• মূলপাতা
  • সাহিত্য
    • কিশোর গল্প
    • শিশুতোষ গল্প
    • ছড়া
  • কিছু কথা
    • আমার ছোটবেলা
    • স্বাস্থ্য কথা
    • জানা অজানা
    • বিবিধ
  • তুলির আঁচড়
    • গ্যালাক্সি
  • কেনাকাটা
  • রান্না ঘর
    • রান্না ঘর

      স্পাইসি চিকেন গোজন্স

      November 16, 2019

      রান্না ঘর

      বাটার কেক

      November 11, 2019

      রান্না ঘর

      ডিমের কোরমা

      July 31, 2019

      রান্না ঘর

      কাঁকরোলের দোলমা

      July 27, 2019

      রান্না ঘর

      মিষ্টি কুমড়া দিয়ে মুরগী রান্না

      July 19, 2019

  • আমাদের কথা
  • যোগাযোগ
Samogro
গল্প

মুসা [পর্ব ১]

by Admin September 30, 2019
written by Admin

মোঃ নোমান সরকার

মুসা খুবই বিরক্ত হয়ে বাসে উঠল। বৃষ্টিতে তার সার্ট প্যান্ট, জুতার অনেক খানি ভিজে গিয়েছে।  আজ চাকরি ইন্টারভিটটা দিতে আসতেই ইচ্ছে করছিল না। খামখা আসা। চাকরির সাথে ইন্টারভিউয়ের প্রশ্নের কোন মিল নেই।

আজ বৃষ্টি আর জোরাল বাতাসের মাখামাখি। আজকের দিন ছিল কাঁথা মুড়ি দিয়ে ঘুমিয়ে থাকার দিন। মুড়ি, চানাচুর পিয়াজ ,ভাজা রসূন আর সরিষার তেল দিয়ে মাখিয়ে খাবার দিন। মেসে অবস্থা মুসার জানাই আছে। সারিষার তেল নেই, চানাচুর নেই, পিয়াজ ফুরিয়েছে,রসূন আছে সম্ভবত। মেস মেম্বার বলতে গতকাল থেকে সে একা। মোট তিন জন মিলে ছিল তারা মেসে অনেক দিন ধরে। হঠাৎ করেই দুইদিন আগে তারা একযোগে মেস ছেড়েছে। এ নিয়ে অনেক ঝগড়া হয়েছে নিজেদের ভিতর। তিনজনের চমৎকার সম্পর্কটা কয়েক ঘণ্টায় বাতাসে মিলিয়ে গিয়েছিল। মানুষের সম্পর্কটা মানুষের চেয়েও আর বেশি অদ্ভুত আর জটিল। অদ্ভুত একটা অভিজ্ঞতা হয়েছে। এমনটা কখনো তার জীবনে ঘটেনি। মানুষ আসলেই অভিজ্ঞতার মধ্যে দিয়ে শিখে। গল্প উপন্যাসে কত কথা এমন পড়েছে। অথচ এই অনুভূতি একেবারেই ভিন্ন। যেন নতুন ভাবে নিজেকে অবিস্কার করতে পেরেছে।

বাসে ৮/৯ জন পেসেঞ্জার। মুসা বাসের জানালার পাশে বসে আছে। বৃষ্টি দেখছে। বৃষ্টিতে বাস জায়গায় জায়গায় দাঁড়াচ্ছে অনেক সময় নিয়ে যাত্রী নিবার জন্য। এ নিয়ে সামনে বসা যুবকের সাথে বাস কণ্টেকটারের বার বার কথা কাটাকাটি হচ্ছে। মুসার এই সব ভাল লাগছে না। কিছুই ভাল লাগছে না। সে তাকিয়ে আছে বাইরের দিকে। অথচ মনে হচ্ছে কিছুই দেখছে না।

বাস কন্টেকটারের চিৎকারে সে যেন অন্য কোথাও থেকে ফিরে এলো। বাস কণ্টেকটার তার সামনে বসা বয়স্ক লোকটাকে রীতিমত ধমকাচ্ছে। আজকাল মানুষের যে কি হয়েছে বয়স্ক মানুষের সাথে অনেক মন্দ আচরণ করে। তার বাবার বয়সী একজন মানুষের সাথে কি বেয়াদবি আচরণ করছে। মুসা বিরক্ত হয়ে বাস কণ্টাকটারের দিকে তাকল। তারপর বয়স্ক মানুষটির দিকে। লোকটার চাহনি, চুল কাঁটা , সার্ট দেখে রুচীরশীল মানুষ মনে হচ্ছে। আভিজাতের একটা ছাপ আছে চেহারায়। সেই বয়স্ক লোকটি বাস কন্টেকটার রীতিমত ধমকের সাথে কথা বলছে!

বাসের কণ্টেকটার বলছে , ভাড়া ১০ টাকাই। ৫ টাকা ভাড়া আমি নিব না, আপনাকে এই পর্যন্ত দশবার বলে গেছি। আরে বুঝেন না ক্যান আপনি আগে নামলে সমস্যা ছিল না। এখন কাউন্ট হয়ে গেছে, লেইখা দিচ্ছে কয়জন।

মানুষটা শান্ত ভাবে বলল,’আমার কাছে আর নেই। ৫টাকাওই আছে, এটাই নিতে হবে।’

‘৫ টাকা ভাড়া অনেক আগে ছিল। অনেক দিন হইছে ভাড়া বাড়ছে। ৫টাকা দিলে হইব না। আচ্ছা ঠিক আছে আপনি পরের ইষ্টেশনে আপনাকে নেমে যেতে হইব। বানানীর ভাড়া ১০টাকাই। এক টাকাও কম নিব না।

আমি নামব না। আমার কাছে তো ৫টাকাই আছে। তুমি বললেই হল, সামনের ইষ্টেশনে নেমে যেতে হবে। আমি নামব না। তোমাকে ৫টাকা দিলে, নেমে আমি কি হেঁটে যাব বানানী?  আর তুমি বললে, ভাড়া তো ৫টাকা ছিল। যখন খুশি বাড়াবে। মানুষের যে কষ্ট হয় এ নিয়ে কি তোমরা ভাব।’  

কন্টেক্টার অধরয্যের গলায় বলল,’আমি তার কি জানি। আপনি এই সব মালিককে কন। আমরা চাকরী করি। আর আপনাকে নেমে যেতেই হবে। আর না হলে ১০টাকা দিতেই হবে।’

‘আমি নামব না। ৫ টাকাই আছে আমার কাছে।’

‘নামতেই হবে। তা না হলে ১০টাকা দিতে হবে।’

বয়স্ক লোকটা খুব শান্ত গলায় বলল, ‘১০টাকা ভাড়া তো বেশি নিচ্ছ।’

বেশি নিব কেন? অন্য পেসেঞ্জারদের জিগান? এই যে নম্বর আছে ফোন করেন। 

হ্যা আমি ফোন দিব। আচ্ছা বললাম তো আমি ফোন দিব। ৫ টাকার ভাড়া ১০ টাকা বলছ। যখন তখন  ভাড়া বারাবে। বললাম ১০টাকা নাই ৫ টাকা আছে। ‘ বলে মোবাইল বের করল। মুসাও ভাবল উনি ফোন করবে। তিনি তা করলেন না। তিনি মবাইলে অন লাইনে গিয়ে ইংরেজীতে লেখা কিছু একটা পড়তে লাগলেন। মুসা চোখ সরিয়ে বাইরের দিকে তাকাল।

কন্টেক্টার সামনের দিকে গেল। মুসা আবার বয়স্ক লোকটার দিকে তাকাল, তিনি মনযোগ দিয়ে ইংরেজীতে লেখা আর্টিকেল বা এমন কিছু একটা পড়ছেন। মুসা বাইরের দিকে তাকাল। খুব জোরে বৃষ্টি হচ্ছে। ঘরে একটা ডিম আছে। একটাই আছে। ডিম দিয়ে ভাত খেতে ভাল লাগবে। মুসা আবার ভাবনার জগতে চলে গেল।

কন্টেকটারের চিৎকারে আবার সে ভাবনার জগত থেকে ফিরে এলো।

‘আপনি এখানে নামেন।’

মুসা দেখল বাসটা থেমেছে।

‘আমি তো বলেছি আমি নামব না। আর বৃষ্টির মধ্যে আমি নামবই না।’

‘আরে আপনারে এই খানেই নামতে হইব। ১০ টাকা না দিলে আমি আপনারে যাইতে দিমু না। আছে আপনার কাছে টাকা। আর ফোন দিছিলেন?’

বয়স্ক মানুষটা কিছু বলল না।

‘আমি আগেই বুঝছি ফোন দিবেন না। বয়স হইছে, মিছা কথা বলইলেন না। ৫টাকার জন্য আপনি এমন করতাছে কেন, এমনিতেই পেসেঞ্জার নাই। আমার চাকরি থাকব না। গুওইনা গেছে ৯ জন পেসেঞ্জার।’

ড্রাইভার বলল, ‘বাবারে কেন খমকা ঝামেলা করতাছেন। গুনে গেছে ৯ জন। টাকা আপনাকে দিতেই হবে বাবা। দিয়া দেন তো।’

মুসা বুঝল ড্রাইভার কথা বলায় কন্টেকটার আরও বেয়াদবি করবে, মুসা ইশারা করল কন্টেকটারকে। হাত দিয়ে ইশারায় বুঝাল, বয়স্ক লোকটার থেকে টাকা নিবার দরকার নাই, আমি দিচ্ছি।

ইশারা করায় কণ্টেকটার যেন খেপে গেল। সে কিছুটা এগিয়ে এসে বলল, ‘আরে ভাই আপনি দিবেন কেন? আপনি কি উনার আত্মীয়? আর এতখন কৈ ছিলেন। এইখন ধইরা যে বকবক করলাম তখনই কইতেন টাকাটা আপনি দিবেন।’

মুসা বিরক্ত গলায় বলল,’ ভুল হতেই পারে। ম্যনিব্যাগে টাকা উঠাতে আমারই প্রতিদিন ভুল হয়। ৫০০টাকার জায়গা ১০০টাকা নিয়ে বের হই। এমন বিপদ আমারও অনেকবার হয়েছে। নাও ১০টাকা।’

বয়স্ক লোকটা বলল, ‘আরে আপনি কেন টাকা দিবেন? ৫টাকাই ভাড়া। ৫ টাকাই নিবে।’

কন্টেকটার আবার চিৎকার করে উঠে।

মুসা বলল, ‘টাকা পকেটে বা ম্যানিব্যগে নিতে ভুলে গেছেন হয়ত। সমস্যা নাই। আমার একবার এমন হয়েছে। আমার বাসের টাকা আরেকজন দিয়েছিল। আমি আজ আপনারটা দিলাম। আরেকদিন আপনি কার দিবেন। হয়ে গেল।’

কণ্টেকটার ছোঁ মেরে টাকাটা নিয়ে গেল। বয়স্ক লোকটা উঠে মুসার পাশে এসে বসে বলল, ‘আমি বনানী যাব। আপনি? ‘

মুসা বলল, ‘আমিও বানানী যাব। একজনের সাথে দেখা করতে হবে।’

বয়স্ক লোকটা বলল, ‘আজকাল কেউ কার বিপদে এগিয়ে আসে না।’

মুসা বলল, ‘আমি এভাবে দেখি না। আমার মনে হয়, এগিয়ে আসার মানুষই বেশি।’

বয়স্ক মানুষটা বলল, ‘আমার বয়স হয়েছে। অভিজ্ঞতাও বেশি। আমি অনেক বেশি দেখেছি, আর অনেক বেশি দেখতেও পাই।’

মুসা বলল, জীবন হচ্ছে তাই, ‘যেভাবে আমরা দেখি, যেভাবে আমরা ভাবি, বুঝি। জীবন এর বাইরে না। দেখবার উপরই সবকিছু নির্ভর করে।’

বয়স্ক লোকটা অবাক গলায় বলল, ‘বাবা তোমার কথা আমাকে অভিভুত করল। কিছু মনে কর না, আমি তোমাকে তুমি বললাম।’

মুসা হেসে বলল, ‘আমি আপনার ছেলের বয়সী।’

বয়স্ক লোকটা বলল, ‘তোমার কথা ভালো লেগেছে। তা তুমি কোথায় থাক।’

মুসা বলল, ‘উত্তরখানে, উত্তরার পিছন দিকটায়।’

বয়স্ক লোকটা বলল, ‘হ্যা আমি চিনি। আরে আমরা অনেকখন ধরেই কথা বলছি। তা তোমার নাম কি?’

‘আমার নাম মুসা।’

‘আরে আমার নামও মুসা। মুসা বিন শমসের।’

‘নামটা খুব চেনা চেনা লাগছে।’

‘আরে হ্যা চেনা চেনা লাগবে না। এই নামে যে বাংলাদেশের সেরা ধনী একজন আছে। ভালোই লাগে নিজের নামের জন্য।’

মুসা হাসল। মুসা বিন শমসের। হ্যা মনে পড়েছে। তার নামেও নাম।

এর মধ্যে বনানী চলে এসেছে গাড়ি। বৃষ্টি থেমে গেছে। দুইজনই বাস থেকে নামবে। মুসা আগে নামল। আর মুসা বিন শমসের পরে। মুসা জানল না কি ঘটে গেল। সে উল্টো দিকে তাকাচ্ছে রাস্তা পার হতে হবে। মুসা বিন শমসের বাস থেকে নামার সময় কণ্টেকটারের হাতে চার ভাজ করা এক হাজার টাকার নোট দ্রুত গুজে দিয়ে নীচু গলায় বললেন, ফাজিল, বিপদে পরা বয়স্ক মানুষের সাথে এমন আচরণ করে? ৫ টাকার বেশি ভাড়া না দিয়া বনানী নেমে দেখতাম তুই কি করিস। আছার দিয়া তরে……।’ এই টুকু বলে তিনি নামলেন। নেমেই তিনি কণ্টেকটারের দিকে তাকালেন। কন্টেকটার হ্যা করে তাকিয়ে আছে হাতের নোটটার দিকে। কণ্টেক্টারের বিশ্বাসই হচ্ছে না কেউ তাকে এক হাজার টাকার নোট বকশিশ হিসাবে দিতে পারে, তাও তার খারাপ ব্যবহারের কারনে! তার সারা জীবনে এমন ঘটনা আগে কখনো ঘটতে দেখেনি।

মুসা বিন শমসের ডাকল মুসাকে। চল আগে রাস্তা পার হই। বলে দুইজনে রাস্তা পার হল। তারপর তিনি বললেন,’ তুমি আমার থেকে ১০টাকা পাও। সেটা এবার দিবার সুযোগ হয়েছে। চল আমি যে অফিসে কাজ করি। খুবই সাধারণ চাকরি। চল, এক কাপ চা ত খাওয়াতে পারব তোমাকে।’

মুসা বলল, না না এটা আর দিতে হবে না। আপনি বিপদে পরেছেন। এটা তো যে কার দায়িত্বের মধ্যেও পরে। আমি কাছে ছিলাম। আমি আসি। দেখা হবে আবার।’

আরে না না বলছ কেন? তুমি তো দিয়েছ। আমি ঋণে থাকবই বা কেন? তোমার তাড়া নেই তো? আরে আমার লাগবে ১০ মিনিট। প্লিজ।’

বয়স্ক মানুষ প্লিজ বলছে মুসা বলল, ‘আচ্ছা আচ্ছা ঠিক আছে। আমার তাড়া নেই। একজনের সাথে কেবল দেখা করা।’


September 30, 2019 0 comment
2 FacebookTwitterPinterestEmail
রূপকথা

রাজার রাজত্বে

by Admin September 28, 2019
written by Admin

মোঃ নোমান সরকার

রাজা চমৎকার ভাবে দেশ চালাচ্ছিলেন। দেশেও কোন অভাব ছিল না। রাজার সব মনোযোগ ছিল দেশ আর প্রজা নিয়ে। বড় রাজা মারা যাবার আগে বলে গিয়েছিলেন,’ যখন যে কাজ করবে,তা মন আর মনোযোগ দিয়ে করবে। সেই বিষয়ে সজাগ আর সাবধানী থাকবে। যা করবে তা ভালোবাসবে। আর রাজার রাজত্বে প্রজাদের যেন কষ্ট না হয়।’ রাজা বাবার হাত ধরে কথা দিয়েছিলেন। তারপর থেকে সুখেই চলছিল। গতবছর খরা দেখা দিয়েছিল। কিন্তু রাজা প্রজাদের বিষয়ে সব সময় সাজাগ। প্রজাদের সব খবর নিয়ে সাবধানী ছিলেন বাবার কথা মত। আগেই উন্নত মানের সেচ ব্যবস্থা আর খাদ্য মুজদ থাকায় কিছুই ক্ষতি হয়নি খরায়।

সেই রাজা একদিন শিকারে গিয়ে বিপদে পড়লেন। সকালে শিকারে যেতেই তিনি এক বাঘের পাল্লায় পড়লেন। ছোট বেলা থেকে শরীর চর্চার জন্য রাজার শরীরে শক্তি ছিল অসীম আর রাজা ছিল অস্ত্রচালনায় নিপুন। ফলে বাঘটা ঝাঁপিয়ে পরতেই তার অস্ত্রের এক আঘাতে বাঘটাকে কেটে ফেলল। আর তখনই এক ডাইনী দৌড়ে এসে আহাজারি করতে লাগল, সেই বাঘটার তার বলে। ডাইনী ভয়ানক রুপ ধারণ করল। বিকট চেহারার ডাইনি রাজাকে ধরতে এগিয়ে আসতে লাগল। রাজা বুঝল এর সাথে পেরে উঠা মুসকিল হবে। রাজা পিছনে থাকা বিশাল গাছটার পিছন দিকটায় ছুটে গেল। ডাইনি যেন তাকে ধরেই ফেলবে এমনটা মনে হতে লাগল। ডাইনির চিৎকারে আকাশ বাতাস ভারী হয়ে উঠছে। রাজা আরো দ্রুত গাছটার উপরে উঠা যায় কিনা দেখতে লাগল। রাজা লাফিয়ে উপরে দিকে উঠার চেষ্টা করতেই গাছটার ভিতরে চলে গেল। যেন গাছটা তার ভিতরে জায়গা করে দিল।

রাজা এমনটি দেখেনি, শুনেনি কখনো। সে দেখল বিশাল গাছের ভিতরে অনেক জায়গা আর আলোতে ঝলমলে, রোদ এসে পরেছে উপরের মোটা মোটা শিকড়ের নীচ দিয়ে। এত বেশি ফাঁকা জায়গা যে তার ঘোড়াটাও এখানে নিরাপদে থাকতে পারত। ঘোড়াটার জন্য মায়া হচ্ছে, ঘোড়াটার ভাগ্য কি ঘটেছে কে জানে। কিন্তু গাছ এতটা বিশাল হলেও এত জায়গা এলো কিভাবে এর ভিতরে!

গাছটার যেন সরু পথ বা দরজা খুলে গিয়েছিল বা কিছু একটা হয়েছিল। ব্যাপারটা এত দ্রুত হয়ে গেল যে রাজা বুঝতেই পারেনি কিভাবে গাছের ভিতরে চলে এলো। রাজা অস্থির হয়ে চারদিক দেখতে লাগল, চারদিক গাছের উপরের অংশের মতন ,মনে হচ্ছে অনেকগুলো গাছ তাকে ঘিরে রেখেছে। ডাইনির জন্য কতখন এখানে থাকবে বুঝতে পারছে না বা এখান থেকে বের হবে কিভাবে তাও বুঝতে পারছে না।

চারদিক তাকিয়ে থাকতে থাকতে রাজার ঘুম পেল। আর সে ঘুমিয়ে গেল। যখন ঘুম ভাঙ্গল তখন দেখল তার চার জন সৈন্যরা তাকে ঘিরে আছে। আর সে সেই বিশাল গাছের বাইরে মাটিতে শুয়ে আছে। রাজা লাফিয়ে উঠে পরল। একজন সৈনিক এসে বলল, আপনার ঘোড়াটা আমাদের এখানে নিয়ে এসেছে। এরপর সে থেমে গেল। রাজার মনে পরল তিনি শিকারে এসেছিলেন। সাথে অল্প কিছু সৈনিক।

রাজা বলল, আমাকে কি এখানেই ঘুমন্ত অবস্থায় পেয়েছিলে?

সৈনিকরা এক যোগে বলল, হ্যা।

রাজা গাছটার দিকে তাকাল। আর তখনই বহু দূরে ডাইনির ভয়ংকর ডাকি ডাকি শুনতে পেল। সৈনিকরা সেই চিৎকারে নিজেদের মধ্যে মুখ চাওয়া চাহি করতে লাগল।

রাজা প্রজাদের কথা ভাবলেন। তার ফিরে যাওয়া উচিত। আবার ভাবললেন এই ডাইনীটা তার প্রজাদের হত্যা করতেই থাকবে। কে জানে সে কতজনকে হত্যা করেছে আমার রাজত্বে। বাঘটা তার সঙ্গি ছিল। ওটা থাকাতে হয়ত তার এই হত্যাগুলো আরো সহজ ছিল। রাজা অনেক কিছু ভাবলেন। তারপর সিদ্ধান্ত নিলেন ফিরে যাবার।

রাজদরবারে তিনি ফিরে গেলেন। জঙ্গলটাকে ভালো করে চিনে এমন মানুষদের খবর দিলেন রাজদরবারে আসার জন্য। বৃদ্ধ অবসরে থাকা যোগ্য সৈনিকদেরও ডাকলেন। ডাকলেন আরো অনেককে। যেন যুদ্ধ শুরু হবে এমন একটা অবস্থা হল রাজদরবারের। ‘ শক্রকে ছোট করে দেখতে নেই’, রাজার এই বক্তব্য দিয়ে শুরু হল বৈঠক। এভাবে রাজদরবারে সাত দিন সাত রাত ডাইনীটাকে কিভাবে ধরা যায় বা মারা যায় এ নিয়ে আলোচনা করলেন। যুদ্ধ যূদ্ধ ভাব চলে এলো সবার ভিতর। রাজা কিন্তু গাছটার বিষয় এড়িয়ে গেলেন।কারো সাথে এই নিয়ে আলাপ করলেন না। অতি উৎসাহ বিপদের কারন হয়। গাছের বিষয়টা জানাজানি হলে দেখা যাবে সেই পুরানো বিশাল গাছটার ভিতরে ঢুকতে চেয়ে গাছটাকেই মানুষ কেটে ফেলছে বা পূজা করা শুরু করে দিয়েছে। এ নিয়ে আরেকদিন যাওয়া যাবে বিশাল গাছের কাছে। এই রহস্যের কোন কূল কিনারা না করতে পারলেও রাজার এ নিয়ে দুঃখ থাকবে না। বড় বিপদে গাছটাকে তাকে আশ্রয় দিয়েছে। আর এ জগতে কত জাহার রহস্যের বিষয় ঘটে যাচ্ছে জানা আর অজানায়, দেখা আর না দেখায়।

কয়েক সপ্তাহ পরেই শুরু হল ডাইনী মারার অভিযান। যেন যুদ্ধ সাজে সেজেছে সবাই। জঙ্গলে চলে এলো সবাই। কি নেই সাথে কামান, গোলা বারুদ, সৈনিক, অভিজ্ঞ মানুষেরা। জঙ্গলের একদিক থেকে অভিযান শুরু হল। দুই দিন পরেই ডাইনীর মুখমুখি হল সবাই। ডাইনীটা যেন খুব কাছেই ছিল। যেন সেও তাদের গতিবিধি দেখে দেখে এগিয়ে এসেছিল। ডাইনীটা খুব কাছে এসেই ভয়ানক মূর্তি ধরন করে চিৎকার জুড়ে দিল। ডাইনীর বীভৎস চিৎকারে ভড়কে গেল সবাই। প্রচন্ড ভয়ে ভুলে গেল কামান দাগাতে বা বুন্দুক থেকে গুলি ছুটতে। যেন প্রত্যেকেই একা হয়ে গেছে, এমন মানুষিক অবস্থা দাঁড়াল সেই সেনা অভিযানের প্রত্যেকের। ঠিক তখনই রাজা ঘোড়ায় ছুটে এসে ডাইনীর দিক কামান তাক করে গোলা দাগাল। আচমকা সব থেমে গেল। থেমে গেল সব চিৎকার। সবাই তাকিয়ে দেখল ডাইনীর মাথাটা বিচ্ছিন্ন হয়ে উড়ে গেল।

গাছের পাতাগুলর শব্দ ছাড়া কোথাও কোন কথা নেই। জঙ্গলে এমনকি পাখির ডাকটাও নেই। স্তব্দ হয়ে গেছে চারদিক। যেন কিছুই হয়নি। সবাই কুকুড়ে আছে যেমনটা ডাইনীর বীভৎস ডাকে হয়েছিল।

রাজা চিৎকার করে বলল, ‘এই বিজয় আমাদের সবার’।


September 28, 2019 2 comments
0 FacebookTwitterPinterestEmail
কিশোর গল্পজানা অজানা

হালাকু খান আর আরব্য রজনীর বাগদাদ [পর্ব – ১]

by Admin September 24, 2019
written by Admin

মোঃ নোমান সরকার

গল্পটা শুরুর আগে কিছু কথা বলতে চাই আমার কিশোর বন্ধুদের। আমাদের  শিক্ষার্থী বন্ধুদের ভিতরে প্রায়ই কিছু প্রশ্ন জাগে যে, জ্ঞান বিজ্ঞানের বড় বড় সব অবদানই তো পশ্চিমাদের।  আমাদের এশিয়ানদের ভুমিকা কি কিছু আছে? আমরা তো কেবল তাদের অবিস্কার  ভোগই করে যাচ্ছি, এখানে আমাদের অবদান কি? এই সভ্যতা এতে আমাদের এশিয়ানদের কি  কিছু নেই! সবই দিক থেকে ফাষ্ট তো এমেরিকা, ইউরোপ। সব আবিষ্কারই তারাই করে যাচ্ছে। বিষয়টা আসলে  তেমন না। এর যথেষ্ট উত্তর আছে  আমাদের কাছে। ইতিহাস এর লাখো উত্তর রেখে  দিয়েছে। তোমাদের কেবল জেনে নিতে হবে ইতিহাস থেকে, আমরা কারা। ইতিহাস পড়ার মধ্য দিয়ে আমরা নিজেদের মানুষিক ভাবে দুর্বল যেমন ভাব না। তেমনি নিজেদের প্রতি শ্রদ্ধা বাড়বে। আর আজ এই উত্তরের একটি অংশ আমরা খুঁজে পাব হালাকু খান দ্বারা বাগদাদ পতনের ঘটনা জানার মধ্য দিয়ে।

আজ এমেরিকার বড় বড় শহর বা ইউরোপের দেশগুলোর বড় বড় শহর যেমন,  তেমনি ছিল একদিন ইরাকের বাগদাদ, যুগের পর যুগ। ৭৬২ সালে খলিফা মনসুর  আরব্য রজনীর এই নগরীটি প্রতিষ্ঠা করেন। প্রাথমিক পরিকল্পনা অনুযোয়ী বাগদাদ ছিল সম্পূর্ণ বৃত্তকার এবং চতুর্দিকে পরিখা বেষ্টিত। পরিখা মানে বুঝ তো বন্ধুরা? পরিখা মানে শক্রদের হামলা থেকে নিজ ভুমিকে বাঁচাতে সামরিক ঘাঁটির চারদিকে চওড়া আর গভীর ভাবে গর্ত তৈরি করে রাখা।

যাই হোক বন্ধুরা, ৭৬২ থেকে ১২৫৮ সাল, এই সময়টায় বাগদাদ ছিল ইসলামী স্বর্ণ যুগের প্রানকেন্দ্র, পৃথিবীর সবচেয়ে সমৃদ্ধ নগর, মুসলিম বিশ্বের রাজধানী। জ্ঞান বিজ্ঞানে, শিল্প সাহিত্য, সম্পদ, প্রাচুর্যে সাড়া দুনিয়ার কাছে সবচেয়ে আকর্ষণীয় এবং গুরুত্বপূর্ণ নগর। জ্ঞান, বিজ্ঞানে উজ্জ্বল এক তারায় পরিনত  হয়েছিল এই নগর। দুনিয়ার সব জ্ঞানীরা ছুটে এসেছিল এখানে। আর জ্ঞানীরা ছুটে আসবেনা বা কেন। সারা দুনিয়া থেকে জ্ঞান বিজ্ঞানের বই এনে জমা করা হয় এখানে। আবার সেই সব বই অনুবাদ হত এখানে। অনেক অনেক দুর্লভ বই এর সংগ্রহ ছিল সেই বাগদাদে। দারুল হিকমা লাইব্ররী সহ অগনিত ছোট বড় লাইব্ররী হয়ে উঠেছিল জ্ঞানের ভিন্ন এক সমুদ্রে। দুনিয়ার বিভিন্ন ভাষার বই অনুবাদের জন্য বিখ্যাত কেবল না, আমরা বলতে পারি যে, দুনিয়া আজকের জায়গায় পৌঁছাতে পারত না এই বইগুলোর অনুবাদ না হলে,জ্ঞান বিজ্ঞান নিয়ে গবেষনা না হলে। আমাদের আজকের সভ্যতা কতটা ঋণী যখন ইতিহাস পড়বে তখন আরো আরো জানবে। জেনে কেবল অবাক আর বিস্মিত হতে হবে।

 জৌলুসে ডুবে থাকা স্বপ্নের বাগদাদ নির্মাণ হওয়ার পর কেটে গেছে ৫০০ বছর। এর জৌলুস কেবলই বেড়েছে। এর উচ্চতা আর গৌরব সমুজ্জ্বল ছিল হালাকু খানের আক্রমণে ধ্বংস হবার পূর্ব পর্যন্ত। পৃথিবী থমকে গিয়েছিল মধ্যযুগে হালাকু খানের  এক অভিযানে। সাত দিনে যোল লক্ষ মানুষ হত্যা করে আর লাইব্ররীগুলোর সমস্ত বই পুড়ে ছাই করে দিয়েছিল মোঙ্গলা।  

হালাকু খানের পরিচয় (১২২৮- ১২৬৫), তিনি দুর্ধর্ষ বিজেতা চেঙ্গিস খানের নাতি। চেঙ্গিস খানের চার পুত্রের এক পুত্র তোলুইয়ের সন্তান। মা সোরগাগতিক ছিলেন একজন প্রভাবশালী কেরাইত শাহাজাদি। তিনি ছিলেন নেস্টরিয়ান খ্রিষ্টান। আর হালাকু খানের স্ত্রী দকুজ খাতুন এবং তার ঘনিষ্ট বন্ধুও সেনাপতিও খ্রিষ্টান ছিলেন। মৃত্যুর আগে তিনি বৌদ্ধ ধর্ম গ্রহন করেছিলেন বলে জানা যায়। তার ভাই ছিলেন আরিক খান, মংকে খান ও কুবলাই খান। হালাকু খানের আপন ভাই মংকে গ্রেট খান থাকা অবস্থায় তাকে মোঙ্গল সম্রজ্যের দক্ষিণ পশ্চিম অংশ দায়িত্ব দেওয়া হয়। আর সেই রাজ্যের পাশেই ছিল আব্বাসীয় খিলাফতের সীমানা। ১২৫৫ সালে  ভাই মংকে গ্রেট হালাকু খানকে দক্ষিণ পশ্চিম এশিয়ার মুসলিম অঞ্চল জয়ের জন্য  প্রেরণ করেন। তবে ইতিহাসের এই বেদনাদায়ক ঘটনা বলে দেয়, এই শেষ সময়টা বুদ্ধিবৃত্তিক জাগরণের প্রাণ কেন্দ্র জৌলুসে ডুবে থাকা বাগদাদ তখন ভোগ বিলাস আর অন্তরকোন্দলে ক্ষতবিক্ষত ছিল। ধর্মীয় বিষয়তেও নানান ভ্রান্ত ধ্যান ধারণার এত জোরাল হয়ে উঠে যে চরম বাড়াবাড়ির পর্যায়ে চলে যায়। ছোট্ট ছোট্ট বিষয়ে নানান মতভেদ সমাজকে প্রবল অস্থিরতা নিয়ে গিয়েছিল। আর সেই সময় আরব রাজ্যো পরিনত হয়ে ছিল যেন ছোট ছোট রাজ্যে। আর ছিল  অন্তকোন্দল, চরম ভোগবিলাসে মত্ত। সকল ধরনের বাড়াবাড়ির যে অশুভ পরিনতি আছে তা আমরা বাগদাদের পতনের ভিতর দিয়ে জানতে পারি। এই সময়ে বাগদাদের খলিফা ছিলেন নখ বিহীন সিংহ খলিফা আল  মুস্তাসিম বিল্লাহ।    

মধ্যপ্রাচ্য আর ইউরোপে নিষ্ঠুর মোঙ্গলরা তাতার বাহিনী নামে পরিচিত ছিল। হালাকু খান সামরিক অভিযানেরমূল কারন ছিল, পারস্যের ক্রমশ ভয়ংকর হয়ে  উঠা রাজনৈতিক আততায়ীয়র দল গুপ্তঘাতক সম্প্রদাইয়কে দমন। এরা এতটাই ভয়ংকর হয়ে উঠেছিল আর গুপ্ত হত্যা এতটাই ব্যাপক হয়ে উঠেছিল যে মোঙ্গলরাও এদের দ্বারা ক্ষতিগ্রস্থের অশংকা করছিল এবং আব্বাসীদের রাজধানী বাগদাদ দখলের আগ্রহ।  বাগদাদের জৌলুস, সম্পদের প্রতি বহুকাল থেকে মোঙ্গলদের লোভ ছিল। তাই সুযোগের অপেক্ষায় ছিল তারা। অন্তঃকলহে দুর্বল ছিল বাগদাদ, এই তথ্যগুলোই বাগদাদ আক্রমণের জন্য যথেষ্ট হয়ে উঠে মোঙ্গলদের কাছে। এদিকে গুপ্তঘাতক  সম্প্রদাইয়ের চল্লিশটির বেশি খুবই শক্তিশালী দুর্গ আক্রমণে কোন এক সময় বাগদাদের সাহায্য আশা করলে বাগদাদের খলিফা হালাকু খানকে সাহায্য প্রদানে বিরত থাকে। এতে প্রবল আক্রেশের জন্ম নেয় বাগদাদের প্রতি।   

জ্ঞান বিজ্ঞান, শিল্প-সংস্কৃতি, বিত্ত বৈভবে অন্যন্য বাগদাদ কেবল দুর্বল হয়ে উঠে আব্বাসীদের নিজেদের ভিতরের অন্তঃকোন্দলে। এতে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্থ হয় প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাপনায়। প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাপনা এত দুর্বল হয়ে উঠে যে সৈনিকেরা বেতন ঠিক মত পেত না। ফলে সমস্যায় জর্জরিত সেনাবাহিনী। আর ধর্মীয় বিষয় নিয়ে মতভেদ আর পাশাপাশি শিয়া সুন্নী বিরোধ চরম আকার ধারণ করেছিল।    খলিফার শিয়া উজির বিশ্বাসঘতকাতা করে মঙ্গলদের বাগদাদ আক্রমণের আহ্বান করে নিজ দেশের সকল তথ্য প্রদান করে যান। বিলাসী জীবনে ডুবে থাকা দুর্বল খলিফা বুঝতেই পারেননি কি ঘটতে যাচ্ছে।

হালাকু খান খলিফাকে কাপুরুষ আখ্যা দিয়ে মঙ্গলদের শ্রেষ্ঠত্ব বর্ণনা চিঠি পাঠিয়ে আত্ম সমর্পণ করতে বললে খলিফা তা প্রত্যাখান করেন। আর খলিফার শিয়া উজির খলিফাকে বুঝাতে সক্ষম হয়, অর্ধেক সৈন্যকে মঙ্গলদের প্রতিহত করতে। বিষয়টি আমাদের সিরাজদৌল্লাহ প্রধান সেনাপতি মীরজাফরকে বিশ্বাস করার মতনই ঘটনা ঘটে। বন্ধুরা জানত,১৭৫৭ সালের ২৩ জুন পলাশীর প্রান্তরে যুদ্ধে  যখন বাংলার ভাগ্য নির্ধারণ হচ্ছিল, তখন  বাংলার প্রধান সেনাপতি মীরজাফরের আদেশে পলাশীর যুদ্ধে ৫০ হাজার সৈনিক নিস্ক্রিয় ছিল। তারা তাকিয়ে তাকিয়ে দেখছিল, কি নির্মম ভাবে ক্ষুদ্র একটি দলের কাছে বাংলার শেষ নবাব  সিরাজ-উদ-দৌলা পরাজয় বরন করেন। আসলে সকল নিষ্ঠুর পরিনতির পিছনে নিজেদের মানুষই কাজ করে। পিছন থেকে তারাই ছুরি মারে। তাই বন্ধু নির্বাচন বা যাকে দায়িত্ব দেওয়া হয় গুরুত্বপূর্ণ কিছু, সেই মানুষকে নির্বাচিত করতে হয় অনেক বুদ্ধি, বিবেচনার মাধ্যমে।  মনে রাখতে হবে পরিবার হল ক্ষুদ্র রাষ্ট। আর পরিবার মানে বাবা মা, ভাই বোন, আত্মীয়স্বজন বন্ধু বান্ধব মিলে। এরা প্রত্যেকেই পরিবারের অংশ। তাই বিনয়, শ্রদ্ধা, মমতা, ভালোবাসা, আদর, সহানূভুতি দিয়েই প্রত্যেককে দেখতে হবে। যাতে অন্তকোন্দলের কোন সুযোগ না থাকে।  

আচ্ছা আমরা ফিরে যাই ইতিহাসে আবার। ১২৫৮ সালের জানুয়ারি মাসে হালাকু খান পূর্ব ও দক্ষিণ দিক থেকে বাগদাদ  আক্রমণ করে বাগদাদের নগর ফটক অবরোধ করে। তার বাহিনীর তাতার, চীনা এবং মধ্য এশিয়ার সৈন্যদের দিয়ে অগ্নি গোলক নিক্ষেপ করে দুর্গ আর উঁচু প্রাচীর ধংস করে ফেলে। খলিফার ক্ষুদ্র ও দুর্বল সেনাবাহিনী হালাকু খানের যোগ্য বিশাল সেনাবাহিনীর কাছে পরাজিত হয় অতি সহজেই এবং খলিফা তার সমস্ত ধন সম্পদ দিয়ে পরিবারবর্গ , আত্মীয়স্বজন এবং অনুচরবর্গ সহ আত্মসম্পরণ করতে বাধ্য হয়। তবে এতে রেহাই পায়নি কেউ। প্রত্যেককে হত্যা করা হয় এবং খলিফাকে কম্বলে পেঁচিয়ে মোঙ্গলিয়ান তেজি ঘোড়ার পা আঘাতে হত্যা করা হয়।   

হালাকু খানের মোঙ্গল বাহিনী হত্যা করতে থাকে সাত দিনে অথবা তের দিনে বিশ লাখ নগরবাসীর   মধ্যে ষোল লাখের মতন নগরবাসীকে। এদের হাজার হাজার নাগরিকদের হত্যা  করে তাদের মাথার খুলি দিয়ে  পিরামিড বানান হয় মঙ্গোলরা।  বিশ লক্ষ  নগরবাসীর মধ্যে খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের একটা বড় অংশ এই হত্যাযজ্ঞ থেকে বেঁচে গিয়েছিল হালাকু খানের স্ত্রী ডোজুজ খাতুনের কারনে। আর মোঙ্গলদের গুপ্তচর হিসাবে থাকা দুই জন শিয়া মন্ত্রীদের কারনে শিয়া সম্প্রদায়ের মানুষেরা বেঁচে যায়। ইতিহাস বলে শিল্পী, চিত্রকর, শিয়া সম্প্রদায়, খ্রিষ্টান সম্প্রদাইয়ের মানুষ জন এই আক্রমন থেকে রেহাই পেয়েছিল, আর মরতে হয়েছিল কেবল মূলত সুন্নী মুসলমানদের।

 মোঙ্গলরা শুরুতেই নগরে প্রবেশ করে নগরবাসিকে অস্ত্র সমর্পণের আদেশ দেন। আর নগরবাসীর অস্ত্র সমর্পণের পরেই শুরু হয় হত্যা। নারী, পুরুষ, শিশু,বৃদ্ধ কেউ পালিয়ে নিজেকে বাঁচাতে পারেনি। হত্যাকাণ্ড এমন অবস্থায় পৌঁছায় যে তিন দিন ধরে নগরীর পথে রক্তের স্রোত প্রবাহিত হয়েছিল এবং তাইগ্রীস নদীর পানি মাইলের পর মাইল রক্তে লাল হয়ে ছিল। কেবল হত্যাই করেনি, নগরীতে থাকা  প্রতিটা দালান, হাসপাতাল, প্রতিটা  লাইব্রেরি, মসজিদ সব পুড়ে ছাই করে দিয়েছিল। পুড়ে ফেলা হয়েছিল দৃষ্টিনন্দন সব ভবন। পুড়ে দেওয়া হয়েছিল শতশত বছরের গড়া উঠা শিল্প সাহিত্য, মুসলিম জ্ঞান- বিজ্ঞান , শিক্ষা সংস্কৃতির উজ্জলতম  যা কিছু নিদর্শন ছিল, সব কিছু। ফলে চিকিৎসা সহ জ্ঞান বিজ্ঞানের নানান গবেষনামূলক অমূল্য সব বই আর সব লাইব্রেরিতে থাকা ৫০০ বছরের সংগ্রহে থাকা হাজার হাজার বছরের সব বই পুড়ে ফেলা হয়। ব্যতিক্রমধর্মী স্থাপত্যকলায় গড়ে উঠা ৫০০ বছরের বাগদাদকে পুড়িয়ে মাটির সাথে মিশিয়ে দিয়ে এমন ভুতরে নগরীতে পরিনত হয়ে এটি এমন ভাবে ধংস করা হল যে এর কোন একটি স্মৃতি চিহ্ন রাখা হয়নি। আজ অব্দি এটি আর দাঁড়াতে পারেনি। শিক্ষিত বাগদাদবাসী আজও অশিক্ষা আর কুশিক্ষায় ডুবে আছে।

বাগদাদ শংস নিয়ে ঐতিহাসিক ব্রাউন বলেন,’ সম্ভবত কখনোই এত বড় ও সমৃদ্ধশালী একটা সভ্যতা এত দ্রুত অগ্নিশিখায় বিধ্বস্ত ও রক্তধারায় নিশ্চিহ্ন হয়নি।‘

মৃত্যুর আগে হালাকু খান তার সময়কালে এত মৃত্যুর জন্য অনুতপ্ত হয়ে বৌদ্ধ ধর্ম গ্রহন করেছিলেন সম্রাট অশোকের মত।  ১২৬৫ সালে জালিম অহংকারী হালাকু খান মৃত্যুবরণ করেন। এর আগেই মোঙ্গল বাহিনীর পতন ঘটে মিশরের মামলুক সুলতান সাইফুদ্দিন কুতুজের এলিট সেনাবাহিনীর কাছে। এই পতনের মধ্য দিয়ে মোঙ্গলরা দুর্বল হয়ে যায়।

মানব সভ্যতার ইতিহাসে মোঙ্গলরা ছিল সবচেয়ে ভয়ংকর। ফিলিস্থিনির আইনজালুতের ঐতিহাসিক প্রান্তরে যদি সেদিন হালাকু খান হেরে না যেত তবে উত্তর আফ্রিকা, ইউরোপ পরিনত হত বাগদাদ,সমরখন্দ,বেইজিং এর মত ধ্বংসস্তূপে। হালাকু খানের মৃত্যুর কারনে পতন থেকে বেঁচে গিয়েছিল উত্তর আফ্রিকা আর ইউরোপ। এক বাগদাদ ধংস করে গোটা মানব সভ্যতার যে ক্ষতি মোঙ্গলরা করে গেছে মধ্যযুগে সেই ক্ষত আর হাজার বছর বয়ে নিতে হবে আমাদের প্রত্যেককে। আমরা ধারণাই করতে পারি না বাগদাদ ধংস না হলে আজকের সভত্যা কোথায় গিয়ে দাঁড়াত।

ঐতিহাসিক ইবনুল আমীর বলেন,’পৃথিবী এবং বিশেষত মুসলমানদের ওপর যে সব বিরাট বিপর্যয় ও ভয়াবাহ ধ্বংসলীলা সংগঠিত হয়েছিল তার মধ্যে তাতার জাতির আক্রমণই অন্যতম।‘

মূলত বাগদাদ আক্রমণের পরে মুসলমানদের জ্ঞান বিজ্ঞানে অবদান ক্রমাগত হ্রাস পায়। পতন হয় মধ্য এশিয়ার। বন্ধুরা আমরা তাই এই কারনে দেখতে পাই না জ্ঞানে বিজ্ঞানে এশিয়ানদের অনেক বড় সব অবদান।

এসো এবার পুরো লেখাটা নিয়ে পর্যালোচনা করি। আগে কিছু কথা তোমাদের জেনে রাখা দরকার যে, আমরা সময়ে আমরা যখন ইতিহাস পড়তাম তখন স্কুলে একটা ইতিহাসের সংক্ষিপ্ত বিবরণ থাকত আর কলেজে উঠে পেতাম পুরো ইতিহাস। শত শত বছর কিন্তু এভাবেই চলেছে। কিন্তু তোমাদের এই সময়টা ভিন্ন। অন লাইনের কল্যাণে ছোট ছোট ছেলে মেয়েরা ইতিহাসের একই বিষয় নানান ভাবে জানার সুযোগ হচ্ছে আজ। ফলে কখনো কখনো নিজের ভিতরেও বিতর্ক বাড়ছে।

এবার আমি মূল পর্যালোচনায় আসি। আমি উপরে উল্লেখ করেছি বিশ লক্ষ  নগরবাসীর মধ্যে খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের একটা বড় অংশ এই হত্যাযজ্ঞ থেকে বেঁচে গিয়েছিল হালাকু খানের স্ত্রী ডোজুজ খাতুনের কারনে। হালাকু খানের স্ত্রী ডোজুজ খাতুন যদি প্রক্ষাপটে না থাকত তবে খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের ভাগ্য তাই হত যা সুন্নী মুসলমানদের ক্ষেত্রে হয়েছে। আর শিয়া মন্ত্রীদের নিজ রাষ্ট্রের সাথে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়ে মোঙ্গলদের সাথে যোগাযোগ যদি না থাকত তবে তাদের ভাগ্যেও তাই হত। বাগদাদ আক্রমণের আগে পারস্য আক্রমণে মোঙ্গলরা পারস্যের শিয়াদের হত্যা করে এসেছিল। মোঙ্গলরা কাউকে রেহাই দেয় না, এটি তাদের চরিত্র। তাহলে পুরো ঘটনায় মূল ব্যর্থতা কার? ব্যর্থতা মুলত খলিফার। অথচ আমরা সেই বাগদাদের আব্বাসীয় খলিফা হারুন-অর-রশীদ,আল মনসুর, আল মামুন রাজ্যের কল্যাণে ঘুরে বেড়াত, কিসে রাজ্যের মঙ্গল হয় এই নিয়ে তারা ছিলেন বলে বাগদাদ আরব্য রজনীর দেশ হতে পেরেছিল। বাগদাদ তৈরি হয়েছিল বহু শ্রমে আর ঘামে। অথচ আমরা জানলাম সেই আব্বাসীয় বংশের খলিফা হয়েও নখ বিহীন সিংহ খলিফা আল  মুস্তাসিম বিল্লাহ ছিল আমোদ প্রমোদে ব্যস্ত। সে একজন খলিফা বা রাজা এ নিয়ে দায়িত্বশীল কোন আচরণ তার ছিল না। সৈনিকরা তার সময় বেতন ঠিক মত পেত না অথচ রাজকোষে অর্থের কোন ধরনের অভাব ছিল না। এই উঁচু একটি রাষ্ট্রের সেনাবাহিনীর দরকারি বা কি এমন অভেলা তাদের মধ্যে কাজ করছিল। খলিফার কোন গুপ্ত অনুচর বা নিজের গুপ্ত বাহিনী ছিল না। ছিল না বলে শিয়া মন্ত্রী যে তথ্য মোঙ্গলদের নিকট পাঠাচ্ছিল বা রাষ্ট্রের সাথে ষড়যন্ত্রে মেতে ছিল তা তিনি জানাতে পারেননি। এমনকি মোঙ্গল্রা যখন অপমান জনক চিঠি পাঠায় তারপরেও সে বলতে গেলে অর্ধেক সৈন্য মোতয়ায়ন করে শিয়া মন্ত্রীর পরামর্শে। মোঙ্গলরা যখন পারাস্য আক্রমণে তার সাহায্য চেয়ে ব্যর্থ হয়েছিল। তারপর যখন মোঙ্গলরা বাগদাদের দিকে এগিয়ে আসছিল তখন পার্শ্ববর্তী দেশগুলোর সাহায্য চাওয়া উচিত ছিল। সামরিক বিষয়ে আরো শক্ত পদক্ষেপের দরকার ছিল। খলিফার তো স্পষ্ট করে জানার কথা মোঙ্গল কারা। হালাকু খানের দাদা চেঙ্গিস খানের হিংস্রতা না জানার কথা তো না। মোঙ্গলরা ছিল অপ্রতিরোধ্য আর বাগদাদের সেনাবাহিনী ভঙ্গুর অবস্থার বিবেচনায় খলিফাকে আর অনেক দায়িত্ববান হওয়া উচিত ছিল।

বন্ধুরা মনে রাখবে, অন্যকে দোষারোপ করে কোন সমস্যা থেকে বের হওয়া মানে নিজের বা নিজেদের ভুলগুলো এড়িয়ে যাওয়ার মানুষিকতা থাকে। তাতে সাময়িক লাভ হলেও অন্য সময় এর খেসারত দিতে হয়। বিষয়টা এমন যে, ‘সে খারাপ’ বলা মানে হচ্ছে আমি খুব ভালো। এটি খুব পুরানো একটা খেলা কিন্তু এই খেলার ভিতরে আগুন লুকিয়ে থাকে যা এক সময় নিজেকে পুড়িয়ে দেয়। যাই হোক, বন্ধুরা আমরা এই ইতিহাস থেকে কি শিখলাম, সেটি ভেবে বের করবে। তবে আমি আমারটা বলি, আমি শিখলাম, যাকে যখন যে দায়িত্ব দেওয়া হয় বা আমরা যারা যে দায়িত্ব নিব সেটি ফেলে অন্য কাজে মন দিব না। নিজ দায়িত্ব বা নিজের কাজ কখনো অন্যজনকে দিয়ে হয়না বা নিজে দায়িত্ব নিয়ে সেই দায়িত্ব অন্যকে দিয়ে করাতে চাইলে এর ফলাফল সব সময় মন্দ। কারন এতে যেটি হয় যখন কোন সমস্যা এসে দাঁড়ায় তখন সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়া যায় না বা ভুল সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়ে যায়। এতে নিজের আর চারপাশের অনেকের অনেক ক্ষতি হয়ে যেতেও পারে। তাই আমরা যে দায়িত্ব নিব সেই দায়িত্ব বা কাজকেই ভালোবাসব। তবে তাতে আমরা প্রাণ খুজে পাব, মনযোগী হতে পারব। আর সেই কাজে মায়া আসবে, মায়া বাড়বে। মায়া ছাড়া কোন কাজ সফল হয়না। মায়াই নিজের ভিতর যন্ত্রশীলের মানুষিকতা তৈরি করে। আর যত্ন ছাড়া কোন জিনিস বা বিষয় টেকসই হয় না। জগতে যত্ন আর মায়াই যে কোন কাজকে উঁচুতে নিয়ে যেতে পারে। এখানে একটি বড় বিষয় কিন্তু আমরা শিখে নিলাম বা জেনে নিলাম তা অন্তঃকোন্দলই হচ্ছে সব পারিবারিক সর্বনাশের মুল। তাই একে কখনো প্রশয় দেওয়া যাবে না। যে কম উপায় আমাদের ঝগড়া এড়াতে হবে। তবেই আমরা নিজেদের বেশি বেশি শ্রদ্ধা করতে পারব।

এই লিংকে থেকে সেই সময়ের বাগদাদ সমন্ধে আরো বেশি জানতে পারবে। এখানে বেশ চমৎকার কিছু তথ্য আছে। https://www.youtube.com/watch?v=ImqEg9zRyrQ

September 24, 2019 0 comment
0 FacebookTwitterPinterestEmail
শিশুতোষ গল্প

বনের আজব রাজা

by Admin September 24, 2019
written by Admin

মোঃ নোমান সরকার

এক বনে এক বাঘ ছিল। সে ছিল বনেরর রাজা। রাজা ছিল খুবই শান্ত স্বভাবের। বলতে গেলে তার কোন রাগ ছিলনা। তাই বনের সব পশুরা তাকে একজন ভাল বনের রাজা হিসাবে জানত। কারনে অকারনে সবাই রাজার কাছে আসত, গল্প করে যেত। প

একদিন অন্য বন থেকে আরেকটি বাঘ এই বনে এল। এসে তো প্রচন্ড অবাক ! এই বনের কেউ তাকে দেখে ভয় পাচ্ছে না! একদমই না ! অদ্ভুদ ব্যাপার তো! যেদিকে যায়, যে প্রানীর সাথে দেখা হয় যেন কেউ তাকে দেখেইনি ! এত বড় সাহস ! সে প্রচন্ড রেগে গেল। রেগে হুংকার দিল। সেই শব্দে সবাই চমকে গেল ! ভড়কে গেল! ছুটে পালাল। তাই দেখে বাঘটা মনে মনে হেসেই খুন।

অন্য বনের বাঘের চিৎকারে বনের রাজা তাকে দৌড়ে এসে দেখতে এল । দেখতে এসে মুখমুখি হতেই অবাক দৃষ্টিতে তাকিয়ে রইল ! তারপর চারপাশে হেঁটে বেড়াল । তখন সেই অন্য বনের বাঘ বিরক্ত আর রাগী গলায় বলল,’তুমি এই বনের কে হে ? বিড়াল নাকি ?’

বনের রাজা তখন বাঘটার দিকে কঠিন দৃষ্টিতে তাকাল । তারপর হুংকার দিল । যেন মেঘ গর্জে উঠল । সেই শব্দে অন্য বনের বাঘটা ভয়ে , ‘বাবরে!’ বলে দৌড়ে ছুটে পালাল ।

রাজার চেনা হুংকারে সবাই ছুটে এল । এসে তারা সেই বাঘটাকে পালিয়ে যেতে দেখল। সবাই তখন এসে রাজার গায়ের সাথে গা ঘেষতে লাগল। আর আনন্দ করতে লাগল। করতেই লাগল !

(২০১১ সালের লেখা গল্পটা আমি বলেছিলাম তাসিনকে। সে আমার ছোট ভায়ের ছেল, যার বয়স তখন ছিল তিন। সে প্রাই এসে বলত , ‘চাচ্চু একতা গল্প বলতো?’ আমি হাসতে হাসতে বলি ,কি ধরনের গল্প বলব,কার গল্প বলব ?’ ও আগ্রহ নিয়ে লাফাতে লাফাতে বলেছিল , ‘বাঘের !’

September 24, 2019 0 comment
0 FacebookTwitterPinterestEmail
কিশোর গল্প

পচা কথা

by Admin September 9, 2019
written by Admin

মোঃ নোমান সরকার

হরিণ একটা বিচার নিয়ে এলো বনের রাজা সিংহের কাছে। বনের রাজা সিংহকে সবাই সুবিচারক হিসাবেই জানে।

হরিণের অভিযোগ সাপের বিরুদ্ধে। সাপ বিশ্রী ভাষায় কথা বলে। কথা বলয়ার সময় ফোঁস ফোঁস করে গালি দেয়। খুবই বাজে সব গালি। যে কথায় কথায় অন্যকে গালি দিতেই থাকে। এত নোংরা সেই সব গালি যে শুনতে কষ্ট হয়। এই সব সহ্য করাটাই মুসকিল হয়ে গেছে। সাপের এই পচা কথা বলায় সবার কম বেশি এতে ক্ষতি হচ্ছে। শিশুরা খারাপ কথা শিখেছে। খারাপ গালি শিখছে। এতে বনের পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে। আর যে পচা ভাষায় কথা বলে, সে তো কারো বন্ধু হতে পারে না।

বনের রাজা সিংহ সব শুনলেন। তারপর খানিকটা হেসে বললেন, সাপ বিশ্রী ভাষায় কথা বলে, সেই বিচার হবে। কিন্তু তোমার মুখটা কেন মলিন হয়ে আছে। তুমি হরিণ। মলিনতা কি তোমাকে মানায়? আমি তো সব সময় হাসি খুশি থাক। আমার রাজ্যের প্রত্যেককে আমিবলি, নিজেকে হরিণ ভাবতে, হরিণের মতন হাসিখুশি থাকতে। আর সেই তুমি কিনা নিজেকে মলিন হয়ে আছ।’

এই কথায় হরিণ দ্রুত নিজেকে বদলে নিয়ে হেসে উঠল। তখন রাজা বলল, ‘দেখতো আকাশটাকে। তুমি হাসতেই আকাশ কি ঝকঝকে হয়ে গেল।’ সেই কথা শুনে হরিণ আকাশের দিকে তাকাল। তার হাসিটা আরো বেড়ে গেল।

বনের রাজা সিংহের সাথে আরো কিছু কথা হল। রাজা হরিণকে কিছু দিন অপেক্ষা করতে বললেন আর একটা তারিখ  দিয়ে হরিণ, সাপকে আসতে বললেন, আর বনের সবাইকে।

 অনেক দিন পর একটা  অভিযোগ এসেছে। বহুকাল এই বনে কেউ কারো বিরুদ্ধে কথা বলেনি। কোন অভিযোগ নেই। সবাই শান্তিতে এই বনে বসবাস করে।

শেষ বিচারটা হয়েছিল মাছির বিরুদ্ধে। হাতি মাছির বিরুদ্ধে অভিযোগ এনেছিল,  মাছি কেবলই সমালোচনা করে। কথায় কথায় অন্যের দোষ ধরে আর সমালোচনা করে। এই নিয়ে সারাক্ষণ ভন ভন করে। ভনভন করতে করতে এর কাছে যায়, তার কাছে যায়। এর কথা তাকে বলে। তার কথা আরেকজনকে বলে বেড়ায়। ফলে ঝগড়া লেগে গিয়েছিল অনেকবার। শেষে একদিন এই নিয়ে হাতি অভিযোগ তুলেছিল রাজার কাছে। অভিযোগ পেয়ে বনের রাজা সিংহ অনেক ভাবলেন। তার দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতায় তিনি বুঝলেন আর ভেবে দেখলেন, দুষ্ট কখনো ভাল হয় না। আর মন্দকে ভাল করতে গেলে যে ভালো, মন্দের সাথে মিশে  সেও মন্দ হয়ে যায়। তাকে এড়িয়ে যাওয়াটাই বুদ্ধিমানের কাজ। তবুও রাজা মাছিকে সুযোগ দিল। কিন্তু সুযোগ পেয়ে লাভ হয় না। মাছি যেমন ছিল তেমনই রইল।

সিংহ এরপরে রায় দিল,’ তাকে সবাই এড়িয়ে চলবে।’ আর সেই থেকে মাছি এলেই সবাই তাকে তাড়ায়। সে কারো গায়ে বসে আরাম পায় না। সবাই রেগে তাকে তাড়িয়েই দেয়। তাই সে পালিয়েই  থাকে। কারো সামনে সহজে আসে না।

অবশেষে সাপের বিচারের সেই তারিখ এলো। সকাল বেলা রাজসভার শুরু। হরিণ আর সাপ এসেছে। এসেছে প্রত্যেক প্রাণী। অভিযোগ খুবই গুরুতর।

বনের রাজা সাপকে প্রশ্ন করলেন, কি হে এত অভিযোগ কেন তোমার বিরুদ্ধে?’

সাপ উত্তর দিল, ‘আমার বিরুদ্ধে অভিযোগ সবই মিথ্যা। তবে হ্যা আমার রাগ বেশি। তাই কিছু কথা রেগে গিয়ে বলে ফেলি। এর বেশি কিছু না।‘   

সিংহ হাসলেন। তারপর হেসে হেসে বললেন, ‘তুমি তো কথা বলছ গুছিয়ে, সুন্দর ভাবেই। তাই না?’

সাপ বলল, ‘এই ইতরগুলো আমার বিরুদ্ধে নালিশ করেছে। এরা উল্টো আমাকে যা ইচ্ছা তাই বলে। এদের সবগুলোর উপর প্রতিশোধ নিব। সবগুলোকে কামড় দিয়ে কাটব।’

সিংহ গম্ভীর হয়ে বলল,’আরে তুমি যে ভুলেই গেছ তুমি রাজার সামনে দাঁড়িয়ে। তুমি আচ্ছা পাঁজি তো! তুমি রাজার সামনে কথাগুলো বলছ!’

সাপ উত্তেজিত গলায় বলল, ‘আমার রাগ বেশি। রেগে গেলে আমি নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারি না। তাই তাদের গালি দেই। গালি দিতে দিতে আমি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলি।’

রাজা বললেন, সেটা নিয়ন্ত্রণ করার জাদু আমার কাছে আছে। তুমি এই সব নিয়ে ভেব না। সেই জাদু দেখার পর তুমিও নিয়ন্ত্রত হবে।’

বনের রাজা বললেন, এই যে তুমি আমার সামনেই তাদের প্রতিশোধের কথা বললে, এতে এখানে উপস্থিত সবাই আঘাত পেয়েছে বা পাচ্ছে, এটা কি তোমার মনে হচ্ছে না? এমন করে কথা তমাকে বললে তুমি কি আঘর পাবে না, তুমি কি কষ্ট পাবে না? সেটা কি তোমার ভালো লাগবে?

সাপ চুপ করে আছে।

রাজা বলল, ‘তুমি কি মনে কর না, এগুলো পচা কথা?’

সাপ চুপ করে আছে।

বনের রাজা বলল, তোমার পচা কথায় কেউ আঘাত পাচ্ছে, কষ্ট পাচ্ছে, এটা যে বড় এক বিষয় তা কি তোমার মনে হচ্ছে না? দেখত তাকিয়ে প্রত্যেকের চেহারার দিকে?

সাপ কারো দিকে তাকাল না।

বনের রাজা বলল, কথা দিয়ে বন্ধুত্ব হয়। আবার কথা দিয়েই বন্ধুত্ব নষ্ট হয়। কথা দিয়ে কাউকে হাসানো যায়। আবার কথা দিয়েই কাউকে আঘাত করা যায়। এর মানে কি? এর মানে হল, কথা বলার সময় আমরা কোন কোন শব্দ বেছে নিব তার উপর কথার সৌন্দর্য বাড়ে বা কমে। আর তুমি কথা বলার সময় শক্ত শব্দগুলো বেছে নাও, খারাপ শব্দগুলো বেছে নাও। ফলে তোমার কথায় সবাই মন খারাপ করে, কেউ আঘাত পায়। তুমি কি তোমাকে বদলাতে চাও না?

সাপ কোন কথা বলল না।

বনের রাজা বলল, তুমি যদি নিজেকে সবার বন্ধু মনে কর, তবে সবার কাছে ক্ষমা চাও। ভুল হতেই পারে। কি ভুল হতে পারে না?

সাপ কোন কথা বলল না। তাকাল না।

রাজা বলল, ভুল করা থেকে সব শিখা যায়। নিজেকে বদলে নেওয়া যায়। আর প্রমিজ কর, নিজের কথা বলাটাকে ঠিক করে নিবে। মন্দ শব্দগুলো এড়িয়ে যাবে। বকা দিবে না। পচা কথা বলবে না। দেখবে তখন সবাই তোমার বন্ধু হয়ে যাবে।

সাপ এবার রাগী গলায় বলল, আমি কাউকে পচা কথা বলি না, কষ্ট দেই না। আঘাত করে কথা বলি না। হরিণ আমার নামে মিথ্যা অপবাদ দিচ্ছে।’

বনের রাজা সিংহ একটা হুংকার দিল। সাপ সহ সব প্রানীরা ভয় পেয়ে গেল। সিংহ বলল,’ তুমি তো কেবল মন্দ না। তুমি মিথ্যাবাদীও। তোমার বিরুদ্ধে অভিযোগ। আর তুমি উল্টো অন্যদের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলছ! ভয় দেখাচ্ছ, শাসাচ্ছ যে তাদের কামড় দিয়ে কাটবে। আর সেটা বনের রাজার সামনে। তুমি বলছ, তোমার বিরুদ্ধে মিথ্যা বলছে? মিথ্যা অভিযোগ করছে? তুমি কি মনে কর, আমি অভিযোগ শুনেই তোমাকে ডেকেছি। আমি বনের প্রায় সবার কাছে তোমার বিষয় খোঁজ নিয়েছি।’ বলে রাজা থামলেন।

চারদিকে সবাই চুপ। কোথাও কোন শব্দ নেই। একটা নিরবতা গ্রাস করেছে সবাইকে। সেদিকে তাকিয়ে বনের রাজা নিজেকে সামলে নিয়ে বললেন,’যে মিথ্যা বলে, সে তো যে কোন খারাপ কাজ করতে পারে। অন্যকে কষ্ট দিতে পারে। কষ্ট দিয়ে সে বলতেই পারে, আমি এই কাজ করিনি। এতে ঘটনা খারাপের দিকে যায়। ঝামেলা বাড়ে।  সমাজ নষ্ট হয়। কিন্তু যে সত্যবাদী মিথ্যা এড়িয়ে চলে। সে তার দোষ বা ভুল স্বীকার করে। এতে সহজ হয়ে যায় সবকিছুই।‘

সাপ বলল, ‘রাজা আপনি আমাকে ভুল বুঝেছেন। আমি মিথ্যাবাদী নই।‘    

রাজা হুংকার দিয়ে বলল, ‘ অভিযোগ সত্য কিনা তা যাচাই করতে বনের  সবার সাথে কথা বলেছি। সবাই একই কথাই বলেছে। রাজ্যের অধিকাংশই তোমার এই গালি দিবার বিষয় আর বিশ্রী ভাবে কথা বলার বিষয়টা আমাকে জানিয়েছেন।তুমি সারাক্ষণ পচা কথা বল। এবার বল মিথ্যা কে বলছে? তুমি নাকি বাকী সবাই? ‘

চারদিকের নিরবতা আরো বাড়ল। সবাই কঠিন শাস্তি আর ন্যায় বিচারের জন্য অপেক্ষা করছে।

বনের রাজা সিংহ আরো জোরে তার রায় ঘোষণা করল, ‘সাপকে সবাই এড়িয়ে চল।’

আর সেই থেকে সাপ একাই চলে। কেউ তার সাথে কথা বলে না। তাকে দেখেও না দেখার ভান করে। তবুও সাপ বিশ্রী ভাবে কথা বলা ছাড়তে পারেনি। পচা কথা সে বলেই যায়। সে ফোঁস ফোঁস করে গালি দেয় সবাইকে দূর থেকে।

সে নিজেও বুঝে, যে নিজেকে মন্দ বানায় সে মন্দই থাকে। সে কারো বন্ধু হতে পারে না।

September 9, 2019 0 comment
0 FacebookTwitterPinterestEmail
শিশুতোষ গল্প

সব অংক

by Admin September 9, 2019
written by Admin

মোঃ নোমান সরকার

শিয়াল বলল, ‘তুমি অংক বুঝ?’

ইঁদুর মাথা দুলিয়ে বলল, ‘না। অংক তো বুঝি না।’

শিয়াল বলল, ‘তুমি একটা গরু।’

ইঁদুর চোখ নত করল। সে একটা ইঁদুর। সে কেন গরু হতে যাবে! কিন্তু মুখে কিছু বলল না। শিক্ষকের সাথে বেয়াদবি করা যায় না। শিক্ষক কেন কার সাথেই বেয়াদবি করা যায় না।

শিয়াল বলল, ‘তুমি অংকের কিছু বুঝ না? ‘

ইঁদুর বলল, ‘কিছু বুঝি, খুবই সামান্য।’

শিয়াল বলল, ‘তুমি কি জানো না, অংকই সব। এই যে দুনিয়া সব কিছু অংক দিয়ে আঁকা। বাতাস, পানি, আলো, আমি, তুমি, সে, সবই। মাথার উপরে সূর্যটার দিকে তাকাও তো?’

ইঁদুর সূর্যের দিকে তাকাল।

শিয়াল বলল, ‘সূর্য যদি এর চেয়ে আরো অনেক কাছে হত, সব পুড়ে শেষ হয়ে যেত। আবার যদি বেশি দূরে হত, সব বরফে ঠাণ্ডা হয়ে যেত। পৃথিবীতে প্রাণের কোন অস্তিত্ব থাকত না। আমরা এখন অংক দিয়ে বুঝি যিনি আমাদের বানিয়েছেন তিনি আমাদেরে মুগ্ধ হতেই এমন কাজ করেছেন। কিন্তু আমরা জানি না বা এই বিষয়টি নিয়ে ভাবি না বলেই খেয়াল করি না বা বুঝি না। যিনি আমাদের বানিয়েছেন, তিনি সবকিছুই অংক দিয়ে বানিয়েছেন। তাই অংকের চেয়ে মজার এই দুনিয়ায় আর কিছু নেই। কিচ্ছু নেই।’

ইঁদুর মাথা চুলকালো। তার মাথায় কিছুই ঢুকেনি।

শিয়াল বলল, ‘তুমি কিছুই বুঝনি! তাই না?’

ইঁদুর অযথা হাসার চেষ্টা করে বলল, ‘আমি একটু পানি পান করব।’

শিয়াল বলল, পান কর, পান কর। পানি পান কর। যত ইচ্ছে পানি পান কর। পানি পানে বুদ্ধি বাড়ে। আমি সারা সকাল অংকের গুরুত্ব বুঝিয়েছি কিন্তু গরু কিচ্ছুই বুঝে না।’

ইঁদুর পিঠে ঝোলানো ব্যাগ থেকে পানির বোতল টেনে এনে। সবটুকু পানি খেয়ে নিল। শিক্ষক যখন বলেছেন, যত ইচ্ছে পানি পান করতে। তখন সবটুকু পান করাই ভালো।  ইঁদুর এক ঢোকে সবটুকু পানি পান করল।

শিয়াল অন্য দিকে তাকিয়ে আবার বলল,’ গরু!’

ইঁদুরের খুব লাগল। আচ্ছা পন্ডিত মশাই গরু নামে তাকে ডাকে কেন? তার কান্না পেয়ে গেল।

শিয়াল বলল, ‘তুমি কি আমার কথায় মজা পাও না? তাই না? আচ্ছা, আজ থাক। তুমি চলে যাও। আজ আর পড়াব না।’

ইঁদুর চমকে উঠল। ‘না না আমি পড়ব। না পড়লে আমি তো বড় হব না। আমি পড়তে চাই।’  

শিয়াল বলল, ‘আগ্রহ না থাকলে এই পৃথিবীতে কিছুই শিখা যায় না। বড় জোর মুখস্ত করা যায়, মুখস্ত করে পাশ করা যায়। কিন্তু মুখস্ত তো শিক্ষা না। আর অংক মুখস্তের বিষয় না। এটা বুঝা আর শিখার বিষয়। না বুঝলে, না শিখলে কোনই কাজে আসবে না। আমি তোমার মায়ের  সাথে কথা বলব যেন তিনি তোমার জন্য অন্য টিচার দেখে। আমার কাছে মুখস্ত করে অংক পড়া চলবে না।’

ইঁদুর বলল, ‘আমি পড়তে চাই। আমি যে অনেক বোকা তা তো সবাই জানে।  আপনিও জানেন। কিন্তু আমি পাড়ব। আমি অনেক বড় হতে চাই, হাতির চেয়েও  বড়।’  

শিয়াল বলল, ‘আচ্ছা ঠিক আছে তোমাকে বাদ দিলাম না। তবে আজ যাও।’  

ইঁদুর শিয়ালের বাড়ি থেকে বেড় হয়ে আসলো। বাড়ির সামনের মাঠটায় হাঁটতে লাগল এলোমেলো ভাবে। কেন সে এত বোকা! পড়ালেখা ভালো লাগে না। কেন সে শিক্ষকদের কথা বুঝতে পারে না। তার অস্থির লাগল। সে মাঠের ভিতর এলোমেলো হাঁটতেই লাগল।

হাঁটতে হাঁটতে সে মাঠে একটা ছোট্ট বল পড়ে থাকতে দেখল। তখনই সে দেখল বলটা থেকে বেশ দূরে একটা আম গাছ।  


ইঁদুর বল নিয়ে আম গাছটার বড় ডালটার দিকে একটা কিক করতেই  বলটা গাছের  বড় ডালে গিয়ে লাগল।  আর তখনই মনে হলো সব অংক। তার চোখ দূরত্ব মেপে নিতে পেরেছে বলেই বলটা সেই ডালে লেগেছে। সে বলটা আবার আগের জায়গায়  নিয়ে এলো। এবার ঠিক করল সে বড় ডালের পাশে ছোট ডালে বলটা লাগাবে। সে ভাল  করে তাকিয়ে একটা হিসাব কষে নিয়ে মারল কিক। এবার বলটা সত্যি সত্যি ছোট  ডালে লাগল।  

সে খানিকটা হাঁপাচ্ছে। তার ঠান্ডা লাগায় শ্বাস নিতে আর ছাড়তে কষ্ট হচ্ছে। গেল বছরও তার ঠাণ্ডা লেগেছিল। ডাক্তার বলেছিল, তুমি একদম ঠান্ডা পানি খাবে না। ঠান্ডা পানির কারনে ছোটদের শ্বাস কষ্ট হতে পারে। আর শ্বাসের একটা অংকের হিসাব আছে। এটা কম বেশি হলে যে কেউ অসুস্থ হয়ে যায়। আর শ্বাসের সমস্যা হলে বড় রোগ হয়। শ্বাস কষ্ট হচ্ছে সব রোগের মা। এর জন্যই গরম পানি খাওয়ার অভ্যাস করতে হবে। সুপ খেতে হবে। রাতে গরম পানি পান কারার অভ্যাস করতে হবে। এতে গলাটাও আরাম পাবে।

ইঁদুর বলটা আবার কাছে নিল। অবাক হয়ে াবতে লাগল, যিনি  আমাদের বানিয়েছেন, তিনি আমাদের কতই বুদ্ধির সাথে বানিয়েছেন। আর কত বুদ্ধিই না আমাদের দিয়েছেন। আর এইসব নিয়ে আমরা ভাবি না! কেন ভাবি না? কি আশ্চর্য, কি আশ্চর্য!  

ইঁদুর দৌড়াল শিয়াল পন্ডিতের বাড়িতে। দৌড়ে আসাতে সে হাঁপাচ্ছে। হাঁপাতে হাঁপাতে সে শিয়াল পন্ডিতের কাছে পৌছাল আর বলল, সব অংক, আমি বুঝে গেছি, আসলে সব অংক। সবই অংক। এখন আমাকে অংকে আর কেউ হারাতে পারবে না।

September 9, 2019 0 comment
0 FacebookTwitterPinterestEmail
কিশোর গল্পগল্প

কোকিল আর এক কাক

by Admin September 2, 2019
written by Admin

মোঃ নোমান সরকার

খুব বিরক্ত হয়ে ঘাড় বাকিয়ে ছোট কোকিলটা বড় গাছের নিচে নাপিতের লাগানো নতুন দোকানটা দেখলো। সকাল থেকে বসে আছে সে গাছের ডালে। খাবার খুঁজতে বের হয়নি। সকালে এক নাপিত ঠুক ঠুক করে গাছে পেরেক মেরে যখন বড় একটা আয়না ঝুলালো, তা দেখে খুব মন খারাপ হলো তার। গাছের প্রতি মায়া নেই, এ কেমন মানুষ!

মানুষদের অত্যাচারে প্রতিদিন পাখিরা এই গ্রাম ছাড়ছে। গ্রাম থেকে প্রতিদিনই গাছ আর পাখি, দুইটি অদৃশ্য হচ্ছে। কেউ না কেউ গাছ কাটছে । আর সেই সব গাছের পাখিরা শোকে শোকে গ্রাম ছেড়ে যাচ্ছে। পাখিরা একটা মানুষও পেল না যে রুখে দাঁড়ায়, বাঁধা দেয় গাছ কাটায়! গাছ মানুষেরও বন্ধু, সে কথা মানুষ একেবারেই ভুলে গেছে। এই কথা প্রতিদিন আলোচনা হয় পাখিদের ভিতর। কিন্তু কিভাবে সেই সব কথা জানাবে মানুষকে!

পাশের গাছটা গত সপ্তাহে কাটা হয়েছে । কবে কখন এই গাছ কেটে ফেলে তা নিয়ে দুশ্চিন্তায় ছিল এই গাছের পাখিরা ! সেই থেকে এক এক করে এই গাছের পাখিরাও চলে গেছে । শুধু ছোট কোকিল যায়নি। বয়সে সে অনেক ছোট ,অনেক বেশি উড়তে হলে কষ্ট হবে। তাই তার মা বলে গেছে , ‘তুমি তো ছোট ,তাই নতুন বাসা খুঁজে বের করার মতন কষ্ট করার তোমার প্রয়োজন নেই। আবার , বয়স এতটাও কম না যে ,আমার সাহায্য তোমার দরকার হবে। তাই তুমি এখানেই থাকো। খুব বেশি একটা দূরে যেও না। কাছাকাছি এলাকা থেকে খাবার সংগ্রহ করো। ভালো আর সুবিধা মতন বাসা পেলে তোমাকে নিয়ে যাব। নিজের দিকে খেয়াল রেখো আর যত্ন করো।’

সেই থেকে ছোট কোকিলটা একা থাকে এই গাছে।

সকাল থেকে সে দেখতে লাগল নাপিতের দোকান সাজানো । লোকজনের আনাগোনা । মন তার খুব খারাপ হয়েছে। তবে গাছ কেটে ফেলার চেয়ে এটা ভালো। এসব ভেবে ভেবে আর এসব শব্দ করে করে নিজেকে এটা সেটা বলে শুনিয়ে যাচ্ছে। এভাবেই সকাল পেরিয়ে দুপুর হলো। লোকজন একেবারেই কমে গেল। কোকিলটা এক সময় দেখল আশেপাশে নাপিত ছাড়া আর কেউ নেই। এর একটু পরে নাপিতও দোকানের পাশে ঘুমিয়ে গেল। অনেক ভেবে কোকিলটা নিচে নেমে এলো , নাপিতের দোকানে। দোকানের কাছে আসতেই কোকিলের চোখে পড়ল আয়নায়। নিজেকে আয়নায় দেখে ঘাবড়ে গেল ! ভাবল অন্য কোন কোকিল ! আরে এই কোকিলটা , এখানে কখন এলো ! তারপর একটু পরেই বুঝল , এটা সে নিজেই ! কোকিলটা আরেক বার ঘুমন্ত নাপিতকে দেখল। তারপর চারপাশ দেখে আয়নার কাছাকাছি উড়ে এসে বসলো। তারপর নিজেকে দেখ্লো। দেখে অবাক বিস্ময়ে তাকিয়ে রইল! আমি এত সুন্দর! এত সুন্দর! আরে কি আশ্চর্য ব্যাপার , আমি এতই সুন্দর !

সেই দিন থেকে ছোট কোকিল রোজ কয়েকবার উড়ে যায় আয়নার কাছ দিয়ে। আর চারপাশে কেউ না থাকলে উড়ে এসে বসে। নিজেকে দেখে। গর্বিত চাহনিতে নিজেকে দেখতেই থাকে। যেন নেশা কাটেনা এমনি ভাবে।

এভাবেই চলল বেশ কয়েকদিন । একদিন কোকিল নিচের এক ডালে বসে আছে। তখন একটা কাক এসে গাছের ডালে বসল। কাককে দেখতেই কোকিল কিছুটা রেগে বলে উঠল ,’একটু দূরে গিয়ে বসো, কি বিচ্ছিরি দেখতে !’

এ কথায় কাকের মন খারাপ হলো। তবে বেশি একটা না। কারন এমন কথা সে আগেও অনেক বার শুনেছে। তার জন্য এটা নতুন কিছু না । কাকটা বিরক্ত হয়ে বলল , ‘ তা ভাই ,তুমি নিজেকে নিশ্চয় অনেক সুন্দর ভাবছ ? বড় কিছু ভেবে নিচ্ছ?’

কোকিল বিস্ময়ের সাথে বলে উঠল , ‘ তুমি কি আমাকে বলছ ! আমাকে ? আমাকে বলছ কি ?’

কাক এদিক সেদিক তাকিয়ে কোকিলের দিকে তাকাল এবার । তারপর চাবিয়ে চাবিয়ে , ভেঙ্গে ভেঙ্গে বলল,‘এখানে সম্ভবত আর কেউ তো নেই !’

কোকিলের ভীষণ মন খারাপ হল । মন খারাপ গলায় বলল, ‘ব্যাঙ্গ ছলে বললে বলে মনে হলো !’

কাক এবার শান্ত গলায় বলল,‘তোমার কি মনে হয় , আমি মিথ্যে কিছু কি বলেছি? ‘

কোকিল উত্তেজিত গলায় বলল,‘তোমার চোখে কোন অসুখ নেই তো।’

কাক নিরশ গলায় বলল,‘নাতো!’

কোকিল অবাক আর নীচু গলায় বলল,‘তবে তো তুমি আমাকে ভা্লো করে দেখনি ! ‘

‘ হতে পারে আমি তোমাকে ভালো করে দেখিনি । ঠিক আছে ,আমি তোমাকে দেখে নেই তবে। ‘

কোকিল বলল , ‘আমাদের এই এলাকায় যত পাখি ছিল ,আমি তাদের মধ্যে সবচেয়ে সুন্দর! যদিও ইদানিং আমি আমার মা কে ছাড়া চড়ুইদের আর অল্প কিছু পাখি ছাড়া কাউকে দেখিনি। তারপরও আমি নিশ্চিত , আমি দেখতে কল্পনাতীত সুন্দর!’

কাক কোকিলের কথায় অনেক বিরক্ত হলো। তারপরও অনেকখন কাক কোকিলকে দেখতে লাগল।

কাকের কথায় কোকিলের মন অনেক খারাপ হয়ে গিয়েছিল। অসুন্দর কাক কি অদ্ভুত কথা বলে ! সে নাকি সুন্দর না! এবার নিশ্চয় ভালো করে দেখে , ঠিক করে বলবে ! কি অদ্ভুত সুন্দর আমি ! কি অপূর্ব সুন্দর চোখ ! কি অপূর্ব সুন্দর ঠোট ! কি অদ্ভুত সুন্দর তার ডানা ,আর ডানা মেলে ধরা ! নিজেকে সে খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে দেখেছে অজস্রবার।

কাক কয়েক পা কোকিলের সামনে এগিয়ে এলো। কাক আনন্দহীন গলায় বলল , আমি তো বলিনি , তুমি অসুন্দর। কিন্তু তুমি ততো সুন্দর নও। তোমার চেয়ে ঢের সুন্দর পাখিদের আমি দেখি প্রতিদিন। সে কথা যাক, তুমি ছোট একটা পাখি , সুন্দর নিয়ে তুমি এত মাথা ঘামাচ্ছ কেন ! এতো একটা ফালতু বিষয়! তোমার আচরণ কেমন সুন্দর, সেটাই তো বড় বিষয়।’

কোকিল অস্থির গলায় বলল,‘ কাক তুমি আমাকে খেপাচ্ছ ‘?

কাক অবাক হয়ে বলল,‘কেন কেন, তোমাকে খেপাতে যাব কেন?’

কোকিল রাগ আর অভিমান মিশানো স্বরে বলল ,‘বাহরে ,তুমি যে ভুল বকে যাচ্ছ !’

‘আমি ! আমি ভুল বলে যাচ্ছি মানে কি! আর ভুল বা কি বললাম!

কোকিল ভারী গলায় বলল,‘তুমি আমাকে অপমান করছো! আর আমি তোমাকে শুরুতে বলেছিলাম, একটু দূরে গিয়ে বসো , কি বিচ্ছিরি দেখতে! এটা বলাতে তুমি যা ইচ্ছে তাই বলছ আমাকে?’

কাক গম্ভীর গলায় বলল ,‘ না তো। তবে শব্দ উচ্চারণে সতর্ক থাকা ভালো। বিচ্ছিরি শব্দটার চেয়ে অসুন্দর শব্দটা অনেক শুনতে ভালো লাগে। বিচ্ছিরি শব্দটা বড় শক্ত। আমাকে অসুন্দর বললেই হত।’

‘কাকের কথায় কোকিল লজ্জা পেল । সে অনুতপ্ত গলায় বলল, তোমাকে আঘাত দেবার জন্য আমি দুঃখিত!’

কাকটা এবার হেসে ফেলে বলল , ‘ আরে আমি এ নিয়ে মন খারাপ করিনি। কারন তোমার আচরণ তোমাকে ছোট করবে। তোমার ভুল শব্দ চয়ন তোমার ক্ষতি করবে, আমাকে নয়। তবে এই ভালো যে তুমি বুঝতে পেরেছ, অনুতপ্ত হয়েছ। আচ্ছা এবার বল ,তুমি উড়তে পার কেমন?’

এই দুইদিনে দেখলাম ভালো উড়তে পারছি। কেন বলত?’

কাক বলল, ‘ছোটদের বেশি দূরে যেতে নাই । তবুও তুমি আমার সাথে যেতে পার। যেখানে গেলে তোমার সুন্দর আর অসুন্দর নিয়ে ভুল টা ভাঙ্গবে।’

কোকিল বিস্ময়ের সাথে বলল , ‘সত্যি কি তুমি বলতে চাচ্ছ ,আমি তেমন সুন্দর নই !’

কাক হেসে বলল ,আমি উড়ে যাচ্ছিলাম। তোমার অসম্ভব সুন্দর গলার স্বর শুনে এই ডালে বসেছিলাম। তুমি সুন্দর এবং প্রত্যেকেই সুন্দর।’

একটু থামল কাক। যেন কিসব ভাবছে। তারপর তেমনি হেসে বলল, চল , এই দুই গ্রাম পরে একটা জঙ্গল আছে। সেখানে চল যাই। সেখানে অনেক অনেক পাখিরা থাকে। এখানে নিরাপদ না। এই জায়গাটা আমার পছন্দ হচ্ছে না। আর মানুষের ভিতরে মায়া দয়া আগের মতন নেই। যার মায়া নেই, তার ভিতরটা শূন্য, কেবল সে বুঝতে পারে না। মানুষেরা ভয়ানক ভাবে বদলে যাচ্ছে। আহ! কেউ যদি তাদের বুঝাতে পারত!’

কোকিল বলল, তুমি তো ভারী সুন্দর করে কথা বলতে জানো!’

কাক বলল, একদিন তুমিও পারবে। আগে বড় হও। আর মায়া দিয়ে দেখ চারদিক। দেখবে সব আপন। সবই তোমার নিজের। মায়া তমার ভিতর বাসা বাঁধলেই তুমি যত্ন নিতে শিখবে, আদর করতে শিখবে, ভালোবাসতে শিখবে। আচ্ছা এবার আমার যাবার পালা। যদি সাহস কর ,তবে আমার পিছু নিতে পারো। তবে আমি তোমাকে জোর করব না। কারন জোর করে নিলে, পরে তুমি আমাকে ভুল বুঝতে পা্রো। কিছুখন ভেবে তারপর ঠিক করো বা আমি আগামী কাল আসব। তখন ঠিক করে নিও কি করবে।’

বেশ কিছুক্ষণ পাশে থেকে কাক উড়ে গেল। কোকিল কয়েক মুহূর্ত কিসব ভাবলো। তারপর উড়ে গেল কাকের পিছু পিছু।

তখন বিকাল । যখন ওরা জঙ্গলে পৌছালো। কোকিল বিস্ময়ে আর মুগ্ধতার সাথে দেখল, কত বিচিত্র সব ছোট বড় পাখি ! কি অবিশ্বাস্য সুন্দর সুন্দর রং তাদের ! কি অপূর্ব সুন্দর সুন্দর সেই সব পাখি ! আর নানান ধরনের ছোট বড় অসংখ্য গাছ । হতভাগা দুষ্ট মানুষ কি জানে এই গাছের কথা ! জানলে তো সর্বনাশ ! এখানেও তারা পৌছে যাবে, কেটে ফেলব সব গাছ! কোকিল ভয় পেল। তবে চারদিকে তাকাতে তাকাতে মানুষের কথা ভুলে যেতে লাগল। যেন মানুষ নিয়ে ভাবনাটা ভাবল বটে তবে জঙ্গলের সৌন্দর্য ওকে ভাসিয়ে নিয়ে গেল কয়েক মুহূর্ত পরেই।

সন্ধ্যা নেমে এলো। জঙ্গলের একটা গাছে কোকিল আর কাক আশ্রয় নিয়েছে । অচেনা জায়গার অন্ধকার কোকিলকে ভীত করতে পারেনি । তার মাথায় অনেক প্রশ্ন আর বিস্ময় নড়েচড়ে বেড়াতে লাগলো!

কোকিল চিন্তার জগতে ডুবে গেল। ভাবতে ভাবতে সে যেন হঠাৎ করে আবিস্কার করল, আমি সুন্দর বা কম সুন্দর, এসব ভাবনায় কি আসে যায় ! আমি তো আমাকে বানাইনি ! যা কিছু আমার বলে এতদিন ভেবেছি তাতো আসলে আমার নয়। আমার তো নয়! কেবল আমার কথা , কাজ আর আচরণ ছাড়া ! কাক দেখতে কতইনা অসুন্দর । অথচ সুন্দর করে কথা বলে। তবে তো সে ভালো। সে ভালো আমার চেয়ে । কারন আমি অসুন্দর করে ভাবি। বাজে বাজে শব্দে কথা বলি বা রেগে কথা বলি!

অন্ধকারে কাক প্রশ্ন করল , ‘ তুমি কি ভয় পাচ্ছ ?’

কোকিল অন্ধকারে কাক কে দেখতে পেল না । সে মৃদু হেসে বলল , ‘ না । ভয় কিসের! আমি ভাবছি ,আমি কি বোকা ছিলাম যে নিজেকে নিয়েই ভাবতে শিখেছিলাম। আমি আজ জেনেছি , নিজের দেখার মধ্যে বড় কোন আনন্দ নেই । নিজেরটা বড় করে ভাবার মধ্যে বড় কোন আনন্দ নেই। আনন্দ আসলে জানার মধ্যে, শিখার মধ্যে।’

কাক হেসে বলল , বাহ্যিক সৌন্দর্য হচ্ছে সৃষ্টকর্তার দান । আর অন্তরের সৌন্দর্য নিজের! বাহ্যিক সৌন্দর্য নিয়ে বড়াই করার কিছু নেই। এই যে তুমি সুন্দর সুন্দর পাখি দেখছ, তার মধ্যে বয়স্ক পাখিগুলোও দেখেছ। বয়স তাদের সৌন্দর্য কেড়ে নিয়েছে। এক সময় তোমার আমার সৌন্দর্যও কেড়ে নিবে। কিন্তু মনের যে শিক্ষা বা জ্ঞান তা কেউই কেড়ে নিতে পারবে না। একটু থমে কাক বলল , ‘এই যে বিশাল পৃথিবী তা আমাদের সব সময় জানায় , এসো , দেখো ! উপভোগ করো এই পৃথিবীর যত দুঃখ আর আনন্দগুলো তাই নিজের কথা নিয়ে পড়ে না থেকে উপরের আকাশটাকে মন ভরে দেখো!’

September 2, 2019 0 comment
0 FacebookTwitterPinterestEmail
গল্প

রাজা আর চোর

by Admin August 28, 2019
written by Admin

মোঃ নোমান সরকার

এক দেশে দুই জন যমজ যুবক ছিল । তার নাম ছিল জাহিন আর মাহিন। একদিন  তার দেশে অনেক দুর্ভিক্ষ দেখা দিল। তারা দুই ভাই একই জায়গায় চাকরি করত। আর একই সাথে তাদের চাকরি হারালো। একদিন দুইদিন করে অনেক দিন কেটে গেল কিন্তু কোন কাজ খুজে পেল না। অবশেষে তারা ঠিক করল , চুরি করবে।

এদিকে যায় , সেদিকে যায় । বুঝে উঠে পারল না কোথায় চুরি করবে! একদিন তারা ঠিক করল চুরি যদি করতেই হয় তবে রাজার বাড়িতে চুরি করবে। যেই বুঝা সেই কাজ ! তারা দুই জন মিলে বুদ্ধি বের করল আর রাজপ্রাসাদে চুরি করতে গিয়ে রাজার প্রিয় গলার মালা নিয়ে আসলো।

পরের দিন রাজ্যময় সবাই জানল, রাজার প্রিয় গলার মালা চুরি যাবার কথা। কিন্তু  অবাক কান্ড কিছু দিন পরে আবার রাজা নিজে তার বিছানায় গলার মালাটা পরে থাকতে দেখল! এ যে অবিশ্বাস্য! যে চুরি করেছে সে তা ফিরিয়ে দিয়েছে! এদিকে রাজা হুলংকার দিয়ে সবাইকে বললেন ,’’এত এত সৈন্য আর প্রহরীর মধ্য থেকে কিভাবে ঘটনাটা ঘটল!’’   

 তদন্ত পর তদন্ত হতে লাগল। কিন্তু তদন্তের ফলাফল শূন্য! রাজা ক্ষেপে গিয়ে বললেন ,’’এটা যে করেছে সে বা তারা তো রাজাকেও মেরে ফেলতে পারত ।‘’ রাজা সেদিনই আদেশ দিলেন নতুন রাজপ্রসাদ বানানোর জন্য। আরও নতুন নতুন কৌশল নিলেন এই ভয়ংকর চোর ধরার জন্য।

নতুন রাজপ্রাসাদ বানানো হল। রাজপ্রাসাদের চারদিকে বিশাল পুকুর খনন করা হল । বিশাল চওড়া করে বিত্ত আকারে সেই বিশাল পুকুরে অসংখ্য কুমির ছেড়ে দেওয়া হল। মাত্র কয়েকজন প্রহরী থাকে নতুন এই রাজপ্রাসাদে।

এরমধ্যে একটা খবর ছড়িয়ে গেল রাজা নাকি একটা হীরার টুকরো রেখেছেন নতুন রাজ প্রসাদের কোথাও । সে কথা জাহিন আর মাহিন শুনল। আরও শুনল বিশাল পুকুর আর কুমিরের কথা। তারা ভাবতে বসল কিভাবে আবার সবাই কে বোকা বানিয়ে হীরাটা চুরি করা যায়। যেই বুঝা সেই কাজ। সন্ধ্যার পর পর জাহিন হাজির হল রাজপ্রসাদে।

কিছুখন পরেই সে দেখতে পেল প্রাসাদের উচু জায়গা থেকে রাজাকে। রাজা পায়ে হেঁটে প্রাসাদের এক কোনায় একটি আলাদা বিশাল ঘর আছে। রাজা সেই ঘরে ঢুকলেন। এভাবে জাহিন পরপর দুই দিন সন্ধ্যার পরে এসে দেখল রাজা সেই বিশেষ কোনার ঘরটায় ঢুকেন । আর সেই ঘর থেকে বের হন অনেক রাতে ! জাহিনের সন্দেহ হল ,এটা কি সেই জায়গা যেখানে হীরাটা রাজা লুকিয়ে রেখেছেন ! হতে পারে , খুব হতে পারে !  

দ্বিতীয় দিনের রাতে সে দেখল রাজা ঢুকল কিন্তু দরজাটা একটু ফাঁকা ! সে আকাশ পাতাল ভাবতে লাগল ! তারপর নেমে এলো প্রাসাদের ছাদ থেকে। তারপর ঢুকে গেল ঘরের ভিতর। ঘর তো নয় এ এক ভিন্ন ধরনের তিন তলা প্রাসাদ। এখানে আছে শুধু বই আর বই । এ যেন এক বই এর নগরী ! ছোট বড় আলমারিতে কেবলই বই । জাহিন তখনই শুনতে পাচ্ছে রাজার গলা। রাজার গলা সে অনেকবারই সে শুনেছে । প্রজাদের মধ্য অনেক বার গিয়েছেন রাজা। রাজার গলা শুনে জাহিন সব ভুলে এগিয়ে গেল নীচের দিকে । আরও স্পষ্ট ভাবে শুনল ,রাজা জোরে জোরে বলে যাচ্ছে , ‘’ অ ,আ ,ই ,ঈ ,ও ! অ,আ,ই,ঈ ,ও ! অ,আ,ই,ঈ,ও !’’

রাজা পড়ছেন ! জাহিন যতটা সম্ভব সাবধানে কাছে গিয়ে অবাক বিস্ময়ে দেখলেন ,রাজার পাশে একজন বৃদ্ধ লোক বসে আছেন। তিনি রাজা কে পড়াচ্ছেন। আর রাজার হাতে বই। তিনি পড়ে চলেছেন! দুই জনই খুব মনযোগ দিয়ে তাকিয়ে আছেন বই এর দিকে !

জাহিন পড়াশুনা করেনি। কিন্তু মক্তব আর টোল দেখেছে । কিন্তু রাজা কি ছোট বাবু যে রাজা এসব পড়বে! তারপর অনেকটা সময় কেটে গেছে। জাহিন একটা আলমারির পিছনে লুকিয়ে আছে অনেক খন ধরে। সে দেখল রাজার চলে যাওয়া।  আর দেখল বৃদ্ধ শিক্ষককে নীচে চলে যেতে। বৃদ্ধ শিক্ষক যেতেই সে বেড়িয়ে এলো। তারপর একটা করে বই এর পাতা উল্টাতে লাগল। নিশ্চয় এই ঘরের কোন এক বইতে বা আলমারির কোথাও লুকান থাকতে পারে হীরাটা।  

বেশ অনেক খন পেরিয়ে গেল হীরা পাওয়া গেল না। জাহিন বুঝল এই ঘরে হীরা নেই । এখান থেকে বেড়িয়ে মূল প্রাসাদে ঠুকবে বলে ঠিক করল। ঠিক তখনই বৃদ্ধ মানুষটির হেঁটে আসার শব্দ পেল । জাহিন দূর থেকে দেখল বৃদ্ধের হাতে একটা বই। বৃদ্ধ উঠে এলো। জাহিন লুকাল একটা আলমারির পিছনটায় । বৃদ্ধ বসল কাছের একটা টেবিলে , বই খুলে পড়তে লাগল। জাহিন বুঝল ,চট করে এখান থেকে বের হওয়া যাবে না। সে অপেক্ষা করতে করতে এক সময় ঘুমিয়ে পরল।

কে যেন ঘুম ভাঙ্গল তখন জাহিন দেখল তার হাত পা বাধা ! লাফিয়ে উঠতেই পরে গেল। দেখল বৃদ্ধকে আর পাশে দাঁড়িতে মিটি মিটি হাসছে রাজা । ভয়ে আবার লাফ দিতে গেল। রাজা সব শুনল। দুর্ভিক্ষের কারনে মানুষ চুরি ,ডাকাতি করছে জেনে মন্ত্রীকে ডেকে পাঠিয়ে সে এলাকায় নতুন কাজ যেন তৈরি হয় ,তার ব্যবস্থা করল।

এবার বিচারের জন্য রাজ দরবারে হাজির করা হল জাহিন কে। কি করে এই রাজ প্রসাদে ঢুকতে পারল তার ব্যাখ্যা দিল সে। শুনে রাজা সহ সবাই অবাক।  

জাহিন বলল , রাজ প্রসাদের উপরে এখন ঝুলে আছে একটা দড়ি। সেই দড়ির শুরুটা বহু দূরে। দড়ির শুরু লাগান আছে একটা বিশাল বট গাছে ।  

মন্ত্রী বলল ‘’রাজা মশাই ও এগুলো কি বলছে ,কিছুই বুঝতে পারছি না।‘’

জাহিন আবার শুরু করল ,আমরা দুই ভাই একটা ঘুড়ির দোকানে চাকরী করতাম।    একটা লম্বা মানুষ যতটা বড় আমাদের ঘুড়ি গুলো ততো বড় বড়। আমরা দুই ভায়ের কাজ ছিল ক্রেতাদের ঘুড়ি উড়িয়ে দেখানো। বড় গাছের সাথে বেঁধে ওগুলি নিয়ন্ত্রন  করতাম। আমার আরেক ভাই মাহিন গাছে দাঁড়িয়ে দড়ির গোড়ার ধরে হাত আর পা দিয়ে উড়তে থাকা ঘুরি নিয়ন্ত্রন করত। আর আমি ঘুড়ির সাথে উড়ে চলতাম। দড়ির  দুই হাত নীচে নীচে একটা করে গিট দেওয়া থাকত । তা দিয়ে আমি নীচে উপরে  আসতে পারি।  একদিন  তার দেশে অনেক দুর্ভিক্ষ দেখা দিল। আর আমরা চাকরী হারালাম। চাকরী হারিয়ে যখন ঠিক করলাম রাজার বাড়িতে চুরি করব। তখন এই পদ্ধতি কাজে লাগালাম। তবে রাজার গলার মালা চুরি করে আবার তা ফিরিয়ে দিলাম। আসলে আমরা চোর না। আমরা চুরি করেছি আমাদের গ্রাম গুলি খুব বড় ধরনের বিপদে আছে তা রাজা কে জানাতে। রাজার মনযোগ কাড়তে! সব শুনে রাজ সভার সবাই  যেন ভড়কেই গেল। এত বুদ্ধি মানুষের হয়!

সবাই রাজার কাছে মিনতি করল চোর কে ক্ষমা করার। রাজা সব ভেবে রাজা জাহিনকে আর মাহিনকে ক্ষমা করে ঠিকই কিন্তু তিন মাস একটা বাড়িতে বন্দী করে রেখে তাদের পড়ালেখার সুযোগ করে দিলেন।  

রাজা তাদের জ্ঞান বুদ্ধি সাহস নিয়ে ভাবতেই আবাক হলো। অবাক হলো তাদের চুরির কৌশল নিয়ে। আর ঠিক করল, তাদের রাজকর্মচারী হিসাবে নিয়োগ দিতে। রাজা মন্ত্রীদের সাথে এ নিয়ে অনেক আলোচনা করলেন।  আলোচনা করলেন বৃদ্ধ শিক্ষকের সাথেও।   

পরের দিন রাজা এলো জাহিন আর মাহিনকে দেখতে। রাজা বলল , আমাকে দেখেছ পড়তে । জাহিন আর মাহিন বলল ‘হ্যা ।‘  

রাজা এক গাল হেসে বলল , আমি রাজা! পড়াশুনা করি প্রজাদের সুখের জন্য।তাই আমি শুরু করেছি ,তোমরাও করো। এসো আমরা পড়াশুনা করি। আর সুখে থাকি ,এই সুখের রাজ্যে !

বেশ কয়েক দিন পরে জাহিন আর মাহিন প্রায় মুখস্ত করে ফেলেছে অ আ । জাহিন মাহিন কে বলল , দেখ ঠিক হয়েছে কিনা । অ আ ই ঈ উ ঊ !

মহিন আনন্দে হাত তালি দিয়ে উঠল ।।

August 28, 2019 0 comment
0 FacebookTwitterPinterestEmail
শিশুতোষ গল্প

আমার দেশ

by Admin August 26, 2019
written by Admin

মোঃ নোমান সরকার

রাজা শিকারে গেলেন । অনেক সৈন্য তার সাথে । তিনদিন পর রাজা যখন শিকার শেষে করে ফিরে আসবেন তখন তিনি সৈন্যদের থেকে জানলেন বনে একটা অনেক বড় হরিণেরর ঘুরে বেড়ানোর কথা।

রাজা সবাইকে জানালেন ,’’ আমার সঙ্গে কারো আসার প্রয়োজন নেই। তোমরা এগিয়ে যাও। আমি পরে তোমাদের সাথে যোগ দিব। আমি একাই হরিণটাকে ধরব।”

সৈন্যরা সবাই চলে গেলে রাজা বের হলেওন হরিণটাকে খুঁজ বের করতে। আর রাজা ঠিকই খুঁজে বের করলেন হরিণটাকে।

বহু দূর থেকে দেখলেন হরিণটা নদীর ধারে পানি পান করছে । রাজা ঘোড়াটা একটা গাছের সাথে বেঁধে তিনি অনেকটা পথ হেঁটে হরিণটার কাছাকছি চলে এ্লেন। একটা বড় গাছের আড়ালে এসে দাঁড়ালেন। তারপর তীর ধনুক ঠিক করে তাক করলেন। অপেক্ষা করতে লাগলেন প্রাণীটার পানি পান শেষ হওয়া পর্যন্ত। খুব তৃষ্ণার্ত হরিণটা। পানি পান যেন শেষ হচ্ছে না। বড় আরাম করে পান করে যাচ্ছে। রাজা অনুভব করলেন যেন সেই তৃষ্ণা মেটানো আরাম বোধটা হরিণের সাড়া অন্তর জুড়িয়ে দিয়ে গেল। তিনি ঠিক করলেন , অপেক্ষা করবেন । প্রানীটা পানি পান করে আগে ওখান থেকে উঠে আসুক । তিনি তাকিয়ে দেখতে লাগলেন হরিণটাকে। কিন্তু বিশাল বড় হরিণটাকে দেখতে দেখতে তিনি মায়ায় ডুবে গেলন যেন। তিনি অবাক বিস্ময়ে দেখতে লাগলেন সুন্দর হরিণটাকে। অনেক সুন্দর হরিণটাকে তিনি মারবেন না বলে ঠিক করলেন। তিনি তীর ধনুক কিছুটা নামিয়ে নিলেন।

ঠিক এমন সময় ঘটল ঘটনাটা। রাজা শুনতে পেল তার নিজের ঘোড়াটার চিৎকারের শব্দটা ! রাজা দেখল হরিণটাও যেন শুনতে পেয়েছে । পানি পান করা ছেড়ে ভয়ে সে শব্দের উৎসের দিকে তাকাল। রাজা দ্রুত ধনুকটা পিঠে ঝুলিয়ে ঘুরে দাড়িয়ে ছুটল পিছন দিকে। তিনি বুঝতেই পারেননি এতটা দূরে চলে এসেছেন ঘোড়াকে বেঁধে রেখে। যখন তিনি ফিরলেন ঘোড়া রেখে যাওয়া জায়গাটায়। দেখলেন বেশ কিছু মানুষ মিলে একটা ঘোড়ার গাড়ীতে করে তার প্রিয় ঘোড়াটা উঠিয়ে বেঁধে নিয়ে যাচ্ছে ! অনেক দূরে চলে গেছে তারা। তিনি পিছু পিছু দৌড়ে গেলেন। কোনই লাভ হলনা। দ্রুত চলাঘোড়া গাড়িটা বাতাসে যেন মিলিয়ে গেল।

একদিন কিংবা তারও বেশি রাজা জিনজির হাঁটলেন। ক্লান্ত , ক্ষুধার্ত হয়ে তিনি সব শক্তি যেন হারিয়ে ফেললেন। তারপর দেখলেন অতি দূরে একটা কুঁড়ের ঘর। ঘর দেখা মাত্র ক্ষুধা যেন বেড়ে গেল। তিনি কখনই এভাবে কষ্টকে দেখেননি , করেননি । তিনি বারবার বললেন ,’’হে আল্লাহ, এই পরীক্ষায় আমাকে শক্তি দাও।”

তিনি যখন কুঁড়ের ঘরটার দরজায় ধাক্কা দিলেন। তা সহজে খুলে গেল। আর তিনি ভারসাম্য রাখতে না পেরে ঘরের ভিতর পরে গেলেন ,জ্ঞান হারালেন। যখন জ্ঞান ফিরল তখন দেখলেন অনেক মানুষ চারদিকে। আর দুইজন মানুষ তার মাথায় পানি দিতে। তিনি ইশারায় পানি পান করতে চাইলেন। একটা ছোট ছেলে পানি আর খাবার নিয়ে এল । গোগ্রাসে তা খেতে খেতে মনে রাজার মনে হল , তিনি নিজের প্রাসাদেই আছেন !

ছেলেটি থেকে রাজা জানালো , তাদের কাছের এক গ্রামে অনেক দুষ্ট লোক বাস করে। দুষ্টরা তাদের ঘরের ধান নিয়ে গেছে। ওদেরও অভাব। আর আমাদেরও অভাব। কিছুদিন আগে তাদের দুইটা ঘোড়া ছিল তাও নিয়ে গেছে। রাজা মনে মনে ভাবলেন, এই আমার সোনার দেশের অবস্থা ! রাজা ছেলেটার কাছে সব শুনে বলল ,বাবা তুমি চিনবে ওদের এলাকাটা?”

তখন ছেলেটা মাথা নেড়ে ‘হ্যা’ বলল।

রাজা বলল ,তোমার বাবা মা তোমাকে কি নামে ডাকে ? ছেলেটা তার ফোকলা দাঁত বের করে হাসতে হাসতে বলল ‘’ ছোট রাজা।” রাজা খুব আনন্দ পেলেন। অতান্ত মিষ্টি করে ডাকলেন ,’’ ছোট রাজা !”

পরের দিন রাজার মনে হল তিনি সুস্থ । তিনি গেলেন ছোট রাজাকে নিয়ে পাহারের ওপাশের গ্রামটায়। গ্রামে ঢুকতেই রাজা তার বিশাল তরবারিটা নিয়ে হাত উঁচিয়ে হাটতে লাগল । ধীরে ধীরে লোকজন জমে গেল অনেক । রাজা দেখলেন লোকদের ভিড়ে সেই চোরদেরও ।

রাজা এক জায়গায় এসে থামলেন। ততোখনে অনেক মানুষ জমে গেছে। রাজা বললেন ,তোমরা তরবারি দেখে বুঝেছ ,আমি সাধারন লোক নই। আমি ইচ্ছে করলে তোমাদের বিপদের কারণ হয়ে এ গ্রামে ঢুকতে পারতাম। কিন্তু আমি তা করিনি।” রাজা থেমে চোরদের দিকে তাকিয়ে বললেন, তোমাদের মধ্যে যে আমার প্রিয় ঘোড়াটা আটকে রেখেছ ,তাদের আদেশ করছি ঘোড়াটা ফিরিয়ে দিতে । আর এই ছেলেটার বাবা মাকে ফিরিয়ে দিতে । আমি তাদের হয়ে তোমাদের সব পাওনা মিটিয়ে দিব।’

খুব দ্রুতই আরও অনেক মানুষ চলে এলো। এক বৃদ্ধ ভিড় ঠেলে এগিয়ে এলেন। তিনি রাজার সামনে এসে দাঁড়িয়ে বললেন ,‘’দুই দিন আগে আমরা এ গ্রামে একটা রাজকীয় ঘোড়া দেখতে পেয়েছি ,আজ তার মালিককে দেখতে পেলাম । আপনার ঘোড়া , তরবারি , বাজু আর ঘাড়ের কাল জন্ম দাগটাই বলে দেয় আপনি আমাদের রাজা !” একটু থেমে বৃদ্ধ মানুষটা ঘুরে ভিড়ের মধ্যে কথা বলা বলি করা মানুষদের দিকে তাকিয়ে অনেক জোরে চিৎকার করে বলার ,’’আমরা আমাদের রাজাকে আমাদের মধ্যে দেখতে পাচ্ছি !”

এ কথা হতেই চারদিক নিরব হল। একেবারে নিরব ! রাজা জিনজির অবাক বিস্ময়ে দেখলেন , অনেক অর্ধহারী ,অনাহারী, অর্ধ উলঙ্গ বঞ্চিত মানুষ একত্রে অবাক বিস্ময়ে তার দিকে গভীর মায়া নিয়ে তাকিয়ে আছে ! তিনি অনেক কষ্ট নিয়ে চারদিকের মানুষগুলোর দিকে তাকালেন ! তার চোখ বেয়ে অশ্রু গড়িয়ে পরল । তিনি কেবলই মনে মনে ভাবলেন ,হায় আমার প্রজা ! একি অবস্থা আমার প্রজাদের। আর এদিকে আমি প্রাসাদ আর শিকার নিয়ে আছি! এই দুরবস্থা আমার প্রজাদের। এই আমার সোনার দেশ! আমার দেশ!

August 26, 2019 0 comment
0 FacebookTwitterPinterestEmail
জানা অজানা

কিভাবে তেমুজিন হল চেঙ্গিস খান [পর্ব – ১]

by Admin August 5, 2019
written by Admin

মোঃ নোমান সরকার

খান, চেঙ্গিস খানের নাম শুনেছ? হুম, আমি জানি তোমরা সবাই চেঙ্গিস খানের নাম শুনেছ। ইতিহাস জানা প্রত্যেকেই তার নাম জানে। কারন তিনি ছিলেন ইতিহাসে অন্যতম অপরাজিত জেনারেল। তিনি জয় করেছিলেন পৃথিবীর অর্ধেকের বেশি অঞ্চল।  কিন্তু সব জয়ের পিছনের গল্প হয় খুব ভয়ানক সব ঘটনা। চেঙ্গিস খানের রাজ্য জয়ের পদ্ধতি ছিল খুবই ভয়াবহ। এই জয় করতে গিয়ে তিনি নির্মম ভাবে হত্যা করেছিলেন প্রায় ৪ কোটি নিরাপরাধ মানুষ। বলা যায়, তিনি তৎকালীন পৃথিবীর মোট জনসংখ্যার ১১% মানুষকে নির্মম ভাবে হত্যা করেছিলেন।    

চেঙ্গিস খান তার মূল নাম নয়। ‘চেঙ্গিস খান’ এই নাম তার উপাধি। তার প্রকৃত নাম তেমুজিন। সেই অঞ্চলে তেমুজিন নামের অর্থ আয়রন ওয়ার্কার।

১১৬২ থেকে ১১৬৭ সালের মধ্যে কোন এক বছরে চেঙ্গিস খানের জন্ম মধ্য এশিয়ার দেশ মঙ্গোলিয়ায়। তোমরা যদি বিশ্ব মানচিত্রটি দেখ, তবে মঙ্গোলিয়া দেশটি দেখতে পাবে বর্তমান চীন আর রাশিয়ার মাঝখানে। তবে দেশটির ১ শতাংশের কম ভূমি চাষাবাদের উপযোগী বলে পৃথিবীর সব এলাকা থেকে এটি ভিন্ন রকমের জনপদ। প্রবল শীত,ধূলিঝড়, খড়া সহ নানা প্রতিকূল অবস্থা সব সময় এই অঞ্চলের মানুষের জীবনের উপর ছায়া ফেলে রেখেছে। এখানে হাজার বছর ধরে  মানুষ যাযাবর। পশুপালনই তাদের মূল পেশা।    

সেই সময় বিশাল সেই তৃণ চরণ ভূখন্ডে একক কোন জাতি বসবাস করত না।  মানুষগুলো বিভক্ত ছিল গোত্রে গোত্রে, দলে উপদলে। তাতার, টারকিক, মঙ্গল গোত্রের বসবাস ছিল এই অঞ্চলে। তেমুজিনের পিতা ছিলেন মঙ্গোল একগোত্র প্রধান। মঙ্গোল রীতি অনুসারে তের বছর বয়সে মঙ্গোলদের আরেক গোত্রের মেয়ে  বোর্তে সাথে তার বিয়ে ঠিক হয়। সেখান থেকে ফিরে আসার সময় মঙ্গলদের   চিরশত্রু উপজাতীয় তাতার গোষ্ঠীর লোকেরা তেমুজিনের বাবা ইয়েসুগিলকে হত্যা করে। তেমুজিন শপথ নেয় চরম প্রতিশোধের এবং নিজেকে ঘোষনা করেন গোত্র প্রধানের। কিন্তু এই বালকে  নেতাকে মানতে নারাজ বলে তাদের পরিবারকে বিছিন্ন করে রাখা হয়। চরম অভাব অনটনে অবস্থা এতটাই কঠিন হয়ে দাঁড়ায়  যে খাবার চুরির কারনে নিজের ভাইকে সে হত্যা করে।  

চরম কঠিন পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে তেমুজিন বড় হয়ে উঠে।  আর সে হয়ে উঠে দুর্ধর্ষ এক কিশোরে। ১৬ বছর বয়সে তেমুজিন বিয়ে করে নিয়ে আসে বোর্তেকে।  মাত্র ১৭ বছর বয়সে শুরু হয় তার বিজয় যাত্রা। তার ডাকে সাড়া দেয়  হাজার হাজার মঙ্গোল। তিনি সুসংগঠিত করেন বিশাল এক বাহিনী। উচ্চাভিলাষী তেমিজিন এই বাহিনীকে ১০জন, ১০০ জন, ১০০০জন, ১০,০০০জনের দলে ভাগ করে আধুনিক যুদ্ধ দলে সুসজ্জিত করেন। এই সময় প্রত্যেক সৈনিক নিজেদের রসদ বহন করত।   

 ১১৮৩ সালে মঙ্গলদের এক সমাবেশে তাদের গ্রেট খান ঘোষনা করে নাম দেওয়া হয় চেঙ্গিস খান। সেই থেকে তেমুজিন হয়ে উঠে চেঙ্গিস খান।  তাদের ভাষায় এই নামের অর্থ দামি যোদ্ধা। ১২০৬ সালে তাকে অভিহিত কর হয় খান অব খান্স বা কিং অব কিংস। এর পর থেকে চেঙ্গিস খান রাজ্য সম্প্রসারণে মন দেন।

August 5, 2019 6 comments
0 FacebookTwitterPinterestEmail
শিশুতোষ গল্প

ব্যাঙকুমারী

by Admin August 4, 2019
written by Admin

(শিশুতোষ গল্প)

মোঃ নোমান সরকার

পুকুর দেখতেই রাজা ঘোড়ার পিঠ থেকে নেমে পরলো। সৈন্যদের থেকে অনেক  দূরে চলে এসেছে। যুদ্ধে জয় লাভ করতে খুবই কষ্ট হয়েছে এবার। রাজা পুকুর ধারে এসে দুই পা ভাঁজ করে বসলো।    

আহ! কি টলটলে পরিস্কার পানি!পানি দেখেই সে হেসে উঠলো। সে দ্রুত পানি স্পর্শ করলো।  তারা সাড়া শরীর ঠান্ডা আর শান্ত হয়ে গেল। আনন্দে তার চোখ বন্ধ হয়ে এলো। শরীরের সমস্ত ক্লান্তি যেন কমে যাচ্ছে। রাজা তরবারিটা পাশে রেখে পুকুর থেকে দু হাতে পানি নিয়ে মুখমণ্ডলে দিল।  আনন্দে তিনি বারবার ‘আহ! আহ!’ বলে উঠল। তারপর তরবারিটা পরিস্কারের জন্য পুকুর থেকে পানি হাতে নিল। ঠিক তখনই কেউ একজন কথা বলে উঠল,’আমাকে মেরো না ।’

রাজা অবাক বিস্ময়ে চারদিকে তাকালো। কোথাও কেউ নেই! বেশ একটু দূরে বিশাল পাহাড়। পাশে তৃণ ভূমি। আর মাথার উপর ঝকঝকে শেষ দুপুরের আকাশ। তিনি আবার তরবারিটা হাতে উঠালেন, একই ব্যাপার হলো। কেউ একজন চিৎকার করে বলল,’আমাকে মেরো না।’

রাজা চমকে উঠল। কোথাও কেউ নেই! রাজা চারটিয়েখুটিয়ে খুঁটিয়ে দেখতে লাগল। একটু বাদে রাজার চোখ আটকে গেল যেন। পিকিরের ধারে তার খুব কাছে একটা ব্যাঙ বসে, সে কথা বলে উঠছে বারবার! কিন্তু সেটা কি করে সম্ভব! এ যে অবিশ্বাস!

 ব্যাঙ বলল,’আমি ব্যাঙকুমারী। আমাকে মের না,আমার প্রতি সহজ হও।‘ 

রাজা অবাক ,বিস্ময়ে তাকিয়ে আছে ! এ ও কি সম্ভব! একটা ব্যাঙ কি করে কথা বলে! কোথাও কি ভুল হচ্ছে? সে অনেক খন ধরে টার দিকে তাকিয়ে থাকল।

তৃতীয়বার
ব্যাঙ বলে উঠল,’ আমি ব্যাঙকুমারী। আমাকে মের না,আমার প্রতি সহজ হও।‘ 

রাজা আরো কিছুক্ষণ চুপ থেকে নরম গলায় বলল, ‘মারব না,ভয় পেও না। আমি রাজা,কথা দিচ্ছি।‘

 ব্যাঙকুমারী শান্ত হল। রাজার কথায় ভরসা পেয়েছে যেন।    

ব্যাঙকুমারী বলল,’আমি পানির নীচের দেশের রাজকুমারী। এখান থেকে অনেক দূরে একটা নদী আছে। সেই নদীর নীচে আমাদের দেশ।

রাজা বলল, ‘নদীর নীচে! নাদীর নীচে! নদীর নীচে! নাদীর নীচে? ‘

ব্যাঙ বলল,‘নদীর তলায় যে মাটি, তার থেকে অনেক অনেক নীচে আমাদের দেশ।‘   

রাজা অবাক বিস্ময়ে বলল, ‘আচ্ছা!’

‘আমি আপনার মতন একজন মানুষ। যাদুকর আমাকে ব্যাঙ বানিয়ে রেখেছে।‘  

রাজা যেন নিজে নিজেই বলল, যাদুকর! আচ্ছা যাদুকর তোমাকে ব্যাঙ বানিয়ে দিলো। আচ্ছা?’

 রাজা যেন একবারেই বোকাই হয়ে গেল! সে এসব কি শুনছে ? এমন কি কখনও হতে পারে! নাকি অসুস্থ হয়ে গেল সে! যুদ্ধ করতে করতে আতিরিক্ত ক্লান্তি থেকেও হতে পারে ব্যপারটা।   

অনেকখন পর রাজা বুঝল,সে অসুস্থ না। যা সে দেখতে আর শুনতে পারছে, সব সত্যি! কিন্তু পুরো ঘটনাটাই বড় বেশী বিস্ময়কর! রাজা বারবার মাথা আর গাল চুলকাতে লাগল। কখনও এদিক সেদিক তাকাতে লাগল। রাজা ভ্রু কুচকে জানতে চাইল,’পানির নীচে দেশ আছে! মানুষ আছে! মানুষ! মানুষ থাকে! মানুষ পানির নীচে থাকে!’

 ব্যাঙকুমারী বলল,’নদীর একেবারে নীচে আছে যে মাটি তারও অনেক অনেক নীচে আছে অনেক অনেক দেশ। সেখানে মানুষ ছাড়া অন্য যে প্রানী আছে তা এখানকার মতন না। একেবারে ভিন্ন। তবে তোমাদের মতন নিষ্ঠুর কোন মানুষ বা প্রাণী নেই। খুব প্রয়োজন ছাড়া কেউ কাউকে কষ্ট দেয় না, আঘাত করে না, হত্যা করে না। গত কয়েক দিন আগে তো একদল ছেলে আমাকে পেয়ে পাথর ছুড়ে মেরেই ফেলেছিল। ভাগ্য ভালো ঘটনা সন্ধ্যায় বলে আমি লুকিয়ে পালিয়ে যেতে পেরেছিলাম। আমি যাদুকরকে যেমন ভয় পাই। মানুষ দেখলেও।‘

একটু থামল ব্যাঙকুমারী। তারপর আবার বলল,’ এ ছাড়া অনেক অনেক মিল আছে আপনাদের সাথে আমাদের। কিন্তু কেউ সেখানে নিষ্ঠুর নয় বলতে গেলে, যাদুকরের মতন অল্প কিছু দুষ্ট ছাড়া। ‘

রাজা আবার বলল, পানির নীচে দেশ! নদীর পানি নীচে দেশ, মানুষ, প্রাণী!

  ব্যাঙকুমারী বলল, নদীর পানি ঘোলা বলে পানির নীচে কিছু থাকতে পারে, এ নিয়ে আপনারা বিশ্বাস করেন না। আমি আপনার আগে আরো একজন মানুষের সাথে কথা বলেছিলাম। সে এই কথা আমাকে বলছিল। ‘

রাজা বলল, হ্যা তা হতে পারে। নদীর পানি ঘোলা। তাই তার একেবারে নীচে বা তারও নিচে কিছু থাকতে পারে, এটা আমিও সারা জীবনে ভাবিনি।’

ব্যাঙকুমারী বলল, কিছু কেন বলছেন। নদীর নীচে একের পর এক দেশ আছে, সেখানে মানুষ থাকে।

রাজা অবাক হয়ে তাকিয়ে থাকল ব্যাঙকুমারীর দিকে। কি চমৎকার কণ্ঠ এই ব্যাঙকুমারী! সত্যি কি সে মানুষ! সত্যি কি সে রাজকুমারী!

রাজা ব্যাঙেকুমারীর কথাটা নিজে নিজে বলল, ‘ সেখানে মানুষ ছাড়া অন্য যা প্রানী আছে তা এখানকার মতন না। একেবারে ভিন্ন। হুমমম !’ 

 রাজা মাথা চুলকাল। চিন্তিত গলায় বলল,‘তা তুমি কি করে এলে এখানে? বলে রাজা গভীর মনোযোগ দিয়ে ব্যাঙকুমারীকে দেখতে লাগল।

রাজার এ কথায় ব্যাঙকুমারী বলল,’ একটা ভূমিকম্প হয়েছিল। তারপর দেখি আমি এখানে। আমার সাথে আমাদের অনেকে মানুষ বেঁচে ছিল কিন্তু যাদুকর সবাই কে মেরে  ফেলেছে। মেরে ফেলেছে তোমাদের সেই মানুষটাকে যার সাথে আমার কথা হচ্ছিল। সে বিশ্বাসই করতে পারছিল না আমাদের।‘

রাজা বলল অশান্ত গলায় প্রশ্ন করল, ‘কেন?কেন যাদুকর মারলো কেন? কোন যাদুকর, কোথাকার যাদুকর?’

ব্যাঙকুমারী,খুবই হতাশ গলায় বলল, ‘ যাদুকর আমাদের দেশের। তবে দেশে এত ক্আষতি করার ক্মিষমতা তার ছিল না। কিন্তু এখানে এসে তার অনেক ক্ষমতা হয়ে গেছে। জানি না কেন সে আমাদের মারতে চায়! সে কি চায়! তাকে দেখেছি কেবল। সে আমাকে খুঁজছে! একদিন সকালে আমাকে দেখতেই ধরার চেষ্টা করতে লাগল। অবশেষ ধরতে না পেরে সে আমাকে ব্যাঙ বানিয়ে ফেললো।‘ তারপর  আবার থেমে উত্তেজিত গলায় বলল ,’সে আমাকে ঠিকই আমাকে খুঁজে বের করবে।‘

রাজা চারদিকে ভালো করে তাকাল। তার খনে খনে মনে হতে লাগল, গোটা ঘটনাটা ঘটছে ঘুমের ভিতর স্বপ্নে। তারপর পরই মনে হলো না স্বপ্ন না।

রাজা বলল, ‘এখানে থাকাটা তবে নিরাপদ হবে না। যাবে তুমি আমার সাথে?’

ব্যাঙকুমারী লাফিয়ে বলল,’কোথায়?’

 রাজা বলল,’আমার দেশে, আমার প্রাসাদে?’

রাজার কথা শুনে ব্যাঙকুমারী কি যেন ভাবল। তারপর বলল,’আমি তোমার কাছে ব্যাঙ হিসাবেই থাকতে চাই। আমি কথা শুধু্ তোমার সাথেই বলতে চাই।‘

 রাজা বলল ,’ঠিক আছে তোমার পরিচয় কেউ জানবে না।‘

রাজা দেশে ফিরল ঠিকই কিন্তু আগের মতন রাজদরবারে যায়না। রাজ প্রাসাদেই সময় কাটায়। সবাই হতবাক! তবে এটা জানাজানি হয়ে গেল যে, রাজা ফিরেছেন একটা মস্ত বড় ব্যাঙ নিয়ে! ব্যাঙ কেন শোবার ঘরে থাকবে? এ ধরনের অনেক অনেক প্রশ্ন চারদিকে ছড়িয়ে গেল।

রাজা তার ঘরের এক কোনে কাঁচের ছোট একটা ঘর বানাতে আদেশ দিল। সেই ঘরের  ভিতরে অনেক গাছ থাকবে, একটা ছোট পুকুরও থাকবে। সেই ঘরের কাজ চললো রাত আর দিন । ঘরের কাজ চলার সাথে সাথে চারদিকে খবর ছড়িয়ে গেল ,রাজা অসুস্থ! পাগল প্রায়! আর ব্যাঙ নিয়ে হরেক রকম খবরও চালু হল। কেউ বলল,’ব্যাঙটার মাথায় একটা জিনিষ আছে ,যাকে বলে,সাত রাজার ধন।‘ আবার কেউ বলল,’ডাইনি ওটা,রাজা কে যাদু করেছে!’ এভাবেই চলল।

 গল্পের ডালপালা এগিয়ে যেতে লাগল বাতাসের সাথে সাথে। এর মধ্যে রাজা মন্ত্রী কে রাজ্য ভার বুঝিয়ে দিল। সবাই চিৎকার করে বলে উঠল,’গেল গেল! সব গেল! আমাদের প্রান প্রিয় রাজা গেল।‘

একদিন ব্যাঙেকুমারীর সেই যাদুকর এলো রাজ দরবারে। মন্ত্রীকে বলল রাজার সাথে দেখা করবে।

মন্ত্রী জানাল ,’তা সম্ভব না।‘  

যাদুকর সেই কথা অনেক হাসলো। তারপর অচেনা পাখি হয়ে রাজ প্রাসাদে ঢুকে পরলো। মন্ত্রী প্রত্যেক সৈন্যকে আদেশ দিল, দুষ্ট যাদুকর কে ধরার জন্য। কিন্তু  কোথায় সেই পাখি! যেন এটা বাতাসে মিলিয়ে গেছে! প্রাসাদের ভিতরে বাহিরে সবখানেই সৈন্যরা খুঁজতে লাগল পাখিটাকে।

এদিকে রাজা আর ব্যাঙকুমারী প্রাসাদে! রাজার কঠোর আদেশ প্রাসাদে ঘন্টা না বাজা পর্যন্ত এখানে কেউ যেন না আসে। মন্ত্রী, প্রত্যেক রাজকর্মচারী আর সৈন্য চিন্তিত হয়ে হন্য হয়ে পাখিটাকে খুঁজতে লাগল। মন্ত্রী আদেশ দিলো রাজার ঘর ছাড়া প্রাসাদের কোন জায়গা যেন বাদ না যায়।     

রাজা জানালা দিয়ে আকাশ দেখছিল। হঠাত ঘরের ভিতর একটা শব্দে সে ফিরে তাকালো। একটা বিশাল বড় পাখী উড়ে এসে রাজার কাছকাছি চলে এলো। পাখিটা উড়ে এলো জানালার উল্টো দিক থেকে। যেন সে অদৃশ্য থেকে এসেছে। হঠাত করেই। কিভাবে পাখিটা ঢুকল তা নিয়ে রাজা বেশী একটা চিন্তিত হল না। সে  জানে, এটি পাখি না, যাদুকর। রাজা অপেক্ষাই করছিল যাদুকরের।

ব্যাঙকুমারী চিৎকার করে বলল,’রাজা এটা পাখি না ,এটা যাদুকর’ ! বিশাল পাখিটার দিকে দেখে রাজা বড় বড় চোখ করে তাকিয়ে আছে। সে দৌড়ে তার তরবারিটা বের করল। জাদুকর পাখি থেকে মানুষ হল।

রাজা দেখল , বিশাল এক মানুষ ! রাজা শান্ত গলায় বলল ,’তুমি সেই!’

যাদুকর বলল ,’আমার হাতে ব্যাঙটা তুলে দাও। এটা আমার ব্যাঙ।‘

রাজা হেসে বলল ,’তোমার?’

জাদুকর বিরক্ত গলায় বলল, ‘এই রাজকুমারী আমার দেশের। এর উপর আমার অধিকার।‘

রাজা গম্ভীর গলায় বলল,’তুমি ফিরে যাও।‘  

যাদুকর বলল,’তুমি বোকা। তুমি কি দেখনি, কিভাবে আমি তোমাকে দেখা দিয়েছি, একটা পাখি হয়ে। এর পরও কি তুমি কি আমার শক্তির ব্যাপারে উঁচু ধারনা করবে না।

রাজা হাসল। তারপর হাসতে হাসতে বলল,’ কাউকে দুর্বল ভাবা রাজার কাজ নয়।‘

যাদুকর বলল,’রাজা তো তবে বুদ্ধিমান আর আমার দুশ্চিন্তা করারও কিছু নেই।‘

রাজা এবার গম্ভীর হয়ে বলল,’ব্যাঙকুমার তোমার সাথে যেতে চাচ্ছে না। তাই তুমি একা ফিরে যাও।‘

যাদুকর কি যেন ভাবলো। এই অবসরে রাজা দু পা পিছিয়ে ব্যাঙকুমারীর কাছাকাছি আসলো।

ব্যাঙ বলল,’ জাদুকরের যাদু আমাদের উপর চলে। আপনাদেরও কেবল ভয় দেখাতে পারবে। এর বেশী কিছু না। সে আপনাদের যাদু করে কোন ক্ষতি করতে পারবে না। তবে সে একজন যোদ্ধা।‘

রাজা যাদুকরের বিশাল দেহটার দিকে তাকিয়ে চিন্তিত গলায় বলল, ‘যাদুকর কেমন যুদ্ধ করে?’

 ব্যাঙ বলল ,’ যুদ্ধে আপনার খুব কষ্ট হবে। তারচেয়ে ওর হাতে আমাকে দিয়ে দিন, আমার জন্য কেনই বা যুদ্ধ করবেন।‘

রাজা আবার দু পা এগিয়ে গেল।

যাদুকর বলল,’আমি আশা করছিলাম কোন ঝামেলা হবে না। কারন তুমি রাজা, প্রজাদের মঙ্গল কামনাই তুমি কর। কিন্তু…।‘

রাজা শক্তভাবে তরবারিটা ধরে বলল,’ফিরে যাও।‘

রাজা যাদুকরের কথাপথনের সময়টা খবর হল যে, রাজা রাজার ঘরে শত্রু ঢুকেছে। যে যেভাবে পারে দৌড়ে ছুটে এলো। এটা কি করে সম্ভব হল যে, শত্রু এত এত সৈন্য এড়িয়ে রাজপ্রসাদে রাজার ঘরে ঢুকলো! সবাই এসে দেখল যাদুকর কে।  সবাই অবাক বিস্মিত হল! কে কি করবে ভেবে পেল না। কিংবা কি করা উচিৎ  ভেবে পেল না!

জাদুকর আবার আকাশের দিকে তাকিয়ে দু হাত তুললো। অমনি আকাশ থেকে  বিশাল বিশাল ভয়ানক পাখি প্রাসাদে ঢুকে পরল। ব্যাঙকুমারী চীৎকার করে বলল,’ জাদু দিয়ে শুধু ভয় তৈরি করতে পারবে। রাজা জাদুকরের দিকে খেয়াল রাখুন। ও  আপনাকে ক্ষতি করার সুযোগ খুজছে !’

পাখিগুলো দেখে ভয়ে সৈন্যরা চিৎকার শুরু করল। অধিকাংশ ছুটে পালাল। রাজা চিৎকার করে বলল, আমার সৈন্যরা তোমরা ভয় পেও না। যাদুকরের কোন শক্তি তোমাদের কোন ক্ষতি করতে পারবে না।‘ 

কথা বলার সময় রাজার চোখ যাদুকরের দিকে থাকল। যাদুকর দুহাত নামিয়ে এবার সামনের দিকে বাড়াল, বাড়াতেই তার হাতে অদৃশ্য থেকে দুইটা তরবারি চলে এলো।

রাজার দুই ভ্রু উচু হল, হেসে আপন মনে বলল, ‘চমৎকার তো!’

সৈন্যরা যারা ছিল তারা গোল হয়ে দাড়িয়ে ,বিশাল বৃত্ত। রাজা আর জাদুকর যুদ্ধে মেতে উঠল। সেকি যুদ্ধ! দিন রাত যুদ্ধ চলল। যেন থামবে না, এমন ভাবে শব্দ হতে লাগল। যুদ্ধ দেখে সৈন্যরা কাঁদতে লাগলো। কারন তারা রাজাকে এত সময় নিয়ে যুদ্ধ করতে দেখেনি।

হঠাৎ করে যুদ্ধটা থামল, যেমনি ভাবে ঝুপ করে সন্ধ্যা নামে । জাদুকরের হাত ফোঁসকে একটা তরবারি পরে গেল আর রাজার তরবারি ঢুকে গেল জাদুকরের বুকে। দুষ্ট যাদুকর মরে যেতেই ব্যাঙকুমারী মানুষ হয়ে গেল, রাজকুমারী। অপরূপ সুন্দরী! রাজা আর উপস্থিত অন্য সবাই মুগ্ধ আর বিস্ময়ের সাথে দেখতে লাগলো রাজকুমারীকে!

কেউ কেউ গালে হাত দিল বিস্ময়ে আর আনন্দে। অনেকে বলতে লাগল, এ যে ডানা কাটা এক পরী! গালে হাত দিয়ে অনেকেই ভাবতে লাগল এত সুন্দর রাজকুমারী! এত সুন্দর মানুষ হয়! এই রাজকুমারীকে যাদুকর কি করে ব্যাঙ বনিয়ে রেখেছিলো!  

August 4, 2019 0 comment
0 FacebookTwitterPinterestEmail
কিশোর গল্প

কৃপণ (কিশোর গল্প)

by Admin August 3, 2019
written by Admin

মোঃ নোমান সরকার

এক গ্রামে এক কৃপণ লোক বাস করত। তা নাম জমির। সারাক্ষণ সে টাকা , আয়, ব্যয়, খরচ নিয়েই ভাবত। সে বিয়ে করেনি খরচের কথা ভেবে। ঘরে বউ এলে খাবার বেশী লাগবে আবার সন্তান হলে খরচ বেড়ে যাবে। তাই সে ঠিক করেছে, এ জীবনে আর বিয়েই করবেনা।

 গ্রামের মানুষদের সাথে এ নিয়ে তর্ক বিতর্ক হয় , ঝগড়াও হয়। এই পর্যন্তই। সে তার মতন আছে। দূর থেকে গ্রামের মানুষ তাকে নিয়ে হাসাহাসি করে। সে এসব গায়ে মাখেনা।

 একদিন ভোরে তার ঘুম ভেঙ্গেছে। হাই তুলতে তুলতে বিছানায় উঠে বসল। তারপর কিসব যেন ভাবল। তারপর খাট থেকে যেই পা নিচে মাটিতে ফেলতে গেল। তখনই কে যেন বলে উঠল ,’ পা উঠাও।‘  

খুব ধীরে, যেন কেউ বলল। খুব আস্তে শুনা গেলেও স্পষ্ট!

ঘরে কেউ নেই! জানালা বন্ধ, শীতের দিন। জমির সারা ঘরে তাকালো। টিনের একটা ঘরে সে একাই থাকে। গ্রামের এক কোনায় তার এই ঘর ,এদিকটায় তেমন কেউ আসেনা। সে ভয়ে ভয়ে আবার পা ফেলতে গেল। আবার সেই একই ধমকের সুরে  আদেশ। খুব ধীরে আর স্পষ্ট!

সে ভয়ানক চমকে দেখল তার খাটের শেষ মাথায় ক্ষুদ্র আলো। দুই আলো পাশাপাশি জ্বলছে! ধীরে ধীরে জমির কাছে গেল। শব্দটা সেই দিক থেকেই এসেছে। কাছে যেতেই বুঝল উজ্জ্বল এই দুই আলো হচ্ছে চোখ। আর চোখ দুইটি একটি পিঁপড়ার! বেশ বড় পিঁপড়া! 

 অবাক বিস্ময়ে দেখল এই পিঁপড়া কথা বলছে! জমিরের মুখ হা হয়ে গেলো। চোখ বড়  বড় হয়ে গেলো। দেখতে পিঁপড়ার চেয়ে একটু বড় পিঁপড়ারটা বলল ,’ আমি পিঁপড়াদের রাণী।‘    

 জমির হা করা মুখ আরও বড় হল। আর মুখ হা করে ঘরে প্রবেশ করা ভোরের  সামান্য আলোতে দেখলো, লাখ লাখ পিঁপড়া তার ঘরের মেঝেতে! এক লাফে সে বিছানায় উঠে এলো। সে প্রায় আর্তনাদ করে বলে উঠলো , ‘আমি এখনও ঘুমাচ্ছি ! স্বপ্ন দেখছি ! স্বপ্নের মধ্যে জেগে উঠেছি।‘

রাণী পিঁপড়া সেকথা শুনতে পেয়ে বলল ,’ এই মানুষ ! মোটেও তুমি ঘুমাচ্ছ না।‘

জমির বলল ,’ আমি স্বপ্নের মধ্যে জেগেছি ! এখন আমি স্বপ্নের মধ্য ঘুমাবো! এক্ষণই ঘুমাবো ‘!

জমির আর ঘুমাতে পারলনা। তারপর অনেক সময় কেটে গেল। একটা সময়ের পর সে বুঝল ,সে স্বপ্ন দেখছে না! যা ঘটছে তা বাস্তব!  

রাণী পিঁপড়া বলল ,’ আমরা প্রতি বছর বসন্তের প্রথম পূর্ণিমায় আগের ভোরে দলবল নিয়ে মাটির উপড়ে আসি। মধ্যরাত পর্যন্ত থাকি। তারপর আবার ফিরে যাই। আজকের রাতটা আমাদের উৎসবের রাত। বছরে একবারই আমরা মাটির উপরে উঠে আসি।‘   

জমির পিপড়ার রাণীর কথাগুলো শুনে ,শুনে যায়! কোন কথা বলে না , কথা খুঁজেও পায়না ! কি বলবে , কি বলা যেতে পারে! মাঝে মাঝে মাথার চুল টেনে ধরে। চোখ বন্ধ করে ওঁ ! ওঁ! ওঁ! করে। তারপর কেটে গেল অনেক সময়। জমিরের মনে হল যেন এক যুগ কেটে গেছে বা যুগের পর যুগ।  

যতই সময় যাচ্ছে জমিরের দুশ্চিন্তা বাড়ছে। সে বলতে থাকল ,’ আমাকে ছেড়ে দাও । আমাকে যেতে দাও। আমার আজ যে ক্ষতি হল তা সারা জীবনেও মিটবে না।‘

রাণী পিঁপড়া অবাক গলায় বলল ,’ প্রতি বছরই এই সময়ে একজন অথবা এক পরিবার আটকা পরে আমাদেরে আগমনে এমনটা খুব কমই হয়েছে। জঙ্গলেই আমরা উৎসব করা হয় এক দিন , একরাতের জন্য।  কিন্তু এমন কথা তো শুনিনি!  সবাই আমদের ভয়ে অস্থির থেকে টু শব্দটা করে না। আর তুমি বিরক্তই করে যাচ্ছ? আমরা ইচ্ছে করলে তোমাকে খেয়ে ফেলতে পারি। ভয় হচ্ছে না এতটুকু? ভারি অদ্ভুদ কথা! ভারি অদ্ভুদ কথা!’   

জমির কাঁদো কাঁদো গলায় বলল, ‘বর্গার কৃষকরা ধান ক্ষেতে এসে বসে থাকবে , তাদের আজকের দিনের টাকা বেহুদা আমাকে দিতে হবে। আমার অনেক বড় ক্ষতি হয়ে গেল যে। তোমরা এসব বুঝবেনা। তুমি আর কাউকে পেলে না। আমার এত বড় ক্ষতিটা করলে।‘

রাণী পিঁপড়া বলল ,’ এ আমরাই বা কোথায় এলাম! ভয় নেই এ মানুষটার! কি অদ্ভুদ ! এই তুমি থাম তো। আমাদের আনন্দ করতে দাও। আর ঘরে কোন খাবারই নেই কেন। চিনি থাকে না এমন ঘরে প্রথম এলাম।

জমির অশান্ত গলায় বলল,’ চিনির অনেক দাম। তাই আমি চিনি খাই না। আর অন্য জিনিসের ও অনেক দাম।‘

একটু পর পর জমির কাঁদতে কাঁদতে একই কথা বলে যেতে লাগল যে, আমার অনেক ক্ষতি হল।

তখন রাণী পিঁপড়া বলল , আমাদের আনন্দ করতে দাও। আর যাবার আগে তোমাকে তো সোনার মোহর দিব ,প্রত্যককেই তো দেই। এখন চুপ কর।‘

সোনার মোহরের কথা শুনে জমির একদম পাল্টে গেল। ‘সোনার মোহর! সোনার মোহর!’ বলে চেঁচাতে লাগল। 

রাণী পিঁপড়া মহা বিরক্ত হয়ে বলল, ‘তুমি কি চুপ করবে? আমাদের আনন্দ করতে দিবে? আচ্ছা দাঁড়াও তোমাকে চুপ করাচ্ছি। এই যে তোমার ঘর, এই মাটির অনেক নিচে আছে এক সোনার নৌকা! তুমি কি তা জানো?  তুমি যদি চাও ওখানে যেতে পারো। কিন্তু আমাদের আনন্দ করতে দাও। তোমার চেঁচামেচিতে এই প্রথম আমরা কোন আনন্দই করতে পারছি না।‘  

জমির চুপ হলো।  

‘তোমার সেখানে যাওয়া উচিৎ। সোনার নৌকাটা দেখে হয়তবা তোমার ভালো লাগবে। আর আমরাও রেহাই পাব। কারন তুমি বড়ই বিরক্ত করছ। তুমি কি সেখানে যেতে চাও ?’   

জমিরের শ্বাস যেন বন্ধ হয়ে আসছে। বলে কি সোনার নৌকা! সোনার! বলে কি সোনার নৌকা! খুব উচু গলায় জমির চেঁচেয়ে বলল ,’আমি সোনার নৌকা দেখব! আমি সোনার নৌকা দেখব !’ বলতে বলতে থেমে গেল। তারপর ভ্রু কুচকে জানতে চাইল , মাটির নীচে সোনার নৌকা এলো কোথা থেকে?’    

রাণী পিঁপড়া রেগে গিয়ে বলল,’ তুমি কি চুপ করবে?’

জমির বলল, আগে বলো সোনার নৌকা কিভাবে খুজে পেলে? কিভাবে এলো?’

রাণী পিঁপড়া প্রচন্ড রেগে গিয়ে বলল, ইচ্ছে করছে তোমাকে খেয়েই ফেলি। তুমি আমাদের এত বিরক্ত করছ! এমনটা কখনো কোনদিন হয়নি।‘

জমির যেন শুনতে পেল না। সে অস্থির হয়ে জানতে চাইল,’ কিভাবে এলো আমার ঘরের নীচে সোনার নৌকা? তুমি কি করে তা জানো?‘    

রাণী পিঁপড়া উড়ে এসে তার নাকের উপর বসল। রেগে বলতে লাগল,’অনেক কাল আগে তোমার এই বাড়ির জায়গাটা ছিল নদীর তীর আর তখনকার রাজার ঘাট ছিল এটা। রাজার বড় নৌকার শখ ছিল। একদিন তিনি সোনার নৌকা তৈরির আদেশ দিলেন। নৌকা তৈরি করতে একোটা বিশাল গুহার মত ঘর তৈরি করা হলো। একদিন নৌকা তৈরি হয়ে গেল। তারপর পরই নদীর ভাঙ্গন শুরু হলো। ভাঙ্গনের কারণে এই  রাজার ঘাট ,রাজ বাড়ি সব নদীর নীচে চলে গেল। কিন্তু নদীর তীরের এই জায়গা ভাঙ্গল না, দেবে গেল সেই সোনার নৌকা সহ।‘         

জমির বলল,’ তুমি দেখছি অনেক খবর রাখ!’ 

রাণী পিঁপড়া বলল, ‘মানুষই কেবল তার নিজের কথাই ভাবে। মানুষ তো লোভী। তোমাদের প্রথম মানুষও লোভী ছিল। মানুষ ভয়ানক লোভী। তুমি যাও। এখানে থাকলে তোমার বিরক্তে আমাদের সব আনন্দ নষ্ট হইয়ে যাচ্ছে।‘

জমির লাফিয়ে উঠে বলল , ‘এখনি যেতে চাই।‘

‘অপেক্ষা কর তবে। সুরঙ্গ করতে বলে দিচ্ছি আমার সৈন্যদের। তবে একদম চুপ।‘

জমির চুপ করে অপেক্ষা করতে লাগলো। 

জমির বালিশের নীচে থেকে টর্চটা নিলো। এটি তার সঙ্গী। যখন সে বাড়ি থেকে বের হয়, এটি তার সঙ্গী। কারন বাড়ি ফিরতে প্রায়ই রাত হয়। এটি হাতে নিতেই তার সাহস পায় যেন। জমির টর্চ লাইট সঙ্গে নিলো।     

রাণী পিঁপড়া বলল, ‘এবার তুমি ঘুমাও। হায় মানুষ! তুমি এখানের আনন্দ থেকে নিজেকে বঞ্চিত করলে !’

জমির দেখল তার ঘুম পাচ্ছে। আরে অস্তে অস্তে সে ঘুমে ঢলে পরছে। সে চোখ বড় বড় করে রাখার চেষ্টা করল। পারলো না । ঘুমিয়ে পরলো।  

ব্যথা পেয়ে ঘুম ভাঙ্গল জমিরের। মনে হল তার হাতে কোন পোকা কামড়ালো।  চারদিক অন্ধকার। দিন হলে তো বন্ধ জানালার ছিদ্রু দিয়ে আলো আসতো। কি সব অদ্ভুদ স্বপ্ন দেখছিল সে! লক্ষ লক্ষ পিঁপড়া, পিঁপড়া রাণী কথা বলছিল! কি অদ্ভূত স্বপ্ন!  

এমন অদ্ভুদ স্বপ্ন সে জীবনে দেখেনি , শুনেওনি ! তারপর তার ঘুমের আগের দৃশ্য মনে হল। সোনার নৌকার কথা মনে হতেই সে লাফিয়ে উঠে বসল। তখনই ব্যথাটা বাড়ছে যে টের পেল। হাতে কি কামড় দিল! মশা তো নয় ,অন্য কিছু।

একটা মশারি কেনা দরকার। অসুস্থ হলে ডাক্তারের পিছনে খরচ অনেক। আর ডাক্তাররা মানেই তো অনেক অনেক টাকা। নাহ , আজই বাজারে গিয়ে ছোট্ট একটা মশারি কিনতে হবে। পুড়ান মশারি পাওয়া গেলে ভালো হত। দাম আরও কম হত। সে শুয়ে পরল আবার। অতি ভোরে উঠে জমিতে যেতে হবে। প্রায় তিন মাইল হেঁটে যেতে হবে। অবস্য অর্ধেক পথ রিক্সায় যাওয়া যায়। কিন্তু রিক্সাওয়ালা সব ডাকাত  হয়ে গেছে। আর দরকারই বা কি। হাঁটলে স্বাস্থ্য ভাল থাকে। এসব নিয়ে ভাবতে ভাবতে সোনার নৌকার কথা মনে হল। সোনার নৌকা ! আহ ! সত্যি যদি এমন হত ! ঠিক তখনই হাতে বলতে গেলে একই জায়গায় আরেকটা কামড় দিল কোন পোকা!  

‘আরে’ বলে আরেকটা হাত সরাতেই সে টের পেল টর্চটা! দ্রত হাতে নিতেই মনে হল এটা তো এখানে থাকার কথা না। টর্চ থাকে বালিশের নীচে। বালিশটা তবে গেল কোথায়?  

তখন আবার মনে হল টর্চ বালিশের নীচ থেকে হাতের কাছাকাছি এলো কিভাবে! তারমানে কি! খুব সোজা সে এখনও স্বপ্নের মধ্যেই আছে! তারমানে সে সবপ্নের মধ্যে উঠে ছিল। আবার সবপ্নের মধ্যে। সে একবার ঘুমিয়ে পরেছিল। আবার সেই সবপ্নের মধ্যে আবার জেগেছে! তার খুব হাসি পেল। এসব কি হচ্ছে! এসব কি ঘটছে! আরে ভোরে উঠতে না পারলে তো কৃষকদের খামখা টাকা দিতে হবে। তখনই মনে হল আবার সোনার নৌকার কথা। লাফিয়ে উঠে, হাতে টর্চ টা নিয়ে অন করল টর্চ। সে চমকে উঠল। বিশাল একটা গুহার শুয়ে আছে সে।  

জমির আলো ফেলে ফেলে সোনার নৌকা দেখতে লাগল। সে আনন্দে, অস্থিরতায় আত্মহারা হয়ে সোনার নৌকা স্পর্শ করতে লাগল।  

 বলতে গেলে প্রচন্ড আনন্দ সাথে নিয়ে একটা সময় জমির ঘুমিয়ে গেল। যখন ঘুম ভাঙ্গল তখন সে আবার আবিস্কার করল সে অন্ধকারেই শুয়ে আছে। একে একে সব কথা তার মনে পড়ল। তখনই সে দেখল ক্ষুদ্র দুইটি আলো। সেই চোখ! পিঁপড়ার রাণী!

রাণী পিঁপড়া কথা বলে উঠতেই সেই কথার প্রতিধ্বনি হলো গুহাটায়। ‘সোনার নৌকা দেখে তোমার কেমন লাগল?’

জমির অস্থির গলায় বলল,’আমি সোনার নৌকাটি  নিতে চাই?’

‘হ্যা সেটা তোমাকে দেওয়া হবে। এটি তোমার।‘

‘আমার?’ জমির চিৎকার করে বলে উঠোলো।

‘হ্যা তোমার।‘  

জমিত প্রচণ্ড অস্থির গলায় বলল,‘আমি এটিকে কিভাবে উপরে নিয়ে যাব।‘

‘নিয়ে যাওয়া তো যাবে না।‘

‘তাহলে?’

 ‘তুমি এখানেই থাকবে। আমাদের সাথে।‘

August 3, 2019 0 comment
0 FacebookTwitterPinterestEmail
কিশোর গল্প

বন্ধু (কিশোর গল্প)

by Admin August 2, 2019
written by Admin

মোঃ নোমান সরকার

মোরগ দাঁড়িয়ে আছে গাছের উঁচু ডালে। তীক্ষ দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে আকাশ পানে।  সে দেখলো একটা তীব্র আলো, সাথে একজন আকাশ থেকে নীচে নামছে। আর অন্ধকার দূর হচ্ছে। ভোর নেমে আসছে পৃথিবীতে। মোরগ তা দেখতেই ডাকলো, ‘কুক কুরো কুক!
কুক কুরো কুক!’     

শিয়ালের ঘুম ভেঙ্গে গেল। সে চোখ খুলেই জোরে জোরেই বলল, সকাল হয়েছে বলেই কি এমন করে ডাকতে হবে? গতকাল সারা রাত ঘুমাতে পারিনি। চুরি করতে যাওয়া এখন অনেক কঠিন হয়ে গেছে। আর এই মোরগ সকাল হতেই এমন ডাকাডাকি করে, আমার ঘুমটাই দিল ভেঙ্গে। দুনিয়ায় সবাই যদি এভাবে শত্রুতা করে তাহলে চলবে কি করে? আহা একটু ঘুমিয়ে নিতে পারতাম।

পাস দিয়ে যাচ্ছিল পিঁপড়ার দল। রাণী পিঁপড়া বলল, শিয়ল মশাই সবার দোষ ধরাই তোমার কাজ। মোরগের ডাক না শুনলে আমাদের সকালটাকে সকাল বলে মনে হয় না।        

শিয়াল বলল, তোমাদের যত আজে বাজে চিন্তা। সকাল হচ্ছে আরাম করে ঘুমানোর জন্য। এই সময় কেউ কাউকে বিরক্ত করতে নেই।

রাণী পিঁপড়া বলল, তুমি তোমার ছোট বাবুদের ফেলে দিয়েছ বলে তুমি তাদের স্কুলে নিবার কথা ভুলে গেছে। তুমি একটা পচা বাবা। তা কি তুমি বুঝ?  

শিয়াল বলল, তুমি চুপ থাক,ছোট প্রানী, ছোট ছোট কথা বলো। মোরগ হলো দিনের শত্রু। সে সবারই শত্রু।  

রাণী পিঁপড়া বলল,অযথা অন্যকে শত্রু ভেব না। অহংকার করো না। এই দিন পস্তাতে হবে।     

শিয়াল বলল, জ্ঞান দিতে হবে না, ভাগো এখান থেকে।            

শিয়াল দেখল, পিঁপড়ারা সরে গেল না। এদেরকে ভয়ই করে। খুব ছোট হোক, কিন্তু দলবদ্ধ হয়েই চলে। নিজেদের ভিতর ভুল বুঝাবুঝি নেই ওদের। কেউ কাউকে ছোট করে না, উঁচু নিচু ভাবে না। তাই একে অন্যকে অপমান করে না বলেই এদের নিজেদের ভিতর কোন শত্রুতা নেই। আর মিল থাকে। এদের সাথে শত্রুতা করতে চাইলে এরা তার সাথে শত্রুতা করে। কিন্তু ভদ্র বলেই নিজ থেকে শত্রুতা শুরু করে না। এরা ইচ্ছে করলে তাকে ঘিরে ফেলে খেয়ে ফেলতে পারে। শিয়াল  সরে গেল।  ভয় লাগছে এদের সাথে তর্ক করেছে বলে। কিন্তু মুখে তা প্রকাশ করল না। সে এমন ভাবে সেখান থেকে সরে এলো যেন কিছুই হয়নি বা পিঁপড়ার রাণীর সাথে তার কোন কথাই হয়নি।

পিঁপড়ার রাণী বলল, তুমি কি চলে যাচ্ছ? তুমি ইচ্ছে করলে ঘুমাতে পার। আমরা  তোমাকে বিরক্ত করব না। আর কেউ এলে তাকে বিরক্ত করতেও দিব না।

শিয়াল হাসলো। না না আমি এখন আর ঘুমাব না। ঘুম ভেঙ্গেছে যখন তখন একটু বেড়িয়ে আসি।  

শিয়াল মনে মনে বলল, দূরে সরে থাকাই ভালো এই দলবদ্ধ প্রাণীদের থেকে। এদের ঘাড় না ভাঙ্গতে চাওয়াই ভালো।

শিয়াল হাঁটতে লাগল। তার ঘুমের প্রয়োজন। আজ রাতে আবার তাকে মুরগী চুরি করতে বের হতে হবে। কিন্তু কৃষকরা অনেক চালক হয়ে উঠেছে। এরা খাঁচা ভাঙ্গাবার কোন সুযোগ রাখেনি। কিন্তু মুরগী তো তার চাই ই চাই।

শিয়াল নদীর তীরে যেতেই দেখল কুমিরের দল। তারা বলল, আরে শিয়াল ভাইয়া যে, ‘এসো এসো।‘  

শিয়াল হাসি মুখে তাদের এড়িয়ে চলে গেলো গভীর বনে। কিন্তু সেখানে বাঘ শুয়ে আছে। সেও বলল, ‘এসো এসো।‘

শিয়ালের চোখ ছোটছোট হয়ে এসেছে সে আর পারছে না। ঘুমে মনে হয় পড়েই  যাবে।  

এমন সময় সে দেখল হরিণের দল। সে তাদের বলল যে গত রাতে পিঁপড়াদের যন্তণায় সে ঘুমাতে পারেনি। আর ভোর হতেই মোরগের ডাক। সে একের পর এক মিথ্যা বলেই যেতে লাগলো। অবশেষে তার কথা বিশ্বাস  করল হরিণের দল। তারা তাকে ঘিরে রাখল। আর গভীর ঘুমে তালিয়ে গেল শিয়াল।    

একটা ডাকে তার ঘুম ভাঙ্গল। সে টের পেল প্রচন্ড রোদ তাকে ঘিরে আছে। তাকে ধাক্কাচ্ছে একটা হরিণ। সে বলল, ‘হায়নারা তাদের ঘিরে ধরতে যাচ্ছে, এখনই পালাতে হবে।‘  

শিয়াল দেখল নিমিশেই হরিনের পাল অদৃশ্য হয়ে গেল। সে শুনতে পেল হায়নাদের ডাক। 

শিয়াল দৌড়াল। হায়নারাও। ছুটতে ছুটতে সে এক সময় হাঁপিয়ে উঠল। সে  দেখল, হায়নার দল তাকে ঘিরে ফেলেছে। আর তখনই সে দেখতে পেল সে দিনের শুরুতে যে জায়গাটায় শুয়ে ছিল সেখানেই এসে দাড়িয়েছে বলা যায়।

হায়নারা তাকে ঘিরে ফেলে ধীরে ধীরে কাছে চলে আসছে। বৃত্ত ক্রমেই ছোট হচ্ছে। ঠিক তখন শিয়াল দেখল গাছের উপর থেকে মোরগটা ডেকে উঠল। একি! হায়নারা হঠাত করেই সরে যাচ্ছে।

মৃত্যু ভয় শিয়ালকে খেয়েই ফেলেছিল। কিন্তু হঠত করে হায়নাগুলো সরে যেতেই যেন জীবনের স্বাদ তাকে প্রচণ্ড আনন্দে ভাসালো। সে দেখতে পেলো হায়নাগুলো দ্রুত সরে যাচ্ছে, যেন তারা পালাচ্ছে! আর তখনই সে দেখলো অজস্র পিঁপড়া তাড়া করছে হায়নাদের। প্রতি নিয়ত পিপড়াদের রাজ্য বড় হচ্ছে। হায়ানাদের দৌড় আর দেখে কে!

শিয়াল কৃতজ্ঞ দৃষ্টিতে গাছে এক পায়ে দাঁড়িয়ে থাকা মোরগটাকে দেখল। আর তখন শুনতে পেলে রাণী পিঁপড়া বলছে, বললাম তুমি ইচ্ছে করলে ঘুমাতে পারো। আমরা তোমাকে বিরক্ত করব না। আর কেউ এলে তাকে বিরক্ত করতেও দিব না।

শিয়াল লজ্জিত হয়ে ভাবলো, যাকে বন্ধু বলতে লজ্জা হতো সে কিনা আজ জীবন বাঁচালো! সে মুখে কিছু বলল না। আর শুয়ে পড়ল। পরম নিশ্চিন্তে সে চোখ বন্ধ করলো।   

August 2, 2019 4 comments
0 FacebookTwitterPinterestEmail
কিশোর গল্প

দাস (কিশোর গল্প)

by Admin August 2, 2019
written by Admin

মোঃ নোমান সরকার

বহু দিন পর আনেক গুলো হরিণ একত্রে এদিকটায় পানিতে নেমেছিল। কুমিরগুলো তার কয়েকটাকে ধরে খেতে পেরে খুবই আনন্দ করছে। কুমিরদের মাঝে যে বড়। সে বলে উঠল,’হরিণের পালটা সহজে আর এদিকটায় আসবে না। ওদের সাথে যাদেরই দেখা হবে, মানে অন্য প্রানীদের দেখা হবে, তাদেরই ওরা আমাদের কথা বলে দিবে। এদিকে সহজে কেউ আসবে না। চল,আমরা জায়গাটা বদলাই’।

তারা সবাই বড় কুমিরের কথা মেনে নিল । তারা নতুন যে জায়গাটা পছন্দ করল সেখানে পানি খুব একটা গভীর নয়। তবে রোদ পোহাবার জায়গাগুলো বেশ ভালো লেগেছে তাদের। একদিন সেখানে বাঘ এল পানি পান করতে। এসে দেখল কয়েকটা কুমির রোদ পোহাচ্ছে। বাঘ অবাক হল। কুমিরদের এ বনের আশে পাশে আগে কখনও দেখেনি ।

বাঘ বলল,’ আমার রাজ্যে একি আনাচার ! পানির প্রানী তোমরা পানিতেই থাকো, আমার রাজ্য থেকে চলে যাও ‘।

দূর থেকে বয়স্ক কুমির টা বাঘ দেখতেই সামনে চলে এলো। তারপর সাদা মাটা গলায় বলল,তুমি কে? জানতে পারি’?

বাঘ চারদিকে তাকাতে তাকাতে বলল, আমি বনের রাজা ।’

‘রাজা! চমৎকার ! আমরা খুবই আনন্দিত বনের রাজা কে আমাদের মাঝে পেয়ে। তা শুনেছি তোমাদের বনে আনেক গুলো হরিণের দল থাকে। হরিণ আমাদের খুব পছন্দ হয়েছে ‘।

বাঘ বিস্মিত হল ! ‘তোমরা সবাই পানিতে নামো। নেমে যাও। আমার রাজ্যে এসব হবে টবে না। আমার রাজ্য ত্যাগ কর’।

বয়স্ক কু্মির শান্ত গলায় বলল,’হে মাটির রাজা ! আমাদের রাজ্য হচ্ছে পানি। আর আমি পানির রাজা। আমাকে তুমি মহা রাজা বলে ডাকতে পারো। আমি পানির মহা রাজা ঘোষণা করছি যে এখন থেকে তোমাদের বনের কেউ পানি পান করতে পারবে না, যতক্ষণ প্রতিদিন আমাদের সবার খাবার হরিণের ব্যবস্তা না হবে’।

বাঘ রেগে গেল। ‘এসবের মানে কি !’ হুলুংকার দিয়ে উঠল।

কুমির ভারী গলায় বলল,’তুমি বনের রাজা কিন্তু তুমিও পানি পান কারতে পারবে না। কারন মহা রাজার আদেশ করা হয়ে গেছে। বাঘ কুমিরের কাণ্ড দেখে হতবাক হয়ে গেল। বাঘ দেখল আজস্র কুমির পানিতে! চমকে উঠল! এ অবস্তায় পানি পান সম্ভব না। পানি না হলে কি চলে!

বাঘ সরে এলো জায়গা থেকে। এমন অদ্ভুত ধরনের বিপদে আগে কখনই পরেনি! কখনও শোনেনি! ভাবতে ভাবতে কেটে গেল আনেক সময়। প্রচণ্ড পানির তৃষ্ণা পেয়েছে। বাঘ গেল নদীর অন্য দিক টায় । সেখানেও কুমির ! বাঘ দেখল কুমিরের মহা রাজা কে ভেসে আসতে।

কুমিরের মহা রাজা হাসি ভরা গলায় বলল,’ কি ঠিক করলে?’ ‘ কি?’ বিরক্ত গলায় বাঘ বলল। ‘ যদি চাও পানি তবে দিতে হবে হরিণ ‘।

‘সেটা কি করে সম্ভব’ ? বাঘ উত্তেজিত হয়ে বলল।

‘তুমি হরিণের পালটাকে তাড়িয়ে আনবে, ব্যস’ ।

বাঘ আঁতকে উঠে ভলল,‘কি বকছ তোমরা !’

‘পানি চাইলে আমাদের প্রিয় খাবারতো দিতেই হবে। আরে তুমি তো কেবল হরিনের পালটা তাড়া দিয়ে আমাদের একটু সাহায্য করবে, এর বেশী কিছু কি চাচ্ছি না’।

বাঘ ঘাবড়ে গিয়ে বলল,‘বনের রাজাকে হুকুম করছ’ !

কুমির খুবই শান্ত গলায় বলল,‘এভাবে ব্যপারটা দেখছ কেন ! আমি কি বলেছি যে, এতদিন যে পানি পান করেছ, তার খাজনা দিতে হবে।’

বাঘ অনুরোধের স্বরে বলল,‘ আচ্ছা এখন আমাকে পানি খেতে দাও’।

‘রাজা কি তবে মহা রাজার হুকুম অমান্য করতে চাইছে ! আগে ভোজ তারপর পানি।’

বনের রাজা পানি থেকে দৃষ্টি ফিরিয়ে বনের চার দিকে ভাল করে দেখলো, গাছগুলোও দেখলো!

আর সেদিন থেকে তাই হল, বনের রাজা বাঘ, কুমীর মহা রাজার গোলাম হয়ে গেলো!

August 2, 2019 0 comment
0 FacebookTwitterPinterestEmail
শিশুতোষ গল্প

হাতির নাম ইলং

by Admin August 2, 2019
written by Admin

মোঃ নোমান সরকার

হাতির ছোট বাবুর নাম ইলং। হাতি তার সেই ছোট বাবু ইলংকে নিয়ে এসেছে শহর দেখাতে। শহর দেখে মুগ্ধ ইলং। তার ইচ্ছে হলো এই শহরেই থেকে যেতে। শহরে  এসে ইলং ইচ্ছে হলো একটা গাড়িতে উঠার। হাতি বলল, তুমি গাড়িতে কিভাবে উঠবে! গাড়িতে উঠতে টাকা লাগে। আমার কাছে তো কোন টাকা নেই।  

ইলং বলল, মা টাকা লাগে কেন?

হাতি বলল, তা তো জানি না। অধিকাংশ কেনর কোন উত্তর আমার জানা নেই। এই সব মানুষেরাই ভালো  জানে। তবে সব মানুষেরা জানে না। কিছু মানুষ জানে।

ইলং বলল, এটা আবার কেমন কথা! মানুষেরাই যদি জানে, তবে তো সব মানুষেরই তো জানার কথা। কিছু মানুষ জানবে কেন মা?         

হাতি বলল, আমি তো সেটাও জানি না। যা জানেছি তাই তোকে বললাম। তবে একজন মানুষের সাথে কথা হয়েছিল তো। সে বলছিল উঁচু উঁচু বিল্ডিং এ যারা থাকে কেবল তারাই সব জানে।

ইলং মাথা উঁচু করে উঁচু উঁচু বিল্ডিং এ দেখতে লাগল।  আরে এ যে পাহারের চেয়েও বড়! তারপর সে মায়ের দিকে ঘাড় ঘুরিয়ে বলল, তার মানে কি! উঁচু উঁচু বিল্ডিং এ যারা থাকে কেবল তারাই সব জানে। তাহলে উঁচু উঁচু বিল্ডিংএ থাকা মানুষেরা ইচ্ছে করে অন্য সবাইকে সব কিছু জানতে দিচ্ছে না।    

হাতি বলল, চুপ থাকো। এই সব মানুষের বিষয়। এ নিয়ে আমরা জঙ্গলে ফিরে গিয়ে কথা বলবো। 

মা! আমার মনে তো অনেক প্রশ্ন!

হাতি বলল, তোমাকে আমার শহরে নিয়ে আসাটাই ভুল হয়েছে, দেখছি।

ইলং বলল, মা আমি উঁচু উঁচু বিল্ডিং এ থাকব।

হাতি খুবই বিরক্ত হলো। হাতির তার বাচ্চাদের সব বায়নাই মিটায় কিন্তু ইলং যা চাচ্ছে তা কি করে সম্ভব!

হঠাত হাতি দেখল বিশাল বড় একটা কুমির পাশ দিয়ে দ্রুত হেঁটে যাচ্ছে।  

হাতি কিছুটা দৌড়ে গিয়ে তাকে থামালো।

কুমির বলল, আরে আরে আমাকে থামালে কেন? আমার খুব তাড়া আছে।

হাতি তাকে সব খুলে বলল।

কুমির বলল, ছোট বন্ধু, তুমি এদিকে এসো। আমি তোমার বায়না মিটাব। বলেই সে একটা টেক্সি ডাকল।

হাতি আর কুমির দৌড়াচ্ছে টেক্সির সাথে সাথে। হাতির ধারনা যে কোন সময় বাচ্চাটা আমার পড়ে যেতে পারে। কুমির যেদিকে যাবার কথা ছিল ,সেই দিকেই টেক্সিটা যাচ্ছে। 

একটা বিশাল বড় বিল্ডিং এর সামনে থামল টেক্সিটা। সাথে হাতি আর কুমিরও।

হাতি বলল, এখানে কি?

কুমির বলল, এটা আমি বানিয়েছি। এটা হচ্ছে এই দেশের সবচেয়ে বড় বিল্ডিং। আর এখানেই থাকে এই দেশের সেরা সেরা জ্ঞানী মানুষেরা। যারা সব প্রশ্নের উত্তর দিতে পারে।  

ইলং বলল, আমিও এই বিডিং এ থাকতে চাই।

কুমির হাসল। তারপর বলল, জ্ঞানীরা ছাড়া এখানে কেউ যে থাকতে পারে না। তুমিও এখানে থাকতে পারবে। কিন্তু তার আগে তোমাকে অনেক জ্ঞান অর্জন করতে হবে। আর এর জন্য আগে তোমাকে স্কুলে ভর্তি হতে হবে। আর পড়ালেখা খুবই মন দিয়ে শিখে নিতে হবে।

ইলং খুশি হয়ে রাজী হয়ে গেল। কিন্তু সে রাজী হলেই ত হবেনা, মাকে তো আগে রাজী হতে হবে।

হাতি বেশ কিছুক্ষন চুপ থেকে বলল, আগে জ্ঞান অর্জন, তারপর বাকী সব। ঠিক আছে আমি আজই তোমাকে স্কুলে ভর্তি করে দিব। তবে শহরের স্কুলে না। আমাদের  জঙ্গলের স্কুলে। যেখানে আমার ছোঁয়া পেয়ে প্রতিদিন স্কুলে যাবে। আবার আমার কাছে ফিরে আসবে। আমিও জেনে নিব কি কি শিখেচ্ছে তোমাকে।

কুমির বলল, সেটাই সবচেয়ে ভালো। যে শিশু কিশোরেরা মা বাবার ছোঁয়া পায় না তাদের অনেক বেশি কষ্ট। আর তারা অন্য সবার মতন আদর থেকে বঞ্চিত হয়। আদর ছাড়া বড় মাপের কেউ হতে পারে না। আগে মনকে তো বড় করতে দিতে হবে, তবেই মূল শিক্ষাটা মাথায় ঢুকবে।

ইলং খুশি হয়ে মায়ের গা ঘেঁসে দাঁড়াল।  

মা সবচেয়ে উঁচু বিল্ডিংটার দিকে মাথা তুলে তাকিয়ে বলল, কুমির তুমি দেখে নিও, একদিন ইলং এই বিল্ডিং থাকবে।

August 2, 2019 0 comment
0 FacebookTwitterPinterestEmail
Newer Posts
Older Posts

Categories

  • আমার ছোটবেলা
  • আমার ভাবনা
  • কিছু কথা
  • কিশোর গল্প
  • গল্প
  • ছড়া
  • জানা অজানা
  • ভূতের গল্প
  • রান্না ঘর
  • রূপকথা
  • শিশুতোষ গল্প
  • স্বাস্থ্য কথা
  • Facebook
  • Twitter

@2021 - All Right Reserved. Designed and Developed by PenciDesign


Back To Top
Samogro
  • মূলপাতা
  • সাহিত্য
    • কিশোর গল্প
    • শিশুতোষ গল্প
    • ছড়া
  • কিছু কথা
    • আমার ছোটবেলা
    • স্বাস্থ্য কথা
    • জানা অজানা
    • বিবিধ
  • তুলির আঁচড়
    • গ্যালাক্সি
  • কেনাকাটা
  • রান্না ঘর
    • রান্না ঘর

      স্পাইসি চিকেন গোজন্স

      November 16, 2019

      রান্না ঘর

      বাটার কেক

      November 11, 2019

      রান্না ঘর

      ডিমের কোরমা

      July 31, 2019

      রান্না ঘর

      কাঁকরোলের দোলমা

      July 27, 2019

      রান্না ঘর

      মিষ্টি কুমড়া দিয়ে মুরগী রান্না

      July 19, 2019

  • আমাদের কথা
  • যোগাযোগ