরুরী বৈঠকে বসেছে। কি করা যায়, কি করা যায়। কিন্তু বিকাল ফুরিয়ে গেলো। কেউ কোন বুদ্ধি দিতে পারল না, সিদ্ধান্ত তাই হলো না। যে যার বাড়ি ফিরে গেলো। নিজের জীবনই সবচেয়ে প্রিয়, কে যেচে জানটা হারায়।

একটা ফড়িং সেই সময় সেই বনের উপর দিয়ে উড়ে যাচ্ছিল। সে দেখলো, সবাই কেমন মলিন মুখে এক সাথে মিটিং ভেঙ্গে দিয়ে সরে যাচ্ছে। ব্যাপার কি, এই ভেবে সে সোজা নেমে এলো পিপীলিকার রাণীর কাছে।

কি হয়েছে? কি হয়েছে?

রাণী ধমকের সুরে বলল, যেখানে যাচ্ছ যাও, এই সব জেনে তোমার কাজ নেই।

ফড়িং চঞ্চল গলায় বলল, আমাকে বল না, কেন তোমরা সব প্রানী মলিন মুখে ফিরে যাচ্ছ?

পিপিলিকার রাণী বিরক্ত হয়ে বলল, তুমি কি শুনতে পাচ্ছ না কারো চিৎকার, কারো কান্নার সুর?

হ্যা পাচ্ছি, আমি উত্তরটা পেলে সেই কথাও তমার কাছে জানতে চাইতাম, কে কাদে এভাবে?

পিপলিকার রানী বিরক্ত গলায় বলল, তুমি কেন বিরক্ত করছো।

আহা বলই না। ফড়িং আবদারের সূরে জানতে চাইলো।

এই বনে একজন ভয়ংকর ভূত বাস করে তার বাচ্চা সহ। সে রেগে গেলে কারনে অকারনে যাকে কাছে পায় তারই ঘাড় ভেঙ্গে দেয়। তার বাচ্চাটাই কাদছে। এখন যদি ভূত এসে বাচ্চাকে কাঁদতে দেখে, তখন যদি সে মনে করে এই বনের প্রানীদের কারনে তার বাচ্চাটা কাঁদছে তখন কি হবে? সে তো সবাইকেই মেরে ফেলতে পারে। আবার কেউ সেই বাচ্চাটার কাছে যেতেও ভয় পাচ্ছে। যখন যাবে তখনই যদি ভূতটা এসে পরে। তখন তার জানটাও তো যাবে। তাই না?

ফড়িং হতাশ গলায় বলল, এ তো দেখি বিরাট বিপদে পরেছো তোমরা। হ

April 21, 2022 0 comment
0 FacebookTwitterPinterestEmail
গল্প

অন্ধকার রাত

by Admin April 21, 2022
written by Admin

মোঃ নোমান সরকার

রাজকুমারী দেখতে পেল একটা মানুষ পানির স্রোতে ভেসে যাচ্ছে। রাজকুমারীর মন ভাল ছিল না। সকালে সখীদের নিয়ে সে এসেছিল নদীর পারে। নদীর পারে এসেই মনে হল, একা থাকলেই তার ভালো লাগবে। তাই সে সবাইকে দূরে চলে যেতে বলল। জায়গাটা ছোট্ট একটা টিলার পাশে। আরো দূরে টিলার উপরের দিকে তার জন্য বিশেষ দেহক্ষীরা আছে। একটা পালকিতে চড়েই প্রতিবার এই জায়গাটায় সে আসে। কেন যেন খুব ভাল লাগে জায়গাটা।

রাজকন্যা খুব জোরে ডাকল,’ মিথিলা! মিথিলা!’ 

ডাক শুনতেই মিথিলা দৌড়ে এলো।

আমার দেহরক্ষীদের ডাকো। দ্রুত।

মিথিলা প্রচণ্ড বেগে দৌড়ে উপরে উঠে গেল। আর যেন বাতাসের গতিতে দেহরক্ষীরা হাজির হল। 

রাজকুমারী কঠিন গলায় বলল,’ঐ মানুষটারে টেনে নিয়ে এসো। মানুষটা ডুবে যাচ্ছে।‘

আট জনের জায়গায় তিনজন দেহরক্ষী পানিতে ঝাঁপ দিল। এই সময়টায় স্রোতের গতি বেশি হয়। তারা ছুটল মানুষটার দিকে প্রচন্ড ক্ষিপ্ততায়। অবশেষে মানুষটাকে নদীর পানি থেকে উদ্ধার করে নিয়ে এলো।

রাজকুমারীর সামনে মানুষটাকে শুয়ে দেওয়া হল। মানুষটার দুই হাত বাঁধা। 

রাজকুমারী বলল, ‘ওকে হাকিমের কাছে নিয়ে যাও। এখনই। আমার পালকীটা নিয়ে যাও। ঢেকে নিও। যেন কেউ বুঝতে না পারে। আর হাকিম সাহেবকে আমার সালাম দিবে। যাও।‘

দুইজন শক্ত দেহরক্ষী ছুটোল মৃত প্রায় মানুষটাকে নিয়ে।

[২}

২ দিন পর মানুষটা বেশ সুস্থ বোধ করছে। তাকে মেরেই ফেলেছিল। হাত বেঁধে পানিতে ফেলে দিয়েছিল। ভালো সাঁতার জানার পরেও  স্রোতের টানে সে মরেই যাচ্ছিল। কেউ একজন তাকে বাঁচিয়েছে । তবে কেউ বলতে পারে না, সে কে!

আরো ২ দিন কাটল। তারপর হাকিমের কাছে বিদাই নিয়ে সে কড়া রোদে হেঁটে যেতে লাগল। তাকে যেতে হবে বহু উত্তরে। যদিও যাওয়াটা ঠিক হবে না।

এক অশ্বরহী তার পথ আটকালো। তারপর আরো তিনটি অশ্বরহী।

আপনাকে আমাদের সাথে যেতে হবে।‘ একজন বলল।

অশ্বরহীর গলার সুর রুক্ষ হলেও চড়া না। তারপর সম্মান দিয়েই কথা বলছে বলেই মনে হল। কিন্তু এদের সাথে যাওয়া কি ঠিক হবে। যদিও সে নিশ্চিত এখানে কেউ তাকে চিনে না।

আমাকে কোথায় যেতে হবে, আমি কি তা জানতে পারি?

না আপনাকে তা বলা যাচ্ছে না।

আমার জানতে ইচ্ছে করছে।

একজন নেমে এলো নীচে। বিষয়টা আমরা নিজেরাও জানি না।

একটা ঘোড়া দেওয়া হল। মানুষটা উঠে বসল তাতে। তিন বার ঘোড়া পরিবর্তন করা হল তিনটা আলাদা আলাদা ফাঁকা জায়গায়। বিষয়টা ভালো লাগছে না।

একটা জঙ্গলের কাছাকাছি আনা হল তাকে। নামতে বলা হল। সে নামল। অন্য তিন অশ্বরহীরাও  নামল। তারপরই আচমকা তার মুখে একটা ঘুষি পড়ল। সে ভেবে পেল না কি ঘটছে।

নিজেকে সামিলে নিতে তার একটু সময় নিল। ততক্ষনে বেশ কিছু কিল ঘুষি খেয়ে নিতে হয়েছে তাকে। যখন সামলে নিল, তখন সে ল্যাঙটা মারল কাছের জনকে। তারপরেই সে উড়ে গেল দ্বিতীয় জনের দিকে। তৃতীয় জনও রক্ষা পেল না তার হাত থেকে। যতটা ঘুষি তাকে হজম করতে হয়েছে তার চেয়ে বহুগুণ ফিরত দিতে পারল ওদের। আর তখনই আরেকটা অশ্বরহী বিশাল এক তরবারি হাতে এগিয়ে এসে থামল। খুব শক্ত গলায় বলল, ‘থাম যুবক।‘

মানুষটা থামল।


April 21, 2022 0 comment
0 FacebookTwitterPinterestEmail
গল্প

না শের শাইরী, না কবিতা

by Admin April 21, 2022
written by Admin

[১]

নোমান প্রেম তোমাকে কোথায় নিয়ে গে্লো! প্রেমই যে আমাকে শিখালো এই জগতে নজরটাই বড়। মনজিলই সে, আমিও সে। এ এমন এক অন্ধকার যেখানে না নিজেকে দেখা যায়, না গোটা দুনিয়া। সারা জাহান যেমন অন্ধকারে ডুবে আছে , প্রেমও তেমন। সর্বত্রই সে আর সে। আমি যেটুকু পেয়েছি সেটুকুর জন্য শুকরিয়া। আর যেটুকু পাইনি সেটুকুর জন্যও।।

[২]

নোমান, পিছনের হিসাব দেখতে চেও না। থাক। থাক না ওসব। যা তুমি পাওনি, তা আল্লাহই তোমাকে দিয়েছেন। আর যা তুমি পেয়েছ, তাও আল্লাহই তোমাকে দিয়েছেন। তাই যা পাওনি তার জন্য আফসোস করো না। আর যা পেয়েছ তার জন্যও না।।

[৩]

দুয়ারে দুয়ারে যে পৌছে যেতে জানে না, তার নিজের যত গল্পই থাক, তা কখনো অন্যদের কাছে প্রকাশ হয় না। আর তুমি তাকে মাতালও বলতে পারো, নোমান। কেননা প্রত্যেক স্বাদ সৃষ্টিই হয় অনেকগুলো মসলা ব্যবহারের পরিমাপের গুনে।।

April 21, 2022 0 comment
0 FacebookTwitterPinterestEmail
গল্প

ব্যাকটেরিয়া

by Admin April 21, 2022
written by Admin

মোঃ নোমান সরকার

বড় মামা বলল, তুমি যদি ওয়াশরুমের কমোডের কভারটা নামিয়ে না রাখো, তাহলে কমোডের ভিতরের সব ব্যাকটেরিয়াগুলো উঠে আসবে। আর সারা ওয়াশরুমে ছোটাছুটি করবে। ওরা তোমার দাঁতের ব্রাশে এসে শুয়ে থাকবে। এয়্যা! কি বিছরি ব্যাপার। আর সেই ব্রাশ দিয়ে তুমি দাঁত মাজলে…..।” বলেই থামল বড় মামা।

এই কথায় ইরার কান্না পেয়ে গেল। সত্যি সত্যিই দুষ্ট ব্যাকটেরিয়াগুলো ওয়াশরুমে বাস করে? সাইন্স টিচার সেরকম কথা বলেছিলেন একদিন। কিন্তু তখন কেন তিনি বলেননি, কমোড ফ্লাস করেই কমোডের ঢাকনা নামিয়ে রাখতেই হবে। ছিঃ ছিঃ ব্যাকটেরিয়াগুলো এতই দুষ্ট…। আর সেই ব্যাকটেরিয়াগুলো ব্রাশে এসে শুয়ে পরবে। আর সেই ব্রাশ দিয়ে দাঁত……। ইরার চোখে পানি এসে গেল।

বড় মামা এসেছেন কানাডা থেকে। ছোট মামার বাসায় আছেন তিনি। সেখান থেকে আজ সকালে ইরাদের বাসায় এসেছেন। সেই নিয়ে গত কয়েকদিন ধরে ইরার মা বাবা ঘরের অনেক কিছু বদলে ফেলার কথা ঠিক করেছিল। যার কিছু কিছু ইরা শুনতে পেয়েছিল। এইসব নিয়ে তার আনন্দের সীমা ছিল না। গত রাতে মা আর বাবা বাসা সাজ্জাচ্ছিল। আর সকাল থেকে মা রান্নার আয়োজন নিয়ে ব্যস্ত। বাবা একটু পর বাইরের থেকে কি যেন আনেন। মামা এসে তো মহা বিরক্ত, দুইজনের একজনকেও পাচ্ছেন না। ইরা ছোট মানুষ। তার সাথে মামা কি আর কথা বলবে। আর সে কেন যেন বড় মামাকে দেখে ভয়ে সিটকে আছে। ইরা নিজেকেই বুঝতে পারছে না। বড় মামার গল্প এত শুনছে, ছবি দেখেছে, ভিডিওতে দেখেছে। তবুও ইরা মামার সাথে সহজ হতেই পারছে না। মামা পুতুল, খেলনা, চকলেট সহ কত কি দিয়ে ভাব জমানোর চেষ্টা করছে কিন্তু তার ভয়ই কাটছে না।

বড় মামা বলল, ইরা তুমি কি তোমার ওয়াশরুমের কমোডের কভারটা নামিয়ে রেখে আসবে? আমি দেখেছি, সেটা খোলা আছে। নাকি আমি এই কাজে তোমাকে সাহায্য করব। বলেই বড় মামা উঠে দাঁড়াল। দাঁড়ালে মামাকে অদ্ভূত সুন্দর দেখায়। ছোট মামার ইয়া বড় ভুঁড়ি। আর বাবাও। কিন্তু বড় মামা এত বড়, অথচ উনার কোন ভূড়ি নেই। সিনেমার নায়কদের মতন। ইরার খুব ভাল লাগল।

বড় মামা হাত বাড়িয়ে বলল, এই যে পিন্স তুমি কি তোমার হাতটা দিবে?

ইরা বিস্মিত হল ঠিকই তবুও হাত এগিয়ে দিল। বড় মামা ইরার ছোট্ট হাত হাতে নিয়ে এগিয়ে গেলো।

ওয়াশরুমের কমোডের ঢাকনা খোলা। বড় মামা বলল, “ইরা কমোডের ঢাকনাটা বন্ধ করে এসো। প্রয়োজন ছাড়া এটা খুলবে না, ঠিক আছ? কমোডের ভিতরে অগনিত ব্যাকটেরিয়া বসবাস। খোলা পেলেই ওরা  খেলতে নামবে। আর ওরা তোমার ব্রাশও দখলে নিবে।”

”হ্যা, মামা আমার মনে থাকবে। ঐ দুষ্টদের আমি কখনো সুযোগ দিব না।” বলতে বলতে ইরা নিজেই অবাক হল, বড় মামার সাথে সে সুন্দর করে কথা বলতে পারছে বলে।

বড় মামার হাত ধরে ইরা ফিরে এলো ড্রইং রুমে। তার এমন হল যে মনে হচ্ছে বড় মামা এ বাড়িতে থাকে। আর সে সব সময় গল্প করে, খুবই ভাব।

“বড় মামা আমি একটা প্রশ্ন করতে পারি?”

বড় মামা আনন্দিত গলায় বলল, “হাজার বার প্রশ্ন করতে পারো।”

ইরা বলল, “আমার আরবী টিচার যে আমাদের ওয়াশরুমে প্রবেশের আগে একটা দোয়া পড়া শিখিয়েছেন, সেটা কি এই ব্যাকটেরিয়াদের জন্য। এরা কি জিন?”

বড় মামা বলল, “না বাবা, এরা জিন না। এরা অতি ক্ষদ্র এক প্রানী। এ নিয়ে আমি তোমাকে অনেক অনেক গল্প বলব। এদের সমন্ধ আমাদের অনেক বেশী জানার আছে।”

ইর বলল,”টিচার বলেছেন, “ওয়াশরুমে কিছু দুষ্ট জিন থাকে, ওদের জন্য এ দোয়া পড়তে হয়।”

বড় মামা বলল, “ব্যাকটেরিয়াদের যেমন আমরা দেখতে পাই না, তেমনি ওয়াস রুমের দুষ্ট জিনদেরকে আমরা দেখতে পাই না। কিন্তু ওরা ঠিকই আমাদের দেখতে পায়, যেমন ব্যাকটেরিয়াগুলো আমাদের দেখতে পায়। আমরা কমোডের ঢাকনা বন্ধ করে দিলে ওদের আর কিছুই করার থাকে না, আটকে ফেলি ওদের। তাই না? তেমনি দোয়াটা পরলেই আমরাও জিনদের কাছে অদৃশ্য হয়ে যাই। দোয়া পড়লে দুষ্ট জিনরাও আমাদের খুঁজে পায় না। আর তুমি বৃষ্টির দিনের কথা ভাবো তো। একটা ছাতা আমাদের কত বড় বন্ধু। তাই না? বৃষ্টির দিনে ছোট্ট একটা ছাতা যেমন করে আমাদের বৃষ্টির পানি থেকে বাঁচায় ঠিক তেমনি এই দোয়াটা দুষ্ট জিন থেকে আমাদের বাঁচায়। এই দোয়াটাও আমাদের বন্ধুর মতন। এসো আমরা ওয়াস রুমের ব্যাকটেরিয়ারদের বিষয় ভালো করে জানি। জীবনের প্রয়োজনেই এই বিষয়গুলো জেনে রাখতে হবে।”

ইরা মাথা ঝুকালো। যেন সে কথা খুব বুঝেছে।

বড় মামা ঘরের ছাদের দিকে তাকালো। ইরা ও।

এবার বড় মামা ইরার দিকে তাকিয়ে বলল, “ফ্লাস করার সময় ব্যাকটেরিয়া কমোড থেকে বেশ উপরে উঠে আসে। উঠে আসতে পারলেই ওরা ছরিয়ে পরে ওয়াস রুমে। তাই ফ্লাস করার সময় কভার বন্ধ করে নিতেই হবে। বলে বড় মামা থামাল। থেমে জোর গলায় বলল, যেন ইরা শুনতেই পায়নি। “কভার ফেলেই ফ্লাস করতেই হবে, মনে থাকবে ইরা।”

ইরা লাফিয়ে উঠে বলল, “হ্যা মামা মনে থাকবে। ওদের দুষ্টুমি করতে দেওয়া যাবেই না।”

তখনই পিছন থেকে বাবা এসে বলল, “কিরে ইরা, মামার সাথে অনেক গল্প হচ্ছে। আয়, আমরা বারেন্দায় গিয়ে বসি। মিষ্টি রোদ আছে সেখানে।”

April 21, 2022 0 comment
0 FacebookTwitterPinterestEmail
আমার ভাবনা

নিজ পরিবারের কতটা ঝুঁকিতে আছে?

by Admin March 27, 2020
written by Admin
মোঃ নোমান সরকার
তারা আপনাকে রূহ সম্পর্কে জিজ্ঞেস করে। বলে দিনঃ রূহ হল আমার পালনকর্তার আদেশ । এ বিষয়ে তোমাদেরকে সামান্য জ্ঞানই দান করা হয়েছে। (১৭: ৮৫)
 
মৃত্যু হবেই। এটা আল্লাহর ইচ্ছাধীন। তাই আমরা কেউ জানি না কোথায়, কখন কবে আমার মৃত্যু হবে। তবে আমরা জানি আগুনে হাত দিলে আমার হাত বা দেহ পুড়ে যেতে পারে। খুব উঁচু থেকে লাফিয়ে নীচে নামতে চাইলে হাত পা ভেঙ্গে যাবে। এটাই বাস্তবতা। তেমনি যেখানে সরকার সহ সাড়া দুনিয়া সবাই বলে যাচ্ছে খুব সাবধানে থাকতে, ঘরে থেকে বের না হতে, সেখানে বের হওয়া আর আগুনে হাত দেওয়া একই বিষয়। তাই প্রত্যেককে এই বিষয়টি নিয়ে আরো ভাবতে হবে।
 
করোনা ভাইরাসের বিপদটা ঘরে বাইরে। তাই ঘরের ভিতর থাকাটাই এখন নিরাপদ।  তবে কিছু মানুষকে দায়িত্বের কারনে বা বিশেষ প্রয়োজনে বাইরে যেতে হচ্ছে। যেমন ডাক্তার থেকে শুরু করে অনেক পেশাজীবী মানুষকে বা পরিবারের প্রধানকে পরিবারের খুব বেশি প্রয়োজনে বের হতেই হচ্ছে। তাদের অনেক অনেক অনেক বেশি সচেতন হয়ে বের হতে হবে। আর পরিবারের সবাইকে সচেতন থাকতে হবে তিনি গ্লাবস, মাক্সটা নিয়েছেন কিনা। সবার প্রতি সবার মায়া বাড়াতে হবে, আদর বাড়াতে হবে। আমরা কেউ কাউকে হারাতে চাই না। তাই আরো সাবধানী হতে হবে এবং সবাস্থ বিধি মেনে চলতে হবে। মনে রাখতে হবে, বের হওয়া মানে নিজের জীবনের ঝুঁকি কেবল না, ঘরে ফির আসা মানে পরিবারের অন্যদের জীবনের ঝুঁকি নেওয়া। তাই খুবই সাবধান।. আমরা দেখতে পাচ্ছি রমনা পার্ক থেকে শুরু করে নানান জায়গায় মানুষ বের হচ্ছে। কিন্তু এভাবে এতদিন ঘরে থাকাটা মানে ক্লান্ত লাগা বা বিরক্ত লাগা থেকে শুরু হতে পারে ভয়বাহ বিপদ বা আপনার দ্বারাই পরিবার লাশের পর লাশ হয়ে যেতে বাধ্য করতেই পারে। সাবধানের বিকল্প নেই। চলুন,  নিজেকে নিয়মের ভিতর বেঁধে ফেলি। যেহেতু আমরা জানি না, কোথায়, কখন কবে আমার মৃত্যু হবে। তাই যেদিকে মৃত্যু ভয় আছে বা পরিবারের মৃত্যু ঝুঁকি আছে , সেই সব কাজ বা বিষয় থেকে যতটা সম্ভব দূরে থাকি।
 
দয়া করে, নিজেকে নিজেই জেলে রাখুন বা ঘর বন্দী করে রাখুন। এই সময় শিশু ,কিশোরদের সাথে সম্পর্ক ঝালিয়ে নিন। তাদের কোরআন হাদিস, ইতিহাস থেকে শুরু করে নানান বিষয় নিয়ে গল্প করুন। এতে তাদের নৈতিকতার বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনায় তাদের সমৃদ্ধ করবে। ঘরের ভিতর ব্যায়ম করতে পারি। আর শিশু কিশোরদের ব্যায়ামের শিক্ষা দিতে পারি। খুব খেয়াল করে দেখবেন, শিশুরা ঘরের ভিতর ব্যায়াম করা তো দূরে থাক তারা ঘরের ভিতর নানান খেলাও খেলে না। আজকের দুনিয়ায় যেখানে খেলাত মাঠ নেই সেখানে ঘরের ভিতর ব্যায়মের অভ্যাস খুবই জরুরী তাদের জন্য। আমরা রাদের এই বিষয়গুলো শিখাতে পারি।
 
আর বাসায় আছি তাই বিদ্যুৎ খরচে আমাদের সাবধানী হতে হবে সেই শিক্ষা শিশু, কিশোরদের বুঝাতে হবে। পানি খরচেও সাবধানী হতে হবে। বলা যায় না, সামনে কি দিন আসতে পারে। আর অযথা লাইট, ফ্যান অন রেখে বিদ্যুৎ আর পানি খরচ করলে এতে পরিবারের আর দেশের আর্থিক ক্ষতির বিষয়টা শিশু কিশোরদের সাথে আলোচনা করতে হবে। ঢাকনা আছে এমন বালতিতে এক বালতি পানি জমিয়ে রাখার বিষয়টি শিখাতে হবে। কেউ জানে না কাল কি হবে। কিন্তু আমাদের শিখতে হবে কিভাবে কম খরচে টিকে থাকতে হয়। এটা এখন একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। অযথা ভয় পাওয়া থেকে দূরে থেকে বুদ্ধির সাথে পরিস্থিতি মোকাবিলার কৌশলটাই আমাদের শিশু, কিশোরদের শিখাতে হবে।তাদের সাহস দিতে হবে। প্রবল ঝড় বৃষ্টির দিনে যেমন আমরা ঘর ছেড়ে বের হতে পারি না, এই দিনগুলো তেমনি। এভাবে তাদের বুঝাতে হবে এবং নিজেকে বুঝাতে হবে।
March 27, 2020 0 comment
0 FacebookTwitterPinterestEmail
শিশুতোষ গল্প

দুষ্ট শিয়াল

by Admin December 18, 2019
written by Admin

এক বনে বাস করত এক শিয়াল। সে সবাইকে নানান ভাবে কষ্ট দিত। আর সারাক্ষণ ভাবত কাকে কিভাবে ছোট করবে বা বিপদে ফেলবে। একদিন দুপুরে সে এসে পড়ল সিংহ রাজার বাড়ির কাছে। তার ইচ্ছে করল এবার বনের রাজাকে একটু ঝামেলায় ফেলার। এর আগে এমন সাহস করেনি। কিন্তু আজ হলো।

সে সিংহ রাজার বাড়ির কাছে এসে ডাকল। ‘রাজা মশাই বাড়িতে আছেন?’

সিংহ বের হতে হতে হুংকার দিয়ে উঠে বলল, ‘বিশ্রামের সময় কে ডাকে? এই অসময়ে কে ডাকে?’

শিয়াল খুবই বিনীত ভাবে বলল, ‘আমি শিয়াল। খুবই জরুরী বলে এই অসময়ে ডেকেছি।’

সিংহ শিয়ালকে দেখে খুবই বিরক্ত হল। শিয়ালের ব্যাপারে অনেক অভিযোগ শুনেছে।

শিয়াল বলল, ‘বনের উত্তর দিকটা একটা ঘোড়ার বাবু হয়েছে।’

সিংহ গর্জে উঠে বলল, ‘সে কথা আমাকে জানাতে এই বিশ্রামের সময় কি তুমি ইচ্ছে করে বেছে নিয়েছ?’

শিয়াল বলল, ‘না রাজা। আমি জানাতে এসেছি সেই ঘোড়ার বাবুর পাঁচটি পা হয়েছে।’

সিংহ কঠিন দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে।

শিয়াল বলল, ‘বাবুটা জন্ম হবার পর থেকেই অসুস্থ হয়ে পরেছে। সম্ভবত বাঁচবে না। তাই ঘোড়া বলছিল, তার বাবুটাকে বনের রাজা সিংহকে দেখতে চায়। বাচ্চাটা মারা গেলে তার মাও আসলে বাঁচবে না। তার কথা শুনে এত খারাপ লাগল যে আপনার কাছে এসেছি এই অবেলায়।’

সিংহের মনে দয়া হল। সে বনের রাজা। তাকে দেখতে চেয়েছে। আর বাবুটা মরে যাচ্ছে। সে রাগি গলায় বলল, ‘আচ্ছা চল তবে।’

শিয়াল আর সিংহ রওনা হল। যেতে যেতে সিংহ্ ভাবছে অনেক কিছু। শিয়ালে বিরুদ্ধে অনেক অনেক অভিযোগ। শিয়াল একটা মিথ্যাবাদী। সে কারনে অকারনে মিথ্যা বলে আর সবার মধ্যে ঝগড়া লাগিয়ে দেয়। এই দুষ্ট শিয়ালের কথা সে বের হয়ে আসল! খবরটা সত্য নাকি মিথ্যা যাচাই দরকার ছিল।

শিয়াল সিংহ নিয়ে ছুটছে তো ছুটছে। পথ আর শেষ হয় না। বিকাল ফুরিয়ে যাচ্ছে। এক সময় শিয়াল থামল এমন একটা জায়গায় যেখানে দুইটি  পথের সূচনা। শিয়াল থামতেই সিংহও থামল। শিয়াল সামনের দুটি পথের একটি পথ দেখিয়ে বলল,’রাজা এই পথ দিয়ে গেলে সময় অনেক কম লাগবে। কিন্তু এই পথ দিয়ে যাওয়া হবে না। সমস্যা আছে। আমরা বরং আমরা ঐপথে ঘুরে যাই।’

সিংহ বলল,’ কেন এই পথে গেলে সমস্যা কি?’

শিয়াল বলল, ‘আপনি বনের রাজা সব কথা যেমন আপনার জানা উচিত ,তেমনি কিছু কথা না জানাও ভালো। চলুন আমরা ঐ পথে যাই।’

সিংহ রাগী গলায় বলল,’ ‘আগে আমাকে জানাও কেন যাব না। সেটি আগে বল।’

‘রাজা সব শুনতে না চাওয়াটা ভালো।’

সিংহ হুংকার দিল।

শিয়াল ভয় পাওয়া গলায় বলল, ‘এই পথে এক বিশাল হাতি এসেছে পাশের বন থেকে। সে বলে কিনা, আমি হব এই বনের রাজা। সিংহকে পেলে ওকে এমন আছার দিব। সে মরেই যাবে। তখন আমি হব এই বনের রাজা। পাগলের মতন যাকে পাচ্ছে, তাকেই সে এমন কথাগুলো শুনাচ্ছে।’

সিংহ আরেকটা হুংকার দিল,’ কি এই কথা বলেছে!’

শিয়াল বলল,’রাজা মশাই,আমি এই জন্যই এই কথা বলতেই চাইনি, আরে পাগলে এমন অনেক কথাই বলে বেড়ায়। থাক রাজা, আমরা এই পথ বাদ দেই। চলুন ঘোড়ার বাবুকে আগে দেখে আসি।’

সিংহ বলল, ‘না চল আমার সাথে। আমি তোমার সেই বিশাল হাতি আর তার ক্ষমতা দেখব। এত বড় সাহস আমার বনে এসে বনের রাজা হতে চায়।’

দুইজনই ছুটল। তারপর শিয়াল একটা সরু খাল পাড়ের কাছাকাছি এসে থামল। থেমেই শিয়াল সিংহকে দূরে বিশাল হাতিটাকে দেখিয়ে বলল, রাজা মশাই ঐ যে দূরে বিশাল হাতিটা ঘাস খাচ্ছে, সে আজ সকালে এখানে যাকে পেয়েছে বলেছে ,তাকে যেন সবাই রাজা মানে। এখন থেকে সেই বনের রাজা।’

সিংহ একটা হুংকার দিয়ে প্রচন্ড বেগে ছুটে গেল বিশাল হাতিটার দিকে। গিয়ে হাতির পিঠে উঠল এক লাফে। তারপর বড় একটা কামড় বসিয়ে দিল।

হাতিটা মনেরা আনন্দে ঘাস খাচ্ছিল। হঠাত এমন ঘটনায় চমকে উঠেছে। সিংহ যখন পিছন থেকে পিঠে উঠে কামড় বসাল। তখন প্রচন্ড ব্যাথায় সে কাকিয়ে উঠে শুর দিয়ে সিংহকে ধরার চেষ্টা করতেই পেয়েও গেল। আর পেছিয়েই ছুড়ে ফেলে দিল সিংহটাকে। সিংহ উড়ে গিয়ে অনেক দূরে একটা গাছের সাথে ধাক্কা খেয়ে ধপাস করে পড়ল।

সিংহ গাছের সাথে ধাক্কা খেয়ে ধপাস করে পড়তেই হাতি দৌড়ে তার কাছে গিয়ে আবাক বিস্ময়ে বলল, আমি লজ্জিত রাজা, আমি বুঝতে পারিনি, আমার পিছনে আপনি! আমি খুবই দুঃখিত আমার আচরণের জন্য।’

সিংহ হাতির ব্যবহারে বুঝতে পারল শিয়াল তাকে বোকা বানিয়েছে।

সিংহ তবুও জানতে চাইল, তুমি নাকি নিজেকে রাজা বলে দাবি করেছ?’

হাতি বলল, আমি? আমি কেন এই কাজ করতে যাব? আমার বনে আগুন লাগায় খাবার কমে গেছে বলে এই বনে খাবারের খোঁজে এসেছিলাম। সকালে শিয়ালের সাথে দেখা। সে বলল, বনের রাজার অনুমতি না নিয়ে যারা এই বনের বাইরে থেকে এসে খাবার খাবে তাদেরকে মেরে ফেলতে বলেছে রাজা। কিন্তু আমি এতই ক্ষুধার্ত রাজা যে আপনার অনুমতি নিতে যেতে পারিনি। এখন আমি  এই বনের অনেক খাবার খেয়েছি, তাজা ঘাস খেয়ে ফেলেছি ক্ষুধায়। আমি অপরাধ করেছি, এখন আপনি যে শাস্তি দিবেন, তাই মেনে নিব।’

সিংহ বলল, আমি বনের রাজা, আমি তোমাকে বলছি, এমন কোন আইন নেই আমার। এমন মিথ্যা আইনের কথা শিয়াল তোমাকে বলেছে? হুম ,আর আমাকে তোমার কথা কি বলেছে জানো? বলেছে, তুমি বনের রাজা হতে চাও। ওকে বড় একটা শাস্তি দেওয়া উচিত।’

হাতি বলল, ‘আপনি অনুমতি দেন, ওকে আমি ভর্তা বানিয়ে দেই।’

সিংহ বলল, এসো, আমি তোমাকে এই বিষয়ে কিছু সাহায্য করি। বলে দুইজনই ছুটল শিয়ালের দিকে।

এদিকে শিয়াল দূর থেকে ওদের কথা বলা থেকেই নিজের বিপদের কথা বুঝতে পেরেছিল। সে দৌড়াতে শুরু করল। কাছেই একটা খাল থাকায় সে সিংহ আর হাতি থেকে নিজেকে বাঁচাতে পারল। বিপদের কথা আগে থেকে মাথায় রেখেই সে খাল পাড়ে দাঁড়িয়ে ছিল।

আর সেই থেকে শিয়াল সিংহ আর হাতিদের এড়িয়ে চলে।

December 18, 2019 0 comment
0 FacebookTwitterPinterestEmail
শিশুতোষ গল্প

তাজমহল থেকে সিংহীমহল

by Admin December 6, 2019
written by Admin

মোঃ নোমান সরকার

সিংহের বাড়ির কাছে এসে শিয়াল কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে চারদিক ভালো করে দেখল। তারপর আরো সামনে এগিয়ে গিয়ে সিংহকে ডাকল। ‘রাজা মশাই, রাজা মশাই বাড়িতে আছেন?’

সিংহ বের হয়ে এসে খুব মন খারাপ করে বলল, ‘সিংহী মারা গেল। বনের সবাই আসেছিল। একমাত্র তুমি আসনি। একমাত্র তোমাকে দেখতে পাইনি।                                                                                                                                                                                                                                      শিয়াল  কাঁদো কাঁদো গলায় বলল,’ঐ পাহাড়ের পিছনের বনে গিয়েছিলাম। আজ বনে এসে জানতে পেয়েই দৌড়ে এসেছি। বনের রাণী নেই। বনের রাজাকে কিছু বলার ভাষা নেই। তবুও একটা কথা বলতে চাই। সাহস পাচ্ছি না। যদি সাহস দেন তবে বলি।’

সিংহ খুব শান্ত গলায় বলল, ‘তুমি বলো।’

শিয়াল ধীর গলায় বলল, ‘আপনি কি সম্রাট শাজাহানের নাম শুনেছেন?’

সিংহ বলল, ‘না। আমি সারাদিন আমার প্রজাদের নিয়ে ব্যস্ত থাকি। তুমি পন্ডিত, বই পড়া নিয়েই থাক। তুমি আমার চেয়ে ভাল জানো।’                                                                                                                                                                                                                        শিয়াল মৃদু হাসল। তারপর হাসিটা গোপন করে বলল, ‘সম্রাট শাজাহান হলেন মানুষের মধ্যে এমন একজন রাজা  যিনি নিজের স্ত্রীর মৃত্যুর পর তাজমহল বানিয়েছেন। শিয়াল তাজমহলের একটা ছবি বের করে দেখাল। সম্রাট শাজাহান, মমতাজ বেগম আর তাজমহল নিয়ে অনেক অনেক কথা হল।

সিংহ সব শুনে মুদ্ধ হল। সম্রাট শাজাহানের প্রতি তার শ্রদ্ধা প্রতি মুহূর্তেই বাড়তে লাগল। তা বুঝতে পেরে শিয়াল গম্ভীর গলায় তাজমহলের আরো গল্প বলতে লাগল,বলতেই লাগল। সিংহের মনে হতে লাগল সে তাজমহলের সামনে দাঁড়িয়ে আছে। সঙ্গে শিয়াল।

এক সময় সিংহ বলল, ‘তুমি বলছ, আমিও একটা তাজমহল বানাই?’

শিয়াল বলল, ‘মমতাজ থেকে তাজমহল। আর আমরা চাই, সিংহীমহল।’

পরের দিন সাড়া বনে জানিয়ে দেওয়া হল, সিংহীমহল হবে। তাই যার যা আছে তা রাজকোষে জমা দিতে। বনের সব প্রানী অবাক হয়ে সব শুনল সিংহীমহলের কথা। তারা কিছুই বুঝল না, প্রশ্নও করল না, মুখে কিছু বলল না। রাজার আদেশ বলে কথা। বনের যার কাছে যা ছিল, সব দিল। আর সব জমা হতে লাগল রাজকোষে।                                                                                                                                                      শিয়াল বনের রাজাকে বোঝাল দিনে সে ব্যস্ত থাকবে সিংহীমহল বানাতে। আর রাতেই হিসাব নিকাশ করবে। তাই রাজকোষের সাথেই শিয়াল তার অর্থভাণ্ডার গড়ে তুলল। রাতের আঁধারে রাজকোষ থেকে তা চলে যায় শিয়ালের ভান্ডারে।

সপ্তাহ যেতে না যেতে আবার হুকুম আসল বনের রাজা থেকে যে, প্রতি মাসেই কর দিতে হবে, যার কাছে যা আছে সব দিতে হবে।  বনের প্রাণীরা ভয়ে ভয়ে তাই করতে লাগল।

এভাবেই দিন যায়,মাস যায়, বছর যায়। প্রতি মাসে প্রজাদের সঞ্চয়ে যা আসে তা রাজকোষে জমা দিতে হয়। তারপরেই তা চলে যায় শিয়ালের ভান্ডারে। কেউ টু শব্দ করার সাহস পায় না।

এদিকে সিংহীমহলের কাজ আর শেষ হয় না। শিয়াল বলেছিল তাজমহল বানাতে লেগেছে ২০ বছর। আধুনিক টেকনোলজির কারনে আমাদের লাগবে এক বছর বা তার চেয়েও কম সময় লাগতে পারে। অথচ বছর পেরিয়ে যাচ্ছে।

সিংহ অস্থির হল। শিয়াল শুরুতে তাকে বলেছিল, এক বছর সময় লাগবে। এখন বলছে দুই বছর! সিংহ প্রচন্ড বিরক্ত হলো, রেগে গেল। প্রজাদের কষ্ট আর সহ্য হচ্ছে না। প্রজারা কেবল দিয়েই যাচ্ছে। আর সব জমা হচ্ছে শিয়ালের ভান্ডারে। এ নিয়ে সিংহ কাউকে কিছু বলতেও পারছে না।                                                                                                                                                                                                           একদিন সিংহং গেল সিংহীমহল দেখতে। শিয়াল সিংহকে নিয়ে গেল বিশাল এক পুকুরের কাছে।

সিংহ বনের সব প্রাণীরা সাথে নিয়ে গিয়েছিল। বনের সব প্রাণীরাদের ডাকতেই তারা চলে এলো পুকুরের কাছে। তারপর তারা পুকুর ঘিরে দাঁড়াল।

শিয়াল বলল, ‘পুকুরের নীচ থেকে উঠানো হচ্ছে সিংহীমহল। আর পুকুরের নীচ থেকে উঠে আসতে লাগবে আরো এক বছর।’

সিংহ বলল, ‘তুমি বলেছিলে এক বছর বা তার চেয়ে কম সময়ে হয়ে যাবে।’

শিয়াল বলল, ‘বলা আর করার মধ্যে অনেক পার্থক্য, রাজা হিসাবে সেটা আপনি আমার চেয়েও ভাল বুঝেন।’

সিংহের মন খারাপ হল। প্রজাদের কথা ভাবল। প্রজাদের সন্তানরা আর কতদিন ঠিক মত খাবার পাবে না, সে কথা ভাবতেই সিংহ বলল,’আপাতত কাজ বন্ধ রাখো। কয়েক বছর যাক, তারপর আবার শুরু করা যাবে।’

শিয়াল হেসে বলল, ‘রাজার যা ইচ্ছা তাই হবে। তবে কাজ কতটুকু হয়েছে তা দেখবেন নিজ চোখে।’

সিংহ গম্ভীর গলায় বলল, তুমি জানো যে আমি সাঁতার জানি না।’

শিয়াল বলল, ‘আমিও তো যাচ্ছি আপনার সাথে। আমাকে বিশ্বাস করুন, আমার সাথে আসুন। যে পুকুরটা দেখছেন এর মধ্যখানে কোন পানি নেই। দেখবার মতন একটা জায়গা বটে। সেই জায়গাটায় তৈরি হচ্ছে সিংহীমহল। সব শ্রমিক পানির নীচে কাজ করছে। অথচ ওদের শরীরে পানি স্পর্শ করছে না। টেকনল্যাজি আমাদের কোথায় নিয়ে গেছে! আপনি বিস্ময়ে হতবাক হয়ে যাবেন।’

শিয়াল বিশাল একটা গাছ পানিতে আগেই ফেলে রেখেছিল। হাতিগুলো দিয়ে বড় একটা গাছ পানিতে ফেলে রেখেছিল।

শিয়াল বলল,’ চলুন আমরা এগিয়ে যাই।’

সিংহ অবিশ্বাস নিয়ে শিয়ালের দিকে তাকাতেই শিয়াল বলল, ‘এই পড়ে থাকা গাছের শেষ পান্তে গেলেই  দেখবেন তাজমহলের চেয়েও আরো বেশি সুন্দর হচ্ছে সিংহমহল। দূর থেকে দেখে মনে হবে, পানির নীচে থেকে এই সুন্দর একটা ভবন উঠছে। আর আমি তো আপনাকে বলেছি পুকুরের মধ্য অংশে ওখানে কোন পানি নেই।’                                                                                                                    এই কথা বলে শিয়াল আবার তাজমহলের ছবিটা দেখিয়ে বলল, এর চেয়েও অনেক অনেক সুন্দর হবে আমাদের সিংহীমহল।’

সিংহ মুগ্ধ চোখে তাজমহলের ছবিটার দিকে তাকাল। প্রচন্ড আনন্দ তাকে অস্থির করে তুলেছে। মনের আনন্দে পানিতে শুয়ে থাকা গাছটার উপর হেঁটে এগিয়ে গেল। পিছনে শিয়াল। সিংহের মনে হল না, সে সাঁতার জানে না।

শিয়াল সিংহের কাছে এসে বলল, ‘আমরা এমন একটা বিল্ডিং বানাতে যাচ্ছি যা দেখতে মানুষও আসবে। আপনি ভয় পাবেন না। আমার প্রতি বিশ্বাস রাখুন।’

সিংহ আর শিয়াল আরো এগিয়ে যেতেই শিয়াল বলল, আমরা প্রায় চলে এসেছি। আর একটু এগিয়ে গেলেই গাছটা দুলতে থাকবে। আর আস্তে আস্তে নীচে নামতে থাকবে। তখন আপনার মনে হবে আপনি পড়ে যাচ্ছেন। টেকনল্যাজির কি চমক। প্রজারা দেখছে আমাদের, তাই সাহসী রাজা আপনি ভয় পাবেন না। চিৎকার করে লজ্জায় পড়বেন না। ‘

আরো কিছুটা এগিয়ে গিয়ে শিয়াল বলল,’এই সিংহীমহলের নীচের অংশের অপূর্ব কারুকাজ আপনি একা একা দেখবেন? আমার মনে হয় সেই ভাল হবে। দেখবেন আর আর মুদ্ধ হতে থাকবেন। সেটাই ভাল হবে।’ বলেই তাজমহলের ছবিটা আবার দেখাল সিংহকে।

সিংহ মুদ্ধ চোখে তাজমহল দেখল আবার। সে যে পানির উপরে একটা ভাসমান গাছের উপর দাঁড়িয়ে সেটা ভুলে যাচ্ছে বারবার।

শিয়াল মহা আনন্দের সাথে বলল,’ আপনার দেখা শেষ হতেই আমাকে ডাকবেন। আমি আপনাকে আবার নিয়ে ফিরে আসব। ‘ এই কথা বলে ধীর পায়ে শিয়াল গাছের ডাল থেকে সরে এলো। ফিরে এল পুকুরের পাড়ে।

কি ঘটছে জানতে প্রাণীরা শিয়ালকে ঘিরে ধরল। শিয়াল ঘাড় ঘুরিয়ে সিংহকে দেখল। সিংহ এখন অনেক দূরে তাকে শুনতে পারবে না। শিয়াল উঁচু গলায় বলল সব প্রাণীদের উদ্দেশে, সিংহীমহল তৈরি হয়ে গেছে পানির নীচে। আমাদের রাজা যাচ্ছে সিংহীমহলে। সেখানেই রাজা থাকবেন। রাজা ফিরবেন এক যুগ পরে। এই এক যুগে তোমাদের আর কর দিতে হবে না। তিনি ফিরে এলে আবার কর নিতে শুরু করবেন। সেই কথা তিনি আমাকে বলে গেছেন।’                                                                                                                                                   শিয়াল দেখল এই কথা শুনতে পেয়ে সব প্রাণী আনন্দে আত্মহারা হয়ে গেছে। সে বুঝতে পারল, করের বোঝা থেকে মুক্তি পেয়ে তারা যেন নিজেদের মুক্ত মনে করছে।

শিয়াল বলল, এই পুকুরের মধ্যখানেই সিংহী মহল আর ওখানে পানি নেই। তোমরা এখন গাছটাকে ঝাঁকাতে শুরু করতেই সিংহ লাফিয়ে নামতে পারবে ওখানে।’

শিয়ালের এই কথা শেষ হতেই সব প্রাণীরা এক যোগে ঝাঁকাতে লাগল পানিতে পড়ে থাকা গাছটা। আর এতেই সিংহ পানিতে পরে গেল।

সিংহীমহল দেখবার নেশায় ডুবে ছিল সিংহ। তাই সে প্রথমে গাছের ঢালের ঝাঁকুনিতে ভয় পায়নি। কিন্তু  যখন ঝাঁকি প্রবল হয়ে পানিতে পরে যেতে যেতে সে বিস্মিত হল। টেকনোলজি কিছু নয়, সে তাকিয়ে দেখল তার প্রজারাই গাছের ডাল ধরে ঝাঁকি দিচ্ছে। যেন বিশ্বাসই হচ্ছে না বিষয়টি! সে পানিতে পরতেই সবকিছু পরিস্কার বুঝে গেল।

শিয়ালের প্রলোভন দেখানো প্রতিটি কথা তার মনে হল। মনে হল, শিয়ালের কথা শুনে সে সরল ভাবে বিশ্বাস করেছিল। আজ তার পরিনতি ভোগ করতে হচ্ছে। কাউকে অন্ধ ভাবে বিশ্বাস করতে নেই। শিয়াল যেভাবে তাকে বোকা বানিয়েছে তেমনি প্রজাদের বোকা বানিয়েছে বলে তারা সবাই মিলে গাছের ঢাল ঝাঁকাচ্ছে। নিজের ভাগ্যের পরিনতি দেখে তার নিজের জন্য দুঃখ হল। দুঃখ হল তার উচ্চাকংখার জন্য প্রজাদের প্রচন্ড কষ্টের কথা ভেবে। চট করে কারো কথায় বিশ্বাসের পরিনতি আর যথেষ্ট অনুসন্ধান না করে সরল ভাবে বিশ্বাস করাটা যে অনেক ভুল আর এত নির্মমই হয়, আজ এই বাস্তবতা বুঝতে পারল। কিন্তু কোন বড় ভুলের দ্বিতীয় সুযোগ হয় না। ইয়া কঠিন পরিনতিই হয়। তাই ভেবে যারা কাজ করে তাদের চট করে কেউ ঠকাতে পারে না।

সিংহ ডুবে যেতে যেতে প্রজাদের প্রতি করের জুলুমের কথা ভেবে চুপ করে রইল। যে বুঝে গেল শিয়াল তাকে হত্যা করতেই এখানে নিয়ে এসেছে। এখন যতই চেঁচাক, কাজ হবে না। এত দূর থেকে কেউ তাকে শুনতে পারবে না। তাই সে চারদিকে তাকিয়ে চিৎকার করল না। সে তাকিয়ে কেবল দেখে নিল তার দুখী প্রজাদের। সাঁতার না জানায় একটু পরেই পানিতেই ডুবে মরে গেল সিংহ।

সিংহ ডুবে যেতেই শিয়াল সবাইকে ডেকে বলল, ‘সিংহ সিংহীমহলের ভিতরে চলে গেছে। এই পুকুরের মধ্যখানে কোন পানি নেই, সেখানেই সিংহীমহলটা।’

পুকুরের চারদিকে গোল হয়ে দাঁড়িয়ে থাকা বনের কেউ বিশ্বাস করল , আবার কেউ করল না। কিন্তু প্রতি মাসে করের বোঝা থেকে এক যুগের জন্য মুক্তি পেয়েছে বলে সবাই খুশিতে নাচতে লাগল। নাচতেই লাগল।

শিয়াল তখন খুব জোরে বলল, ‘সিংহ যাবার আগে এক যুগের জন্য আমাকে রাজ্য পরিচয়ালনার দায়িত্ব দিয়ে গেছে। তোমাদের কি কোন আপত্তি আছে?’

সিংহের অত্যাচার থেকে এক যুগের জন্য মুক্তি পেয়ে সবাই এক সাথে বলে উঠল’ আমাদের কোন আপত্তি নেই। তুমি যদি এক যুগের বেশিও থাক, তাতেও আমাদের আপত্তি নেই।’

সেই থেকে সেই বনের রাজা শিয়াল।

 

December 6, 2019 0 comment
0 FacebookTwitterPinterestEmail
রান্না ঘর

স্পাইসি চিকেন গোজন্স

by Admin November 16, 2019
written by Admin

[ সায়ীদ আব্দুল্লাহ। আমাদের প্রিয় সায়ীদ ভাই। উনার ভায়ের দুই ছেলে, মাহিন ও রাইয়ান। তিনি শখ করে রান্না করেন। খুব মজার মজার খাবার নিজে বানাতে পছন্দ করেন। তিনি বলতে গেলে শুরু থেকে আমাদের এই সাইটের সাথে আছেন। স্বপরিবারে দীর্ঘদিন ধরে থাকেন গোল্ড কোস্ট, কুইন্সল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়া। এটি তিনি দ্বিতীয় বারের মত  খাবারের রেসেপি শেয়ার করলেন আমাদের সাথে। আশা করি সবাই বানাবেন মজাদার এই স্পাইসি চিকেন গোজন্স।  https://www.facebook.com/saeedmahdi.au]

স্পাইসি চিকেন গোজন্স

ইনগ্রেডিয়েন্টস:

চিকেন ব্রেস্ট ফিলেট                                  ৩ টি

প্লেইন ফ্লাওয়ার                                           ২কাপ

তেল                                                            ডোবা তেলে ফ্রাই করা যায় সে পরিমান

মরিচের গুড়ো                                            ৩ টেবিল চামচ

হলুদ গুড়ো                                                 ১ চা চামচ

দাড়চিনি গুড়ো                                           ১/৪ চা চামচ

গোল মরিচ গুড়ো                                     ১ চা চামচ

লবন                                                           ২ টেবিল চামচ

অয়েস্টার সস                                          ১ চা চামচ

আদা বাটা                                                 ১/৪ চা চামচ

রসুন বাটা                                                 ১/৪ চা চামচ

মিল্ক অথবা ইয়োগার্ট                              ১/২ কাপ

 

 মেরিন্যাশন পদ্ধতি:

চিকেন ব্রেট ফিলেটগুলো পাতলা করে লম্বালম্বি স্লাইস করুন।

একটি বোলোর মধ্যে ১/২ কাপ মিল্ক অথবা ইয়োগার্ট, ১ টেবিল চামচ লবন, ১ টেবিল চামচ মরিচ গুড়ো, ১ চা চামচ অয়েস্টার সস, ১/৪ চা চামচ আদা বাটা, ১/৪ চা চামচ রসুন বাটা নিয়ে ভালোভাবে মিক্স করুন।

চিকেন স্লাইসগুলো বোলে নিয়ে হাত দিয়ে ভালোভাবে লাগিয়ে ঢেকে ঘরের তাপমাত্রায় কমপক্ষে একঘন্টা রেখে দিন।

ফ্লাওয়ার কোটিং মিক্স: ২ কাপ প্লেন ফ্লাওয়ারের মধ্যে ২ টেবিল চামচ মরিচ গুড়ো (ঝাল কম খেতে চাইলে মরিচের গুড়ো নিজের স্বাদ মতো দিন), ১ চা চামচ হলুদ গুড়ো, ১/৪ চা চামচ দাড়চিনি গুড়ো, ১ চা চামচ গোল মরিচ গুড়ো, ১ টেবিল চামচ লবন দিয়ে ভালোভাবে মিক্স করে নিন।

চিকেন কোটিং: মেরিন্যাটেড চিকেনগুলো ফ্লাওয়ার কোটিং মিক্স দিয়ে ভালোভাবে কোটিং করে নিন। কোটিং করার সবচেয়ে সহজ পদ্ধতি হলো চিকেনগুলো হাতে উঠিয়ে কোটিং মিক্সের মধ্যে একবারে ভালোভাবে গড়িয়ে নিন। খেয়াল রাখবেন চিকেনগুলো যেনো ড্রাই কোটিং হয়।

ফ্রাইং পদ্ধতি: একটি ফ্রাইয়ারে অথবা একটি প্যানে পরিমান মতো তেল দিন। এমন পরিমান তেল দিন যাতে চিকেনগুলো লম্বালম্বি ডিপফ্রাই করা যায়। ১৪০ ডিগ্রী সে. তাপমাত্রায় চিকেনগুলো ফ্রাই করুন। বাহিরের কালার যখন গোল্ডেন হয়ে উঠবে তখনই চিকেনগুলো কুক হয়ে যাবে। খেয়াল রাখুন যেনো চিকেন ফ্রাইগুলো কালচে রং ধারন না করে। ১৪০ ডিগ্রী সে. তাপমাত্রায় মেক্সিমাম পাঁচ মিনিটের মধ্যে প্রতি ব্যাচ চিকেন কুক হয়ে যাবে।

কুক হয়ে গেলো স্পাইসি চিকেন গোজন্স। এবার ২-৩ মিনিট রেস্টিং-এর পর পরিবেশন করুন।

November 16, 2019 0 comment
0 FacebookTwitterPinterestEmail
samogro.vutni
ভূতের গল্প

ভূতনি [পর্ব ০১]

by Admin November 12, 2019
written by Admin

মোঃ নোমান সরকার

বিশাল বাড়িতে ফাইজা একা। মা নাস্তা খাইয়ে দিয়ে গেছে। ফ্রিজে রাখা আছে নানান খাবার। মা দেখিয়ে দিয়ে গেছে। যা খেতে চায় বের করে মাইক্রো ওভেনে গরম করে নিতে বলেছে। এ ছাড়াও নানান ধরনের খাবার তো আছেই। মা জানে ফাইজা পারবে। তবুও বারবার বলে গেছে সাবধানে সব করতে। এর আগে ফাইজাকে এভাবে একা রেখে যাওয়া হয়নি বলে মায়ের এত চিন্তা।

মা বাবা বাসার গেট থেকে বের হবার পরেও বারবার একই কথা বলে যায়,’ কোন সমস্যা হলেই যেন ফোন করে।’ যদিও বাবা খুব একটা কথা বলছিল না। ফাইজা তার লম্বা চুলগুলো দুই হাতে সরিয়ে মনে মনে বার বার বলে, আমার মা টা যেন কি! আচ্ছা আমি কি এত ছোট। আমি ক্লাস থ্রিতে পড়ি। এতো ছোট্ট তো না।

বাবা ডাক্তার। আর মাও। সকালে দুইজন ফাইজাকে স্কুলে দিয়ে এক সাথে বের হয়ে যায় প্রতিদিন। আর স্কুলও বাসার একদমই কাছে। মিনির মা স্কুল থেকে নিয়ে আসে দুপুর হবার আগেই। মিনির মা এই বাড়িতে গৃহকর্মী। বয়স্ক আর অনেক পুরানো গৃহকর্মী বলে মিনির মায়ের উপর এই পরিবার ভরসা করে। দুপুরে খাওয়ার সময় মিনির মা বসে থাকে পাশে। ফাইজা বিশাল বাড়িতে মিনির মায়ের কাছে থাকে রাত পর্যন্ত। বাবা মা দুইজন ফিরে এলে সে বাসায় যায়। এই দীর্ঘ সময় ফাইজা না ঘুমালে মিনির মা গল্প করে, খেলে। আর ভিডিও গেইম মিনি মা খুব ভালো বুঝে। কিন্তু গতকাল থেকে মিনির মায়ের অসুখ। বিছানা থেকে উঠতেই পারছে না। যাবার পথে মা তাকে দেখে যাবে বলে গেছেন। এই প্রথম মিনির মা এ বাড়িতে এলো না। আর আজ স্কুলও নেই। মা যাবার আগে অনেকখন হাত ধরে বসে রইল। বাবা মাথায় হাত বুলিয়ে দিল বার কয়েক কিন্তু মুখে কিছুই বলল না।

গাড়িতে সম্ভবত উঠেনি, মা ফোন দিয়েছে। গাড়িতে উঠেও। তারপর আরো চার বার। হাসপাতালে ঢুকার আগেও। প্রতিবারই মা বলে যাচ্ছে সে এখন কোথায়। আর কত সময় পরে আসবে। কোন চিন্তাই যেন না করে। বাবা ফোন দেয়নি একবারও। তবুও পাশে থেকে বাবা এটা ওটা বলতে হবে তা মাকে শিখিয়ে দিচ্ছিল সে কথা শুনেছে প্রতিবারই ফাইজা।

ফাইজা এই ঘর সেই ঘর করছে। এত দিনের চেনা জানা এই বাসাটাকে আজ তার আরো বিশাল বলে মনে হচ্ছে। আগে কখনো এমন মনে হয়নি। তার মানে কি? কাছের মানুষরা থাকলে বাকী দৃশ্যগুলো আমাদের কাছে বড় মনে হয় না? কেউ নেই, আর এতে মনে হচ্ছে বাসাটা যেন একটা বড় মাঠ।

আর সময় যেন নড়ছে না। কিন্তু কার্টুন বা অন্য কোন প্রোগামও দেখতে ইচ্ছে করছে না টিভি বা কম্পিউটারে বা গেইম খেলতেও ইচ্ছে করছে না। হোমওয়ার্ক নিয়ে বসলেও হয়। তাও ইচ্ছে করছে না। যেটি ইচ্ছে করছে সেটি সম্ভব না। ইচ্ছে করছে বাইরে যেতে। বাসা থেকে দেখা যায় আইসক্রীমের দোকান, ওখানে গিয়ে আইসক্রীম কিনে খেতে।

ফাইজা জানালার কাছে এলো। তারা পাঁচ তালায় থাকে। সামনের বাম দিকে ছোট একটা মাঠ। তাই এই জানালা দিয়ে আকাশটা ভালো করে দেখা যায়। কত বড় আকাশ! আকাশ এত বড়  কেন? কি আছে আকাশের ওপারে? মেঘের সাথে উড়ে যেতে পারলে কেমন হত? আকাশে পাখি নেই। নেই কেন? একটা পাখিও আকাশে উড়ে যাচ্ছে না। তাদের কি অসুখ করেছে?  নানান ভাবনায় ফাইজা ডুবে গেল।

ফাইজার মিনির মায়ের কথা মনে পরল। মিনি মা একসাথে অনেক কথা বলে। কথা বলতে থাকে। আর সে নানান ধরনের গল্পও জানে। ফাইজার বয়সের এই শহরে অন্য কোন ছেলে মেয়ে এতগুলো মাছের নাম জানে না, গাছের নাম জানে না, নদীর নাম জানে না, এটা সে বলতে পারে, বলতে পারে মিনির মায়ের কারনে। সে প্রতিটা গাছ, গাছের পাতা, মাছ, লতাপাতা, নদী, বিলের নামে গল্প বলতে পারে। গল্প শুনতে শুনতেই মুখস্ত হয়ে গেছে সব। ফাইজা স্কুলে গিয়ে সে সব চেক করে দেখেছে। কেউ এই সবের অর্ধেক নাম জানেন না বা জানেই না অনেকেই।

মিনির মা এতখন থাকলে সময়টা কিভাবে কেটে যায়, বুঝাই যেত না। দুপুরে ঘুমের আগে হোম ওয়ার্ক করে তখন মিনির মা একেবারে চুপ। জানালা দিয়ে আকাশ দেখে। এত আকাশ দেখতে পারে মিনির মা। এমনটা সে আর কাউকে দেখেনি। আকাশে কি আছে, এ নিয়ে অনেক প্রশ্ন করেও ভালো একটা উত্তর খুঁজে পায়নি ফাইজা। পড়ার ফাঁকে তবুও সে দেখেছে, কেমন উদাস চোখে মিনির মা আকাশ দেখছে। যেন ওখানে তাদের বাড়ি।

ফাইজা জানালা থেকে সরে এলো। তারপর আবার এই ঘর সেই ঘর করতে লাগল। সারা বাড়ি কেমন বড় বড় লাগছে। বাসাটা যেন একটু উঁচুতেও উঠে গেছে! খুব সামান্য হলেও উঁচু হয়ে গেছে বলে মনে হল। যেন ঘরগুলো হঠাত করে বড় হয়ে গেছে বা কেউ টেনে বড় করে দিয়েছে।

ফাইজা ওর লম্বা চুলে হাত দিয়ে ঠিক করল। তখনই আয়নার কাছে যেতে চাইল। তার নিজেকে কেন যেন দেখতে ইচ্ছে করছে। সেদিকে পা বাড়াতেই ঠিক করল গেইম খেলবে। কিন্তু  মোবাইল হাতে নিতেই আর ইচ্ছে করল না। সে হাঁটছে আপন মনে। হ্যা, টিভি দেখা যেতে পারে। রিমোট হাতে নিতেই মনে হল সোফার পাশ দিয়ে কেউ দৌড়ে গেল। ছোট একটা ছেলে কি? নাকি ছোট একটা মেয়ে? নাকি অন্য কিছু! কিন্তু তা কি করে সম্ভব!

ফাইজা কিছুটা ভয় পেয়ে গেল। সে ধীর পায়ে সোফার পিছনের দিকে উঁকি দিতে গেল। সে অতি ধীর পায়ে এগিয়ে যাচ্ছে। বারেন্দার আলোটা সোফার গায়ে পড়ার আগেই থেমে গেছে। খানিকটা আলোহীন পরিবেশ। ফাইজা কেন যেন মনে হল ওখানে কেউ আছে। কেউ টা কে! কি!

ফাইজা এগিয়ে যাচ্ছে। তার মনে হচ্ছে সে হাঁটতে পারছে না। পা টা কেমন যেন জমে গেছে। নিজেকে টেনেই নিয়ে যাচ্ছে।

[চলবে]

 

 

 

November 12, 2019 4 comments
2 FacebookTwitterPinterestEmail
Newer Posts
Older Posts

Categories

  • আমার ছোটবেলা
  • আমার ভাবনা
  • কিছু কথা
  • কিশোর গল্প
  • গল্প
  • ছড়া
  • জানা অজানা
  • ভূতের গল্প
  • রান্না ঘর
  • রূপকথা
  • শিশুতোষ গল্প
  • স্বাস্থ্য কথা
  • Facebook
  • Twitter

@2021 - All Right Reserved. Designed and Developed by PenciDesign


Back To Top
Samogro
  • মূলপাতা
  • সাহিত্য
    • কিশোর গল্প
    • শিশুতোষ গল্প
    • ছড়া
  • কিছু কথা
    • আমার ছোটবেলা
    • স্বাস্থ্য কথা
    • জানা অজানা
    • বিবিধ
  • তুলির আঁচড়
    • গ্যালাক্সি
  • কেনাকাটা
  • রান্না ঘর
    • রান্না ঘর

      স্পাইসি চিকেন গোজন্স

      November 16, 2019

      রান্না ঘর

      বাটার কেক

      November 11, 2019

      রান্না ঘর

      ডিমের কোরমা

      July 31, 2019

      রান্না ঘর

      কাঁকরোলের দোলমা

      July 27, 2019

      রান্না ঘর

      মিষ্টি কুমড়া দিয়ে মুরগী রান্না

      July 19, 2019

  • আমাদের কথা
  • যোগাযোগ