• মূলপাতা
  • সাহিত্য
    • কিশোর গল্প
    • শিশুতোষ গল্প
    • ছড়া
  • কিছু কথা
    • আমার ছোটবেলা
    • স্বাস্থ্য কথা
    • জানা অজানা
    • বিবিধ
  • তুলির আঁচড়
    • গ্যালাক্সি
  • কেনাকাটা
  • রান্না ঘর
    • রান্না ঘর

      স্পাইসি চিকেন গোজন্স

      November 16, 2019

      রান্না ঘর

      বাটার কেক

      November 11, 2019

      রান্না ঘর

      ডিমের কোরমা

      July 31, 2019

      রান্না ঘর

      কাঁকরোলের দোলমা

      July 27, 2019

      রান্না ঘর

      মিষ্টি কুমড়া দিয়ে মুরগী রান্না

      July 19, 2019

  • আমাদের কথা
  • যোগাযোগ
Samogro
রান্না ঘর

বাটার কেক

by Admin November 11, 2019
written by Admin

[ সায়ীদ আব্দুল্লাহ। আমাদের প্রিয় সায়ীদ ভাই। উনি ভায়ের দুই ছেলে, মাহিন ও রাইয়ান। তিনি শখ করে রান্না করেন। খুব মজার মজার খাবার নিজে বানাতে পছন্দ করেন। তিনি বলতে গেলে শুরু থেকে আমাদের এই সাইটের সাথে আছেন। স্বপরিবারে দীর্ঘদিন ধরে থাকেন গোল্ড কোস্ট, কুইন্সল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়া। এটি তিনি প্রথম খাবারের রেসেপি শেয়ার করলেন আমাদের সাথে। আশা করি সবাই বানাবেন মজাদার এই কেক।  https://www.facebook.com/saeedmahdi.au]

বাটার কেক

ইনগ্রেডিয়েন্টস:

১। সেল্ফরাইজিং ফ্লাওয়ার দেড় কাপ [সেল্ফ রাইজিং ফ্লাওয়ারের তৈরি করতে ১ কাপ প্লেইন ফ্লাওয়ারের সাথে ২ চা চামচ বেকিং পাউডার ভালোভাবে মিশিয়ে নিলেই সেল্ফ রাইজিং ফ্লাওয়ার হয়ে যায়]

২। ডিম                                                  দুইটা

৩। মেল্টেড বাটার                                এক কাপ

৪। চিনি                                                 এক কাপ

৫। লবন                                               ১/৪ চা চামচ

৬। মিল্ক                                               ১/২ কাপ

৭। ফ্ল্যাভার                                        পছন্দ মতো (দাড়চিনির গুড়া ১/৪ চা চামচ)

৮। ড্রাই ফ্রুট অথবা পছন্দমতো যে কোন বাদাম

প্রিপারেশন:

লো ফ্লেইমে মিল্কটাকে হাল্কা গরম করে নিতে হবে। তারপর ঐ হাল্কা গরম মিল্কের মধ্যে এক কাপ চিনি ও লবন গলিয়ে নিন। মিশ্রনটি ঠান্ডা হলে দুটি ডিম ভালো করে মিক্স করে নিন। এরপর সেল্ফরাইজিং ফ্লাওয়ারগুলো মিশ্রনটির মধ্যে দিয়ে খুব ভালো করে মিক্স করুন। এবার গলানো বাটার ও এ্যাসেন্স এ্যাড করে ভালো করে মিক্স করে নিন।

বেকিং:

এবার বেকিং প্যানের মধ্যে বেকিং পেপার মুড়িয়ে বাটার ব্রাস করে নিয়ে মিশ্রনটি ঢেলে দিন। এবার মিশ্রনটির মধ্যে এক চা চামচ ফ্লাওয়ার দিয়ে ড্রাই ফ্রুট কিংবা বাদামগুলো মিক্স করে প্যানের মধ্যে মিশ্রনটির উপরে সুন্দর করে সাজিয়ে দিন। বেকিং টাইম: ১৪০ ডিগ্রী সে. প্রিহিটেড আভেনে কেক মিক্সটি দিয়ে ৫০ মিনিট বেক করুন। প্রয়োজনে সময় কমবেশী লাগতে পারে (বেকিং-এর মাঝখানে আভেন ডোর খোলা যাবে না। বেকিংএর মাঝখানে আভেন ডোর খুললে কেক রাইজিং বাধাগ্রস্থ হয়)। ৫০ মিনিট পর কেকটি নামিয়ে ঠান্ডা করে স্লাইস করে পরিবেশন করুন।

November 11, 2019 2 comments
0 FacebookTwitterPinterestEmail
শিশুতোষ গল্প

রাইয়ান আর মিউ বিড়াল

by Admin November 4, 2019
written by Admin

মোঃ নোমান সরকার

রাইয়ান তুমি কি ঘুমাচ্ছ?’ মিউ বিড়ালটা লেজ নাড়াতে নাড়াতে খাটের নীচ থেকে বের হয়ে খুবই উত্তেজিত গলায়  জানতে চাইল।

দুপুর বেলা। স্কুল থেকে এসে খাওয়া দাওয়া করে রাইয়ান বিছানায় শুয়ে ছিল ঠিকই কিন্তু তার চোখ খোলা ছিল। কিন্তু মিউ বিড়ালের কথায় চোখ বন্ধ করে বিরক্ত গলায় বলল, ‘তুমি না আড়ি নিয়েছ? আবার কেন এসেছে? আবার কথাও বলছ আমার সাথে?’

মিউ বিড়াল জোরে জোরে বলল,’ বাসায় ডাকাত এসেছে। আমি নীচে ওদের কথা বলতে শুনেছি।‘

রাইয়ান আড়ির কথা ভুলে গেল। লাফিয়ে মিউ বিড়ালের গলার শব্দটা যেদিক থেকে এসেছিল তা খুঁজে বের করে বলল, ‘সত্যি?’

রাইয়ান ভাবছে, মিউ বিড়াল খাটের নীচেই পালিয়ে ছিল! আবার আড়িও নেয়। ওকে কিছু একটা বলতে পারলে খুব ভালো লাগত। কিছু বলতে গিয়ে রাইয়ান থামল।

মিউ বিড়াল বলল,’ আমি সত্যি বলছি। আমি সব নিজ কানে শুনেছি ওদের সব কথা। ওরা বলছিল, বেল টিপ দিব প্রত্যেক ফ্লাটে। বেলের শব্দে অনেকেই হুট করে দরজা খুলে দেয় সেই সব ফ্লাটে ঢুকে যাব আমরা।’

রাইয়ান বলল,’আগে বলো, ডাকাত দেখতে কেমন? ইয়া বড় শিং আছে? দৈত্যের মতন দেখতে? এক দাঁত আছে ওদের কেবল? মাথাটা মতা? বিকট চেহারা?’

মি বিড়াল বলল, ডাকাতেরা তা হতে ্যাবে কেন! ওরা মানুষের মতনই। তবে ওরা দুষ্ট মানুষ।

মিউ বিড়াল বলল,’ ওরা বলছিল,বাসায় কেউ এলে দরজায় কড়া নাড়লে বা কলিং বেল টিপলে অনেকেই না জিজ্ঞাস করে, দরজার আই ভিউ এর ফুটো দিয়ে না দেখেই দরজা হুট করে খুলে দেয়। আমরা সেই সব বাসায় ঢুকে ডাকাতি করব। যারা হুট করে দরজা খুলে না। তারা হচ্ছে অতি বুদ্ধিমান। ওদের নিয়ে মাথা ঘামাতে চাই না। যারা হুট করে দরজা খুলে আমরা তাদের কাছেই যেতে চাই। এই বলে ওরা নিজেদের মধ্যে হাসাহাসি করছিল।’

রাইয়ান বলল,’আমিও তো তা করি। হুট করে দরজা খুলে দেই। মা তাই করে, বাবা করে, বুয়া করে।

মিউ বিড়াল বলল,’হায়! আজ জানলাম, এভাবেই তো তাহলে সর্বনাশ করে ওরা! আর আমি যাদের কথা শুনেছি ওদের মনে হচ্ছে বড্ড দুষ্ট। বুঝতে পার ওরা বাসায় ঢুকে যেতে পারলে কি হবে?‘

রাইয়ান বলল,’ আরে আমি তো বেলের শব্দ শুনলে দৌড়ে এসে গেট খুলি। কখনোই প্রশ্ন করি না। এমনকি দরজার আই ভিউ এর ফুট দিয়ে দেখি না, কে এসেছে। কখনই দেখিনা। এমনটি আমি আর করব না। না বাবা না, আর করব না। মাকে করতে দিব না, বাবাকেও না, বুয়াকেও না। কিন্তু এখন কি হবে? আমি তো অনেক অনেক ভয় পাচ্ছি!’

মিউ বিড়াল বলল,’ ধুর বোকা ,তুমি এখনো তো দরজাই খুলোনি।‘

রাইয়ান ভয়ে ভয়ে, ‘হ্যা! হ্য! তাই তো!‘

তখন কেউ বেল দিল। রাইয়ান ভয়ে সেই শব্দে লাফিয়ে উঠল। সে দরজার আই ভিউ এর ফুটো  দিয়ে দেখল কে এসেছে। সে দেখতে পেল তিন জন বড় মানুষ দাঁড়িয়ে। আর সত্যি সত্যি বিকট চেহারা সেই মানুষদের। ভয়ে রাইয়ান কাঁপতে লাগল।

মিউ বিড়াল বলল, ‘কাঁপছ কেন? তুমি তো এখনো দরজাই খুলনি। দরজা না খুললে ওরা তো ভিতরে ঢুকতে পারবে না। তোমার কোন ক্ষতিও তো করতে পারবে না। তোমার ভয় পাবার কোনই কারন নেই। তবে মনে রেখ কথাটি, কেউ বেল দিলে বা দরজায় কড়া নাড়লে চট করে দরজা খুলে দিবে না। আগে তো জানতে হবে, দেখতে হবে, কে এসেছে। তাই না?

রাইয়ান মাথা দুলাল।

এবার মিউ বিড়াল গম্ভীর গলায় বলল,’ এবার আমার একটা প্রশ্নের উত্তর দাও তো। ধরো, তোমার সামনে একটা বাঘ।

রাইয়ান বলল, আমার সামনে বাঘ হবে কেন?

আরে সত্যি সত্যি বাঘ না, মিথ্যা মিথ্যা বাঘ। আরে, কল্পনা করো, তোমার সামনে একটা বাঘ। তখন কি হবে, বলত?’

রাইয়ান ভয়ে ভয়ে বলল, ‘বাঘটা আমাকে খেয়েই ফেলবে।‘

মিউ বিড়াল বলল, ‘হুম। এবার বল, ধরো তুমি চিড়িয়াখানায় গেছো। আর তুমি খাঁচার বাঘের সামনে আছো। মানে তোমার সামনে আছে খাঁচায় বাঘ। তখন কি হবে?

রাইয়ান এবার হেসে ফেলল, ‘এবার আমার কিছুই হবে না। কারন বাঘটা খাঁচার ভিতরে। আমাকে ধরতেই পারবে না। আমি একোটা সেলফি তুলবো।‘

মিউ বিড়াল আনন্দের সাথে ওর হাসিটা দেখতে লাগল। মানুষ যখনই হাসে তখন কত সুন্দর যে লাগে। মানুষ কেন সব সময় হাসে না? মিউ বিড়াল বলতে চাইল, রাইয়ান তুমি সব সময় হাসবে। যখন মন খারাপ থাকবে তখনো। দেখবে তোমাকে সবাই ভালোবাসবে। কেউ হাসি উপেক্ষা করতে পারে না।

মিউ বিড়াল সেই কথাগুলো বলা হলো না। সে বলল, ‘ এখন আমরা সেই ভাবে ভেবে নিবো। ধরে নিবো, ডাকাতরা এখন আমাদের কাছে খাঁচার বাঘ। দরজার ওপাশে আছে তাই। মানে দরজার ওপাড়ে আছে। মানে খাঁচার বাঘের মতন অবস্থা। আমি এটাই তোমাকে বুঝাতে চেয়েছি। এসো এবার তোমার মোবাইলটা থেকে তুমি বাবার যে কথাটা রেকর্ড করেছিলে, যেটা নিয়ে আমি আর তুমি খেলেছিলাম গতকাল। সেটি বাজিয়ে শুনাও, ওদের। দেখ না কি হয়!‘

গতকাল রাইয়ান বাবাকে গিয়ে বলেছিল, ‘কে? কে?’ এই বলা কথা বলতে রেকর্ড করার জন্য। বাবার এই কথাটুকু কেবল রেকর্ড করে রাইয়ান আর মিউ বিড়াল খেলেছিল। সেই কথাটি মিউ বিড়াল মনে করিয়ে দিতেই রাইয়ানের মন ভালো হয়ে গেলো। সাহস ফিরে পেলো। সে দৌড়ে দরজার সামনে গিয়ে মোবাইল থেকে রেকর্ডটা অন করলো।

রেকর্ড করা কথাটা বাজল, বাবা বলেছে, ‘কে?  কে?’

রাইয়ান দুই বার বাজিয়ে অফ করলো। আর দরজার আই ভিউ এর ফুটো দিয়ে দেখতে লাগল কি হয়।

মানুষগুলো শব্দটা শুনে একে অন্যের দিকে তাকাল। কোন কথা বলল না। হেঁটে উপরে চলে গেল। তার মানে ডাকাতদের হিসাবে এই বাসার মানুষেরা অতি বুদ্ধিমান, চট করে দরজা খুলেনি। এটা বুঝতে েরেই তারা চলে যাচ্ছে।

রাইয়ান মিউ বিড়ালের দিকে তাকাল। মিউ বিড়াল বলল, ‘কাজ হয়েছে কি?’

রাইয়ান আনন্দে মাথা দুলাল। সে ভাবতে পারছে না ওরা চলে যাবে।

মিউ বিড়াল বলল,’এবার উপরের ফ্লাটের আন্টিকে ফোন দিয়ে বল, ডাকাত এসেছে।‘

রাইয়ান ফোন দিয়ে বলল আন্টিকে সব। আন্টি তাকে খুব আদর করে। তিনি এই কথা শুনতেই বললেন, ‘আমি দরজা খুলে দেখছি, কি হচ্ছে। তুমি কিন্তু দরজা খুলবে না। একদমই না।‘

রাইয়ান বলল, আন্টি প্লিজ দরজা খুলবেন না, ডাকাত এসেছে।

আন্টি কোন উত্তর দিলেন না। ফোনটা কেটে দিতেই আগের ভয়টা আবার ফিরত এলো।

উপর তলার দরজা খোলার শব্দ হলো। রায়ান দ্রুত ফিরে এল দরজার কাছে। দরজার আই ভিউ এর ফুটো দিয়ে দেখতে চেষ্টা করছে। আন্টি সম্ভবত দরজা খুলে বাইরে বের হয়েছে। উপরে কিছু ঘটছে কিনা কে জানে। রাইয়ান শোনার চেষ্টা করতে একবার ডান দিকে কান উঁচু করল। আরেকবার বাম দিকে কান উঁচু করল। হ্যা উপর তলায় ধুরুম ধারুম শব্দ হচ্ছে। পায়ের শব্দ! একই সাথে দরজা লাগানর শব্দ, খুব জোরে।

তখনই আন্টি চিৎকার দিল ,’ডাকাত ডাকাত! ডাকাত, ডাকাত!’

দৌড়া দৌড়ির শব্দ শোনা গেলো। কে যেন দৌড়ে নীচে নামছে বলেই রাইয়ানের মনে হলো। সে খুবই ঘাবড়ে গেছে। মিউ বিড়ালের দিকে তাকালো, সেও খুব ঘাবড়ে গেছে। রাইয়ান বিড় বিড় করে বলল, আমি না দেখে আর চট রে দরজা খুলব না। কখনো না।

যে সিঁড়ি বেয়ে উপর থেকে নেমে এলো সে কিছুখন আগে রাইয়ানদের দরজার সামনে দাঁড়িয়ে থাকা তিন জনের একজন। হাতে বড় একটা দড়ি।

রাইয়ান ভয়ে ভয়ে ফিস ফিস করে বলল, ‘ডাকাতের হাতে দড়ি।’

মিউ বিড়াল বলল,’এই দড়ি কথাও ওরা বলছিল নীচে দাঁড়িয়ে। এইগুলো দিয়ে ওরা মানুষদের হাত পা বাঁধেবে! কত দুষ্টের দুষ্ট ওরা। ওদের পুলিশে দিতে হবে।’

রাইয়ান দরজার আই ভিউ এর ফুটো দিয়ে মানুষটাকে দেখতে দেখতে আন্টির মতন করে চিৎকার দিল,’ ডাকাত!  ডাকাত!’ বলেই বাসার সবগুলো জানালার কাছে দৌড়ে গিয়ে বলতে লাগল, ‘ডাকাত! ডাকাত!‘

রাইয়ান জানালা দিয়ে দেখল, চারদিক থেকে অনেক মানুষ দৌড়ে তাদের বাড়ির দিকে ছুটে আসছে। সম্ভবত আন্টির চিৎকার তারা শুনতে  পেয়েই দৌড়ে আসছে অনেক অনেক মানুষ।

হঠাত করে রাইয়ান যেন সাহস ফিরে পেল। তার মনে হতে লাগল, আর ভয় নেই। অনেক মানুষ মানেই তো তাহলে সাহস! অনেক মানুষ মানে অনেক সাহস! সে হেসে ফেললো।

মিউ বিড়াল আবার রাইয়ানকে হাসতে দেখতেই বলল, হাসছো কেন!

রাইয়ান মন খুলে হাসছে। এভাবেই তো হাসবে। হাসতেই থাকবে। ভাবতে ভাবতে মিউ বিড়াল উত্তেজিত গলায় জানতে চাইল, ’কি ঘটছে? কি ঘটছে?’

রাইয়ানও প্রবল আনন্দে উত্তেজিত গলায় বলল,’মানুষেরা ছুটে আসছে।‘

মিউ বিড়াল বললম,’এখনো কি তোমার ভয় করছে?’

রাইয়ান বলল, ‘আরে না। এখন আর ভয় করছে না।  অনেক অনেক মানুষ আমাদের বাড়ির দিকে ছুটে আসছে। অনেক মানুষ মানেই হলো সাহস। অনেক মানুষ মানে অনেক অনেক সাহস। এই বিষয়টি আগে জানতাম না। আজ জানা হলো, শিখা হলো। এখন বাঘ খাঁচায় ঢুকে গেছে। ওদের আর কিছু করার নেই, ধরা পড়া ছাড়া।‘

মিউ বিড়াল বলল, ওদের পুলিশে দিতে হবে। আরে আইন আছে না।’ বলে মিউ বিড়াল আনন্দে লাফাতে লাগল।

মিউ বিড়াল লাফানো দেখে রাইয়ানও লাফাতে লাগল আর হাসতে লাগল। লাফাতে লাফাতে রাইয়ান বলল,‘আরে আমি তো ভুলেই গেছি, তোমার সাথে তো আমার আড়ি!‘

মিউ বিড়াল লাফানো থেমে গেল। যেন সে কখনো কোনদিন লাফায়নি, এমন ভাবে চুপ হয়ে বসে গেলো। তারপর সে মন খারাপ করে এক দৌড়ে আলমারির পিছনে পালিয়ে গেল। সেদিকে তাকিয়ে রাইয়ান আর জোরে হাসতে লাগল আর লাফাতে লাগল।

November 4, 2019 4 comments
2 FacebookTwitterPinterestEmail
রূপকথা

ছদ্রবেশে রাজা

by Admin November 3, 2019
written by Admin

মোঃ নোমান সরকার

ছদ্রবেশে রাজা মানুষের সুখ দুঃখে খবর নিতে বের হয়েছেন। সামনে এক জঙ্গল পড়ল। জঙ্গলে ঢুকতেই রাজা কিছু বুঝে উঠার আগেই বাঘ আক্রমণ করে বসল। বাঘের আক্রমণে ঘোড়াটা হারাতে হলেও রাজা বেঁচে গেল। রাজা তবুও ক্ষুধার্ত বাঘটাকে মারল না। তীর ধনুক নামিয়ে নিয়ে রাজা পায়ে হেঁটে ছুটলেন।

প্রচন্ড খিদে লেগেছে রাজার। ঘোড়ার পিঠে খাবার ছিল। কিন্তু বাঘটা আয়েশ করে ঘোড়াটা খাচ্ছিল বলে সাথে থাকা খাবারের আশা বাদ দিয়েছিল। জঙ্গলে রাজা দেখলেন দূরে একটা কুঁড়ে ঘর। আগুনের আশায় সেখানে যেতেই দেখলেন সেই ঘরে বাস করে একটি দরিদ্র পরিবার। তারা দুপুরের খাবার জুটাতে পারেনি বলে না খেয়ে আছে। তাদের থেকে রাজা জানলেন এই জঙ্গলে বাস করে তাদের মতন হাজার দরিদ্র পরিবার। কথাটা রাজার যেন বিশ্বাস হলো না।

রাজা তাই সেখানে থাকা অজস্র পরিবারের কাছে গেলো। বলল, আমি রাজার লোক। তোমাদের খবর নিতে এসেছি। যাকে বলে সেই ভয় পেয়ে তাকিয়ে থাকে। অনেক কষ্টে তাদের থেকে জানা গেলো, তারা আছে ভয়য়াবাহ কষ্টে। তাদের খাবার নেই, কাপড় কিনার সামর্থ্য নেই, ঘর ঠিক করার মতন অবস্থা নেই,শিক্ষা নেই। রাজা প্রচণ্ড হতাশা অনুভব করলেন। তার রাজ্য মানুষের এত কষ্ট! এ যে ভাবাই যায় না, মানাই যায় না।

জঙ্গলের পাশে পাহাড়। সেখানে বাস করে শত শত পরিবার। সেখানেও একই অবস্থা। রাজা কেবল ভাবতে লাগল, এটা আমার রাজ্য! হায় এটা আমার রাজ্য!

পাহাড় আর জঙ্গলের মানুষের কষ্ট দেখে দেখে রাজা ক্লান্ত। সেখান থেকে বের হয়ে রাজা নদীর তীরে এলেন। জঙ্গল আর পাহাড় ঘিরে আছে ছোট্ট একটা নদী। কি অপূর্ব দৃশ্য। কিন্তু সব ম্লান হয়ে গেলো প্রজাদের অবস্থা জেনে। তিনি জঙ্গলের পাশের নদীর ওপারের বাড়িগুলোর দিকে তাকিয়ে রইলেন। তার দুখী প্রজারা বাস করে সারা জঙ্গল জুড়ে। মনটা তার কষ্টে ডুবে গেল।

রাজা নদীর তীরে দাঁড়িয়ে অনেকগুলো সিদ্ধান্ত নিলেন। রাজা ফিরে এলেন প্রসাদে। প্রাসাদে কত খাবার। খেতে বসে রাজা কিছুই খেতে পারলেন না। তার চোখে ভেসে উঠল সেই পরিবারের মানুষগুলোর চেহারা।

রাজা ডেকে পাঠালেন সেই ছোট রাজ্যের দায়িত্বে আছেন সেই মন্ত্রীকে।

মন্ত্রী এলেন। রাজা প্রশ্ন করল,’ কি হে মন্ত্রী, তুমি যে আমাকে দেখতে এলে, যে জাকজমক অবস্থা, বিশাল হাতি বাহিনী সাথে করে এত হাতি তো রাজারও নেই।

মন্ত্রী লজ্জা পাওয়া গলায় বললেন, ‘ রাজার অনেক দয়া।’

হাতিগুলো স্বর্ণ দিয়ে ভালো সাজিয়েছ। তমার কাজ পছন্দ হয়েছে।’

মন্ত্রী বলল, রাজার অনেক দয়া।”

রাজা হেসে বলল, এবার রাজ্যের প্রজাদের গল্প বলল,খাজনা ঠিক মতন আদায় হচ্ছ তো?’

মন্ত্রী বলল,’ হুজুর আমি তো ঠিক মতন খাজনা দেই। এতটুকু কম হয় না কোন বছর।’

রাজা বললেন, তোমার এলাকার মধ্যে ঐ কালো পাহাড় আর জঙ্গলও আছে। তা সেখানে আমার প্রজারা কেমন আছে সেখানে?’

মন্ত্রী বলল, ‘ওরা আছে মহা সুখে। স্বর্ণ আর অলংকারে ডুবে থাকে প্রত্যেক প্রজা। এমনকি জঙ্গলে যে প্রজারা থাকে তারাও এত ধনী যে বিলাসিতা করে তারা জঙ্গলে থাকে। মহা আনন্দেই তাদের দিন কাটে।’

রাজা বলল, ‘না খেয়ে থাকে কয় জনা?’

মন্ত্রী অবাক হয়ে বলল, ‘একটিও না, একটিও না। আপনি নিজে এসে একবার বেরিয়ে যান।’

রাজা তাকে বরখাস্থ করলেন, কালো পাহাড়ে প্রজাদের সামনে তাকে ফাঁসির ব্যবস্থা করলেন। আরেকজনকে বানালেন মন্ত্রী সেখানের। তাকে ডেকে দেখালেন আগের মন্ত্রীর মিথ্যা বলার পরিনিতি আর প্রজাদের প্রতি অবহেলার প্রতিশোধ।

সন্ধ্যায় রাজা প্রাসাদে ফিরতেই রানী এসে বললেন, ‘মহারাজ আমাদের প্রজাদের মনে অনেক কষ্ট। অথচ আমরা কেন সেটা জানতে পারলাম না। এটা আমাকেও কষ্ট দিচ্ছে।’

রাজা বললেন, ‘বছরের পর বছর একজন অযোগ্য মন্ত্রীর জন্য আমার প্রজারা কি ভয়াবাহ কষ্টই না করেছে। প্রজাদের জন্যই আমি রাজা।’

রানী বললেন, ‘এর জন্য রাজ্যের প্রত্যেক প্রজাই আপনাকে এত ভালবাসে, শ্রদ্ধা করে।’

রাজা বললেন, আমি খুবই লজ্জিত প্রজাদের কাছে। আমার প্রজারা না খেয়ে থাকে! রানী! প্রজারা কেমন আছে, এই খবর আরো ভালো ভাবে নিতে হবে। তখনই হব আমি প্রজাদের জন্য যোগ্য একজন রাজা।

November 3, 2019 2 comments
1 FacebookTwitterPinterestEmail
রূপকথা

রাজার রাজ্য

by Admin November 3, 2019
written by Admin

মোঃ নোমান সরকার

 

সমুদ্রের একটা ছোট্ট দ্বীপ। অজস্র ফুলের বাগান বলে দেয় এখানে মানুষ বাস করে, যাদের মন অনেক বড়। যারা ফুল ভালোবাসে তাদের মন তো বড় হতেই হবে। তা না হলে কি দিগন্ত জুড়ে ফুলের বাগান থাকে?

দ্বীপে বিশাল সেই বাগানের মাঝে কিছুটা উঁচুতে আছে প্রকাণ্ড এক বাড়ি। এটি রাজার বাড়ি। সেই রাজার এক ছোট মেয়ে নাম ইমাইরা। তাকে প্রত্যেক সকালে নতুন নতুন ফুল দিয়ে সাজানো হয়। রানী পাশে বসে তা দেখে। এই হল সেই বাড়ির সকালের চিত্র। কিন্তু একদিন সকালটা আলাদা রকমের হয়ে উঠল।

দ্বীপের কাছেই অতি ভোরে একটা বড় জাহাজ আসল। সেই জাহাজ থেকে অনেক গুলো ছোট নৌকায় করে কিছু মানুষ দ্বীপে নামল। তাদের হাতে তরবারি। আর তারা দ্বীপের প্রতিদিনের সকালের চিত্রটা উল্টে দিল।

রাজা ভোরে উঠে নামাজ পড়ে বাগানে হাঁটেন। সাথে হাঁটে রানী আর ইমাইরা। রাজার কাছে খবর নিয়ে এলো এক পায়রা। পায়রার পায়ে ছোট চিরকুট। তিনি পড়তেই তা রানীর হাতে দিয়ে বললেন, ‘তোমরা প্রাসাদে ফিরে যাও।’

রাজা বাগান থেকে বের হয়ে রাজদরবারে এলেন। বিপদের ঘণ্টা বাজানো হয়ে গেছে। সৈন্যরা ছুটে আসতে শুরু করেছে। সেনাপতি এসে বললেন, ‘আদেশ করুন।’

রাজা সেনাপতিকে নিয়ে এলো প্রাসাদ থেকে অনেক দূরে এক দুর্গে। দুইজনে উঠে গেল অনেক উঁচুতে যেখান থেকে সমুদ্রের বহু দূর পর্যন্ত দেখা যায়।

রাজা সেনাপতি দেখল, জাহাজ থেকে ছোট ছোট নৌকায় অনেক মানুষ অস্ত্র সহ যেমন নেমেছে। নৌকাগুলো তীরের কাছাকাছি আসতেই জাহাজ থেকে আগুনের গলা নিক্ষেপ করতে লাগল। আর তাদের শক্তি প্রদর্শন করতে লাগল। জাহাজ থেকে একের পর এক গোলা ছুটে এসে পড়তে লাগল তীরের সামনে পিছনে। জাহাজও এগিয়ে আসছে। তখন রাজা সেনাপরিকে ইশারা করতেই বিশাল বিশাল আগুনের গোলা আরো দ্রুত ছুটে গিয়ে গিয়ে পরল সেই বড় জাহাজটায়। আর কিছুখন পর জাহাজটা ডুবে গেল। শত্রু পক্ষ ছোট ছোট নৌকাগুলো নিয়ে পালাতে লাগল। তীরে যারা নেমেছিল তারাও নৌকা ভাসিয়ে পালাতে লাগল।

রাজা আর সেনাপতি যেখানে দাড়িয়ে সেখান থেকে দ্বীপের চারদিকের সবটাই দেখা যায়। দূর সমুদ্রে থাকা জাহাজটা কতটা দূরে তার হিসাব কষে নিতে সহজ হয়েছিল রাজার। সেইভাবেই আগুনের গোলাটা ফেলা। সেনাপতি রাজার দিকে তাকিয়ে জানতে চাইল, জাহাজ তো ডুবল এবার ‘আমরা ওদের নৌকাগুলো ডুবিয়ে দেই?’

রাজা বলল, ‘না, থাক। ওদের শাস্তি যথেষ্ট হয়েছে। জাহাজের মানূষেরা সমুদ্রে ঝাঁপিয়ে পরেছে। নৌকা থেকে ওদের উদ্ধার করে তারা দেশে ফিরে যাক। আর কখনো এই রাজ্য আক্রমনের সাহস না করুক।’

রাজার কথা শেষ না হতেই সমুদ্রে দেখা মিলল অদ্ভুত এক জীবের। রাজা এই জীবটাকে চিনে এরা হচ্ছে সমুদ্র দানব। সেই ছেলেবেলায় দেখেছিল। আজ আবার দেখল। কিন্তু তীরের কাছাকাছি সাধারণত এরা কখনো আসে না বলে শুনেছে। রাজা অবাক হল। জীবটা সমুদ্রের পানিতে লাফিয়ে উঠে দ্রুত ছুটে গেল নৌকার দিকে তারপর একে একে সব নৌকা মুখের ভিতর ঢুকিয়ে নিল। তারপর সমুদ্রে ভেসে থাকা একটা একটা করে মানুষ খেতে শুরু করল। ব্যাপারটা এত দ্রুত হল রাজা কি করবে ভেবে পেল না।

সেনাপতি মাথায় হাত দিয়ে আছে। আর চিৎকার করে বলছে,’ওটা তো আমাদের রাজ্যে হানা দিবে।’

রাজা ভাবলেন, বিপদ যখন আসে চারদিক থেকেই আসে। রাজা ইশারা করল আগুনের গোলা নিক্ষেপের জন্য। কিন্তু গোলাটি দানবের গায়ে লাগল না। দানব খুব দ্রুত সরে যেতে পেরেছিল বলে নিজেকে রক্ষা করতে পারল। এদিকে একটি গোলা নিক্ষেপ করতেই জানা গেল আর গোলা নেই। রাজা সেনাপতির দিকে তাকালেন। সেনাপতি কি বলবেন ভেবে পেলেন না। এখন উপায়।

দানব ক্রমশ এগিয়ে আসছে তীরের দিকে। রাজা দেখলেন, নীচের সব সৈন্যরা যেন অস্থির হয়ে উঠেছে। কারন দানবের সাথে কেউ তো যুদ্ধ করে পারবে না। যেন সবাই পালিয়ে যাবার কথা ভাবছেন। ওদের গতিবিধি তেমনটাই বলছে।

রাজা সেনাপতির দিকে তাকিয়ে বললেন, ‘সেনাপতি এখন উপায় বলো।’

সেনাপতি বলল, আমি ভুল করে ফেলেছি। আমি ভেবেছি এই রাজ্য কেউ হানা দিবে না, তাই এই গোলার বিষয়টা নিয়ে ভাবিনি। কিন্তু সৈন্যদের আমি উচ্চ প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করেছি। তারা যে কোন বিপদে যথেষ্ট। কিন্তু এখন তো আমাদের আগুনের গোলা দরকার।’

রাজা বলল, ‘ভাবতো একবার, দানবকে মারার আমাদের হাতে আর কোন গোলা নেই। দানব উঠে আসবে। তারপর আমাদের বাগানগুলো তছনছ করে দিবে। আমাদের বাড়িগুলো ভেঙ্গে ফেলবে। মানুষগুলোকে ধরে ধরে খাবে। আর তুমি বলছ, আগুনের গোলার বিষয়টি নিয়ে ভাবিনি! এ তুমি কি করেছ? এ কেমন সেনাপতি তুমি।’

সেনাপতি লজ্জায় মাথা নীচু করে ফেলল। আর তখনই তীর থেকে ডাঙ্গায় এসে উঠল দানবটা। দানব ডাঙ্গায় উঠে এত জোরে হুকার দিল যে, ভয়ে সবাই শুয়ে পরল। তীব্র শব্দে চারদিক যেন কেঁপে উঠল। ঠিক তখনই একটি আগুনের গোলা গিয়ে পড়ল দানবের দেহে। ছিন্নভিন্ন হয়ে গেল দানব।

সেনাপতি ঘাড় ঘুরে রাজার দিকে অবাক বিস্ময়ে তাকাল।

রাজা অনেকখন হাসল। তারপর ধীর গলায় বলল, আমি এই রাজ্যের রাজা। আমাকে ভাবতে যেমন হয়, তেমনি দেখতে হয় সব কিছু। সবাই থাকার পরেও প্রজাদের সুখ আর নিরাপত্তা নিয়ে আমাকে খেয়াল রাখতে হয়। এখন মনে হচ্ছে, আগুনের গোলা কতগুলো ছিল ,তুমি তাও জানো না। । আমার আদেশে আরো এক শত দশটি গোলা পর পর সাজিয়ে আড়ালে রাখা হয়েছিল। কারন যে কেউ ভুল করতেই পারে বা আরো অতিরিক্ত দরকার হতেই পারে। সেনাপতি হতে পারে না?

সেনাপতি চুপ করে আছে। সে ভয়ে কাঁপছে। রাজা বলল, তোমার উপর আমি ভরসা করেছি। তবুও আমি যেহেতু রাজা তাই আমার প্রজাদের নিরাপত্তা নিয়ে আমাকে ভাবতে হয়েছে। এখন বলো, কি শাস্তি তোমার হওয়া উচিত?

সেনাপতি বলল, যা আপনি শাস্তি দিবেন, তাই মাথা পেতে নিব। আমার মস্ত বড় ভুল হয়ে গেছে।’

রাজা বলল, ‘তোমাকে সেনাপতি থেকে বরখাস্ত করা হল এবং সাধারণ একজন সৈনিক হিসাবে তুমি কয়েক বছর থাকবে। তারপর আপন যোগ্যতায় আবার যদি জায়গা করে নিতে পার তবে এই পদবী আবার ফিরে পাবে। আমি আশা করি সেই যোগত্যা তোমার আছে।’

সেনাপতি বলল, ‘আমি আমার শাস্তি মাথা পেতে নিলাম।’

রাজা বলল,’ দানবের কথা বাদ দিলাম। যারা এই ভোরে রাজ্য আক্রমণ করেছিল। তারা জোয়ার ভাটার কারনে যদি ভোরে না এসে রাতে তীরের কাছে আসতে পারত আর আক্রমন রাতে করত বা এই সময় আমি যদি শিকারে থাকতাম। তবে এতক্ষণে আমার রাজ্য পুড়ে ছাই হয়ে যেত। কি সেনাপতি ছাই হয়ে যেত না।’

সেনাপতি চুপ করে আছে, সে প্রবল ভাবে কাঁপছে।

সেনাপতির দিকে না তাকিয়ে রাজা বলল, ‘এসো আমার সাথে।’

সেনাপতি রাজার পিছু পিছু নেমে গেল নীচে। আর অবাক বিস্ময়ে দেখল উঁচু সরু দালানের নীচে আর একটা সিঁড়ি। তারা সেই সিঁড়ি বেয়ে নামতেই সেনাপতি অবাক বিস্ময়ে দেখল মাটির নীচে বিশাল এক জায়গা, সেখানে শত শত শ্রমিক গোলা বানাচ্ছে। রাজা তাকে একটা গুপ্ত ঘরে প্রবেশ করাল, যেখানে শতশত গোলার মজুদ!

সেনাপতি আবাক বিস্ময়ে তাকিয়ে আছে। তার মনে হচ্ছে রাজার সামনে সে একটা বাচ্চা ছেলে।

 

 

 

November 3, 2019 0 comment
2 FacebookTwitterPinterestEmail
শিশুতোষ গল্প

আমরা তিন বন্ধু

by Admin October 26, 2019
written by Admin

মোঃ নোমান সরকার

রাজা বলল,’রানী, শিকারে যতবারই যাই ততবারই মনে হয়েছে আমাদের চেনা   দুনিয়ার বাইরে আরো বিশাল দুনিয়া আছে যা আমরা দেখিনা। জঙ্গল ঘুরতে ঘুরতে মনে হয়, যিনি আমাদের সৃষ্টি  করেছেন তিনি বানিয়েছেন  লাখ লাখ গাছ , যা দিয়ে গড়া এই জঙ্গল। এর একটা কঠিন আর রুক্ষ সৌন্দর্য আছে যা জঙ্গলে না ঘুরলে কেউ তা বুঝতেই পারবে না। আর এই যে প্রসাদের বাইরের যে বাগান তা আমরা বানিয়েছি।  তিনি মানুষ বানিয়ে মানুষকে জ্ঞান দিলেন, আবেগ  দিলেন, মন দিলেন যে,সেই মানুষ বানালো বাগান, ঘর, পুকুর, এমন আর কত কি।‘

রানী হাসল, ‘আপনি কি আবার শিকারে যেতে চাচ্ছেন? কিন্তু তা তো হবে না। আপনাকে আমরা যেতেই দিব না। আমরা মা মেয়ে আপনাকে আটকে রাখব এইবার।‘

রাজা হাসলো।‘না না আমি শিকারে যাবার কথা তো বলছি না। আমি বলছি, জঙ্গলের কথা। এবার তো জঙ্গলে অনেক দিন থেকেছি শিকারে গিয়ে। মনে হচ্ছে অনেক নতুন কিছু জেনেছি।‘

রানী অভিমানী গলায় বলল,’আমি আপনার জঙ্গল নিয়ে কোন কথাই শুনব না। আপনি এসেছেন চার দিন হয়ে গেল। আর এই চারদিনে চার হাজারবার জঙ্গলের কথাই কেবল বলে যাচ্ছেন।‘

‘হুম’ ,বলে রাজা নিজেকে থামালেন। বাগানের দিকে তাকালেন। তাকিয়ে থাকতে থাকতে তার মনে হল, যদি এ বাগানের যত্ন ছেড়ে দেওয়া হয় তবে এ বাগান জঙ্গলে রূপ নিবে, জঙ্গল হয়ে যাবে। এর মানে কি? মানুষকে তিনি বানিয়েছেন যেন সে যত্ন করে রাখে নিজের, সংসারের, রাজ্যের? মানুষ হচ্ছে বাগান বা বাগানের মতন। যদি যত্ন না করা হয়, মায়া না করা হয় তবে বাগান জঙ্গলের মতন যেমন হয়, তেমনি মানুষ হয়ে যাবে, কঠিন আর রুক্ষ! তাই না? নিজেই নিজেকে  প্রশ্ন করলেন তিনি। প্রশ্নের পর প্রশ্ন করেই যেতেই লাগল।

রাজা রানীর দিকে তাকিয়ে বললেন,‘তবে কি আমি ভুল করছি? আমি রাজা, সব প্রজার দায়িত্ব তো আমারই। আমি কি পেরেছি মানুষের এই বাগানের যত্ন নিতে?আমার রাজ্য কি বাগান হয়ে আছে নাকি জঙ্গল হতে যাচ্ছে?‘

রানী মৃদু হেসে বলল,‘আপনি পেরেছেন। প্রজারা আপনাকে এত ভালোবাসে আপনি  পেরেছেন বলেই। তাদের যত্ন নিতেই আপনি ঘুরে বেড়ান ছদ্রবেশে। এখন আমাদের কথা একটু বলি। আমরা মনে করি, আমাদের মা মেয়ের যত্নে অবহেলা আছে। এখন এর বিচার কি হবে, রাজা? আমরা ত বাগান থেকে জঙ্গল হবার মতনই।’

রাজা হেসে ফেলল। আর তখনই রাজকুমারী দৌড়াতে দৌড়াতে রাজার দিকে ছুটে এলো। আর লাফিয়ে উঠে গেল রাজার কোলে।

‘বাবা! ও, বাবা! তুমি কি আবার শিকারে যাচ্ছ?’

রাজা অনেক আনন্দ নিয়ে বলল,’নারে মা। আগে তো বাগানের যত্ন করি। না হলে আমার এই হাসিখুশি পরিবার বাগান থেকে জঙ্গল হয়ে যাবে।

রাজকুমারি অবাক হয়ে চোখ বড় বড় করে বলল,’কি বলছ বাবা!’

বাবা হাসতে হাসতে বলল,‘যত্ন না করলে সব বাগানই জঙ্গল হয়ে যায়রে মা।‘

রাজকুমারী অবাক গলায় বলল,’ মা বাবা কি সত্যি বলেছে? নাকি আমার সাথে দুষ্টমি করছে?’

মা এবার হাসতে হাসতে বলল, ‘বাবা সত্যি কথাই বলছে।‘

রাজকুমারী আদর মাখা হলায় বলল,’ মা তুমি কাছে এসো। মা কাছে যেতেই  বাবার কোল থেকে মাকে কাছে ডেকে মায়ের গলা পেচিয়ে ধরে বলল,’আমরা তিন বন্ধু। তাই মা? তাই না বাবা?’

তিনজন এক সাথে হেসে উঠল।

October 26, 2019 0 comment
2 FacebookTwitterPinterestEmail
শিশুতোষ গল্প

একা

by Admin October 26, 2019
written by Admin

মোঃ নোমান সরকার

রাত নেমে আসতেই অন্ধকার  ছায়া ফেল দিয়েছিল গোটা জঙ্গলে। ঘন জঙ্গলে জোনাকিরা ছাড়া যেন কোথাও কেউ নেই। হেমন্তের বাতাস বইছে খুবই জোরে। সব প্রানী যে যার ঘরে, কেবল একজন ছাড়া। একটা ছোট হাতি, সে পথ হারিয়েছিল শেষ বিকালে।

দল থেকে ছোট হাতিটা পিছিয়ে গিয়েছিল। কারন তার নরম পায়ে একটা কাঁটা বিঁধেছিল। সেটা নিয়ে সে এতটা মনযোগী হয়েছিল যে খেয়ালই করেনি কখন দলটা অনেক এগিয়ে গেছে। যখন সে মুখ তুলে সামনের দিকে তাকাল তখন দেখতে পেল কোথাও কেউ নেই। সে ডানে বায়ে অনেক ছুটে ছিল পায়ের কাঁটা সাথে নিয়ে। প্রচন্ড ব্যাথায় সে বারবার অস্থির হয়ে উঠছিল।

একটা খোলা জায়গায় এসে দাঁড়াতেই সে বুঝল সে একা হয়ে গেছে। তার খুবই মন খারাপ হল। পায়ে কাঁটা বিঁধে থাকার ব্যাথাটা শরীরে ছড়িয়ে যাচ্ছে। কিন্তু সেই ব্যাথাটাও যেন সে ভুলে গেছে। তার ইচ্ছে করছে গোটা জঙ্গলটা ঘুরে নিজের দলে ফিরে যেতে। যদি কারো দেখা পায়। কেউ যদি এগিয়ে আসে। যদি…। কেউ না কেউ কি তাকে খুজছে না? কেউ একজন যদি খেয়াল করে যে দলে একজন নেই। সে কি খুঁজতে আসবে না?সে অস্থির হল। অস্থির হয়ে সে ডানে আর বায়ে তাকাতে লাগল।  সামনে পিছনে তাকাতে লাগল।

পা ফেলতে পারছিল না। বলতে গেলে বাকি তিন পায়ের উপর জোর দিয়ে সে অনেক ছুটেছে ডানে বায়ে, সামনে পিছনে। কিন্তু কোথাও কেউ নেই। যেন সবাই বাতাসে মিলিয়ে গেছে। গোটা ব্যাপারটাই তার বিশ্বাসই হচ্ছিল না। বারবার মনে হচ্ছিল কেউ ফিরে এসে তাকে নিয়ে যাবে।

অন্ধকার নেমে আসতেই হেমন্তের মৃদু বাতাসে সে কেঁপে কেঁপে উঠেছিল। সে বুঝতে পারছিল না এটা কি জোরাল বাতাসের কারনে নাকি তার ভয় ভয় লাগছে বলে। সব মিলিয়ে তার খুবই কষ্ট হচ্ছিল।

সে কখনো একা থাকেনি। একা থাকাটা যে এতটা কষ্টের, এতটা কঠিন সে আগে বেশ কয়েকবার শুনলেও অনুভব করেনি। তার খুবই কান্না পেল। নিজেকে বারবার বলতে লাগল, ‘আমি একা থাকতে চাই না। আমি আমার দলে দিরে যেতে চাই। কেউ একজন তো এসো।‘

যেন কেউ শুনতে পাচ্ছে না। তার খুবই ঠান্ডা লাগচ্ছে। নিজেকে এত বেশি একা লাগছে যে তার মনে হতে লাগল যেন এই পৃথিবীতে সে ছাড়া আর কেউ নেই। সে আকাশের দিকে তাকিয়ে আছে। বুঝতে পারছে তার চোখ বেঁয়ে পানি নামছে।

 

( এই জগতে একা থাকার কষ্টটা অনেক বড় কষ্ট। মানুষ সহ কোন প্রানী একা থাকে না। দলের মধ্যে থাকে। সমাজের মধ্যেই থাকে। তাই ইচ্ছায় হোক আর অনিচ্ছায় হোক নিজেকে একা হতে দিতে নেই। আমি পরিবারের মধ্যেই আছি বা সমাজের মধ্যই আছি এভাবে না ভেবে, আমি পরিবারের একজন, সমাজের একজন এভাবে ভাবলে নিজেকে পরিবারের দায়িত্বশীল একজন বলে মনে হবে বা সমাজের একজন দায়িত্বশীল একজন বলে মনে হবে। এ পৃথিবীতে কেউ কাউকে জায়গা দেয় না, জায়গা করে নিতে হয়। সুন্দর নরম কথা ,ভালো আচরণ দিয়ে, দায়িত্বশীল আচরণ দিয়ে সবাইকে ধরে রাখতে হয়, সবার মন জয় করা নিতে হয়। নিজের মনকে নরম করে নিতে হয়। মায়া দিয়ে সবাইকে ধরে রাখতে হয়। আর তখন দল ছুটে যাবার ভয় থাকে না। তখন হারিয়ে গেলেও কেউ না কেউ এগিয়ে আসে পরিবারে ফিরিয়ে নিবার জন্য। )

October 26, 2019 0 comment
2 FacebookTwitterPinterestEmail
স্বাস্থ্য কথা

পানি সঠিক নিয়মে পান করা

by Admin October 15, 2019
written by Admin

মোঃ নোমান সরকার

আজকের শিশু কিশোরদের কাছে এই তথ্য হয়ত থাকতে পারে যে, মানুষের এই সুন্দর শরীরের ৬০% থেকে ৭০% পানি দিয়েই তৈরি। এমনকি হাড়, মস্তিস্ক,পেশির বিশাল অংশ পানি দিয়ে তৈরি। সুস্থ শরীরের জন্য প্রচুর পানির প্রয়োজন। পানি কেবল তৃষ্ণা মিটানোর বিষয় কেবল না, এটি পানির মাত্রা ঠিক রেখে অতিরিক্ত ক্যালরি পুড়তে সাহায্য করে। পানির অভাব বা ঘটতি হলেই তাই বড় বিপদ।

কিন্তু শিশু কিশোরদের কাছে এই সব তথ্যগুলো থাকলেও এই বিষয়গুলো পারিবারিক ভাবে অভ্যাস না গড়ে তোলার কারনে বা পানি পানের নিয়মগুলো নিয়ে পারিবারিক ভাবে আলোচনায় ন আসায় বা এই নিয়ে পারিবারিক শিক্ষা না দিবার কারনে আমাদের সঠিক নিয়মে বিশুদ্ধ পানি পান করার অভ্যাস গড়ে উঠেনি। মনে রাখতে হবে পানি যদি বিশুদ্ধ না হয় বা যে পাত্রে পানি পান করা হচ্ছে তা যদি পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন না হয় তবে বিশাল বড় বিপদের কারন হতে পারে। এই বিষয়টি সঠিক নিয়মে বিশুদ্ধ পানি পানের মতনই গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু অধিকাংশ মানুষই এই নিয়ম বা অভ্যাসকে মূল্য দেয় না। ফলে নানান জটিলতার জন্ম হয় ধীরে ধীরে। শরীরকে আমরা মেশিনের মতন ভেবে নিতে পারি। নিয়ম বা অভ্যাসটা এমন ভাবে মুল্য দিতে হবে যেন নিজের প্রতি যত্নের মতন বিষয়টি দাঁড়ায়। যত্নই পারে এই শরীরকে সুস্থ রাখতে। সঠিক নিয়মে পানি পান করাটা শরীরের জন্য তাই অনেক বিষয়।

চুমুক দিয়ে ধীরে ধীরে পানি পান করতে হবেঃ আয়ুর্বেদে আছে, চুমুক দিয়ে দিয়ে পানি পান করাটাই সর্বোত্তম উপায়। আমাদের মুখে প্রচুর লালা থাকে। তাড়াহুড়া বা ঢক ঢক করে বা একবারে পান করলে অথবা পানি গিলে খেলে এই লালা পাকস্থলিতে পৌছাতে পারে না। ফলে আমাদের পেটে হাইড্রলিক এসিড আছে তা কার্যক্ষমতায় তারতম্য দেখা দেয়। তাই ধীরে ধীরে অল্প অল্প করে পানি পান করতে হবে। খেয়াল রাখবেন পানিটা যেন অল্প সময়ের জন্য মুখের ভিতরে থাকে, লালা যেন পানির সাথে মিশাতে পারে, জিব্বা ভালো করে ভিজে। হাদিসে এসেছে কমপক্ষে তিন শ্বাসে পানি পান করতে হবে এবং শ্বাস ছাড়ার সময় পানির পাত্র মুখ হতে সরিয়ে নেওয়া। [যাতে শ্বাস পানিতে না পরে।] [বুখারী শরীফ]

দাড়িয়ে পানি পান করাঃ আয়ুর্বেদে আছে, দাঁড়িয়ে পানি পান করলে শরীরের বিভিন্ন হাড়ের সংযোগস্থল ক্ষতিগ্রস্থ হয় এবং আরথ্রাইটিস রোগে ভোগার সব চেয়ে বড় কারণ। দাড়িয়ে ঢক ঢক করে পানি পান করলে পানি সরাসরি চলে যায় পাকস্থলীতে এবং দ্রুত প্রসাবের চাপ বাড়ে। এতে কিডনির ক্ষতি হয়। নার্ভ প্রদাহের ক্ষতি হয় এবং ক্ষতি হয় অক্সিজেন সরবরাহের। বসে পানি পান করলে হজম ক্ষমতার ঠিক থাকে। নার্ভাস সিষ্টেম ঠিক থাকে। ফলে অবসাদ, উৎকণ্ঠা, মলিনতার সমস্যা জটিল হয় না।

কখন তৃষ্ণা পেয়েছে এটি বুঝতে হবে এবং গুরুত্ব দিতে হবেঃ গরমে ঘামের সাথে শরীর থেকে পানি বেরিয়ে যায়। তাই এই সময় প্রচুর পানি পান করতে হবে। আবার শীতে ঘাম হয় না। তাই পানি কিছুটা কম হলে সমস্যা হয় না। গবেষকরা জানিয়েছেন, পানির ঘাটতি দেখা দিলে প্রাকৃতিক ভাবেই আমরা তৃষ্ণা অনুভর করি। আর গলা শুকিয়ে যাওয়া, ঠোঁট শুকিয়ে যায়। এটা ছাড়া প্রসাবের রং দেখে বুঝা যায় শরীরের পানির ঘাটতি আছে কিনা। যদি প্রসাবের রং হলুদ, কমলা বা লাল হয় তবে বসে ধীরে ধীরে অল্প অল্প করে প্রচুর পানি পান করতে হবে। অধিকাংশ এই বিষয়টি শিশুরা জানে না। তাই তাদের বলে বুঝাতে হবে। প্রসাব যাতে দেখে এ নিয়েও তাদের সাথে কথা বলতে হবে। ফলে পানি পানের জরুরী বিষয়টি তারা বুঝে ফেলবে।

সময়ঃ সকালে ঘুম থেকে উঠে চেয়ারে বসে খালি পেটে বা বাসি মুখে তাড়াহুড়া না করে ধীরে ধীরে ১/ ২/৩ গ্লাস গ্লাস পানি পান করলে সারা রাতের মুখের জমে থাকা লালা বা ক্ষার পাকস্থলীতে গেলে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়। আর দিনের বেলায় তাপের কারনে ঘাম হয়। তাই দিনের বেশি করে পানি পান করাটা উত্তম। গবেষকরা বলেন ব্লাডপেসার নিয়ন্ত্রণ রাখতে গসলের আগে এক গ্লাস পানি পান করতএ হবে এবং স্ট্রোক বা হার্ট এট্যাক এড়াতে ঘুমের আগে এক গ্লাস পানি পাওন করতে হবে। মনে রাখতে হবে স্কুল কলেজে যাবার জন্য রেডি হবার অনেক আগে মানে ঘুম থেকে উঠেই পানি পান করতে হবে। এতে সবচেয়ে বড় সুবিধা পেটে জমে থাকা সব ময়লা সহজে বেরিয়ে যেতে পারবে। পেটের নানান রোগ থেকে নিরাপদ থাকা যাবে।

কতটুকু পানি পান করতে হবেঃ বড়দের সারা দিনে ২ লিটার, মানে ৮ গ্লাস। সেই অনুযায়ি ছোটদের পানি পান করতে হবে। দিনের বেলায় বেশি করে। ঘামলে মনে করে বেশি পানি পান করতে হবে। গরমের দিনে বেশি করে পান করতে হবে ধীরে ধীরে।

খাবারে আগে না পরেঃ ভুলেও খাবারের সাথে বা পরপরই পানি পান করা উচিৎ না। এর বৈজ্ঞানিক কারন আছে। গবেষকদের মতে এতে হজমে সহায়ক পাচক রসের কার্যক্ষমতা ব্যাঘাত ঘটে। বদ হজম আর গ্যাসের সমস্যা বাড়ে। তাই নূন্যতম খাবারের আধা ঘণ্টা আগে পানি পান করা উচিত আর খাবারের নূনুতম আধা ঘণ্টা বা এক ঘণ্টা পরে পান করা উচিৎ।

ঠান্ডা নাকি গরম পানিঃ নিয়মিত ঠান্ডা পানি পেটের চর্বিগুলো শক্ত করে ফেলে। আর নানান রোগ ডেকে আনে। আর গবেষকরা বলছেন কুসুম কুসুম গরম পানি হজম ক্ষমতা সহ অনেকগুলো উপকার ঘটে শরীরের। সকালে নাস্তার আগে কুসুম কুসুম গরম পানি আর সাথে আমরা লেবুর রস মিশিয়ে নিলে তো অনেক বেশি উপকারে আসে শরীরের। তেমনি রাতে শোবার আগেও কুসুম কুসুম গরম পানির অভ্যাস করতে হবে। এতে টনসিলের সমস্যা সহ গলার ভিতরে সব সময় আরাম পাবে। তাই ঠান্ডা পানির অভ্যাস ত্যাগ করতে হবে। ঠান্ডা পানি মানেই অনেক রোগের মা। খাবার না খেয়ে যেমন কেউ মরে যায় না। তেমনি ঠান্ডা পানি পান না করলেও কিছু হয় না। এটি একটি অভ্যাস। শরীরকে, কন্ঠনালী, ফুসফুসের জন্য আমাদের এই কথাটি মাথায় রাখতে হবে।

ফল আর শাক সবজিঃ কাঁচা ফল- মুল এবং শাক- সবজিতে প্রচুর পানি থাকে। তাই সকালের নাস্তার আগে , দুপুরের খাবারের আগে, বিকালের নাস্তায় বা আস্তার আগে আর রাতের খাবারের আগে আমাদের নিয়মিত সালাদ খেতে পারলে খুবই ভালো। কাঁচা ফল- মুল এবং শাক- সবজির সালাদ খেলে পেট ভরে যায়। ফলে ভাত সহ অন্য সব ভারী খাবার কম খাওয়া হয়। এতে স্বাস্থ্য অনেক অনেক ভালো থাকে।

বেশি বেশি পানি পানে আমরা যত্নবান হয়ে নিজের শরীরকে চাপ মুক্ত রাখি। মনে রাখতে হবে, আমি হচ্ছি আমার সবচেয়ে বড় বন্ধু। আমার দেহই আমার নানান সমস্যা নিয়ন্ত্রণ করে। আর শরীর ভালো রাখতে একটা নিয়মের ভিতর নিজেকে নিয়ে আসতেই হবে। পানি পানে আরো যত্নবান হলে এই নিয়মের ভিতরে আসা সহজ হয়ে উঠবে।



October 15, 2019 0 comment
2 FacebookTwitterPinterestEmail
আমার ছোটবেলা

আমার ছোটবেলা-৩

by Admin October 15, 2019
written by Admin

আরভীন তাহসিন

আমার নাম আরভিন তাসিন। বয়স ১১ বছর। আমি একাডিমিয়া স্কুলে ক্লাস ফোরে পড়ি। আমার ছোটবেলা গল্প যখন সবাই করে আমার খুব ভালো লাগে। ছোটবেলা আমি আমার বড় চ্চাচুর সাথে সাড়াদিন দোতালায় সময় কাটাতাম। আম্মু বা আনিকা আপু নিতে আসলে আমি উপরে যেতে ইচ্ছে করত না। চ্চাচুর সাথে বাইরে যেতে আমার খুব বেশি ভালো লাগত।

আর আমার গ্রামের বাড়িতে গেলে অনেক আনন্দ করতাম আমার বন্ধুদের সাথে। ছোট ছোট ছাগল ছিল, ওদের নিয়ে অনেক অনেক মজা করতাম। পাশে একটা দোকান ছিল, সেখান থেকে অনেক মজার মজার খাবার খেতাম, নিজে কিনতাম। তবে বেশি ভাগ ফ্রি পেতাম চেনা বলে। শহরে নিজে কিনার সুযোগ নেই। গ্রামের বাড়ি থেকে বের হলে সবাই আমাকে নিয়ে যেত তাদের বাড়িতে। তারা সবাই আমাকে অনেক আদর করতেন।

নিজ বাড়িতে আমরা চাচাত ভাই সহ ৪ জন। আমরা এক সাথে খেলাধূলা করতাম। বৃষ্টিতে ছাদে গোসল করতাম। এখনোও করি তবে আগে অনেক বেশি আনন্দ হত। এখন পড়ার অনেক চাপ। আর এখন কেন যেন নিজেকে একটু বড় বড় লাগে।

October 15, 2019 0 comment
2 FacebookTwitterPinterestEmail
আমার ছোটবেলা

আমার ছোটবেলা-২

by Admin October 15, 2019
written by Admin

হুমায়ূন

আমি হুমায়ূন। বয়স ৫২ বছর। আমার ছোটবেলা্র অনেক স্মৃতি মনে আছে। অনেক স্মৃতি। খুব ছোটবেলায় শবেবরাতের রাতে আম্মু আমাকে বলেছিল, ‘এই রাতে তুমি আল্লাহর কাছে যা চাইবে তাই পাবে।’ আমি অবাক বিস্ময়ে বলেছিলাম,’আমি একটা পিস্তল চাইলে তাও পাব।’ তখন আমরা চোর-পুলিশ খেলতাম খুব। পুলিশের কাছে পিস্তল থাকত। আমরা কেউ সহজে চোর হতে চাইতাম না। আর পুলিশ হতে পিস্তল তো লাগেই।

একটা কাঠের ঘোড়া কেনা হয়নি বলে আজও মনে হলে মন খারাপ হয়। ছোটবেলায় তিন পায়ের একটি সাইকেল ছিল আমার। এখন এমন সাইকেল দেখলে উঠতে ইচ্ছে করে। আবার ছোট হতে ইচ্ছে করে। কোন সুযোগই নেই ফিরে যাবার, তাই না?

এই সাইকেলে উঠলেই আমি গান করতাম। দুই পায়ের সাইকেলের অভিজ্ঞতা খুব একটা ভালো না। অনেক ব্যাথা পেয়েছি শিখতে গিয়ে। ছোট বয়সে বড় সাইকেলে শিখতে যাওয়াটা যে বুদ্ধিমানের কাজ ছিল না, তা এখন বুঝি।

আমার মনে আছে ছোটবেলায় বাড়ির কাছে নতুন নতুন রাস্তা অবিস্কারের নেশাটা অদ্ভুত ছিল ,দেশ জয়ের মতনই ছিল তখন বিষয়টা।

আর টিভির কার্টুন দেখতে পারতাম শুধু মাত্র সন্ধ্যায় ১৫ মিনিটের জন্য। একদিনে এতটুকু সময়ের জন্য কেবল কার্টুন হত। পরের দিনের জন্য আবার অপেক্ষা করা। সেকি অধীর আগ্রহে বসে থাকা। মাত্র ১টি চ্যানেল ছিল। এখন তো হাজারটা।

আমার দাদা দাদী অনেক আগেই মারা গিয়েছিলেন। তাই ছোটবেলায় এ নিয়ে আফসোস ছিল। আর সবাই ছিল। তারপর বড় হতেই নানা মারা গেলেন, নানি মারা গেলেন। ফুফা মারা গেলেন, খালা মারা গেলেন, খালু, মামা,মামী, চাচা, চাচী, ফুফু একে একে সবাই চলে গেলেন। যাই হোক , ফিরে যাই ছোটবেলায়।

আমি যখন ক্লাস টুতে পড়ি। তখন আমার ক্লাসের এক চঞ্চল ছেলের সাথে আমার বন্ধুত্ব হয়। এটি আমার জীবনে প্রথম বন্ধুত্ব। টিফিনে আমরা খাবার ভাগাভাগি করে খেতাম, যার বাসা থেকে যাই আনা হত। এই স্মৃতি আমাকে খুব নাড়া দেয়।

আমি বাম হাতি। আর আমার বয়সীদের চেয়ে বেশ লম্বা ছিলাম বলে কেউ খেলায় নিত না। আমি মাঠের এক কোনায় দাঁড়িয়ে থাকতাম। যেন কেউ ভুলেও আমাকে না নেয়, এমন প্রতিজ্ঞা ছিল সবার। খুব কষ্ট পেতাম। তবুও যেতাম না দাঁড়িয়ে থাকতাম। খুব কাছের বন্ধুদের এই অবহেলা আমাকে আলোমেলো করে দিত।

October 15, 2019 0 comment
2 FacebookTwitterPinterestEmail
আমার ছোটবেলা

আমার ছোটবেলা-১

by Admin October 15, 2019
written by Admin

তামজিদ হাসান

আমি তামজিদ হাসান। ক্লাস থ্রিতে পড়ি। আমার বয়স ১০ বছর। আমার ছোটবলার কিছু কথা মনে পড়ে। আমি গত বছর আগে ২টি রোজা রেখেছিলাম। আর রোজায় ভিন্ন স্বাদের খাবারগুলো আমার খুব ভাল লেগেছিল। এটি মনে হলে আমার অদ্ভুত লাগে।

মনে পড়ে, নানার বাড়ির স্মৃতি। ওখানে মাঠে অনেক গরু বিচরণ করে। ছাগল ছিল বেশ কিছু। তারা আপন মনে ঘাস খাচ্ছিল। আমি কাছেই বসেছিলাম। ভয় লাগছিল। কিন্তু দূরে যাইনি। মাঠের কাছে আছে একটা ছোট পুকুর। সাঁতার জানি না বলে কেউ নামতেই দেয় না সেখানে। কবে সাঁতার শিখব তা নিয়ে ভাবি। পুকুরের সাথে একটা দোকান যেখান থেকে নানা মজার মজার খাবর কিনে দিত। একবার গাছে উঠেছিলাম। ছোট গাছ। তবে বড় গাছে উঠিনি, ভয় করছিল। গ্রামে অনেক কিছু দেখেছি যা এই শহরে আমি কখনো দেখিনি। যে মজা গ্রামে আছে আসলে তা শহরে নেই। শহরে কেবল পড় পড় আর পড়। বেড়ানর জায়গা নেই।

আমাকে ছোট বেলায় সবাই কোলে নিতে চাইত। যখন আমি কান্না করতাম। তখন কেউ বুঝতে পারত না আমার খিদে লেগেছে। এখন আমি বুঝি এত কাঁদাতাম খিদের জন্য। এখনো খিদে লাগলে কান্নাই পায়। আমার খেতে দারুণ লাগে। আর কিছু মনে নেই। মনে পড়লে আবার বলব।

আমার কম্পিউটার গেইম খেলতে খুব ভাল লাগে। অনেক ছোটবেলা থেকেই আমি গেইম খেলতাম। একদিন আমি নিজে অনেক গেইম বানাব। হব ইউটিউবারও।

দাদা নেই। দাদীর সাথে আমাদের সময়টা ভালো কাটে। অনেক স্মৃতি দাদীর সাথে। ছোটবেলায় কেবল মনে হত, দাদা একদিন ঠিকই আসবে। এখনো মনে হয়। আচ্ছা আসলে কি আসবে না? মরে গেলে কেউ কেন ফিরে আসে না?

ছোটবেলায় বিছানায় লাফাতে খুবই ভালো লাগত। এখনও লাগে। কিন্তু এখন সবাই মানা করে। বলে, বড় হয়েছ না। আমি কি খুব বড় হয়েছি, ভাবি এগুলো নিয়ে।

October 15, 2019 0 comment
2 FacebookTwitterPinterestEmail
শিশুতোষ গল্প

ঘোড়ার ডিম নাকি মুরগীর ডিম

by Admin October 11, 2019
written by Admin

মোঃ নোমান সরকার

আয়ান চিন্তায় ডুবে গেল ফুফুর কথায়। ফুফু বলছে, ‘তুমি কি খাবে, ঘোড়ার ডিম নাকি মুরগীর ডিম?’

আয়ান রোবট এল এক্স থ্রিকে প্রশ্ন করবে কিনা ভাবছে। রোবট এল এক্স থ্রি হচ্ছে সবচেয়ে চৌকস রোবট এই দুনিয়ায়, সব উত্তরই তার জা্না। পরীক্ষার রেজাল্ট ভালো করা নিয়ে বাবার সাথে কথাটি ছিল। বাবা বলেছিলেন,’ভাল রেজাল্ট করতে পারলে মিলে যাবে তোমার প্রিয় ঘোড়া মানে রোবট এল এক্স থ্রি।’ আয়ান বাবার কথা চমকে উঠেছিল। সেতো অনুভুতি জ্ঞান নিয়ে জন্ম নেওয়া এই শতাব্দীর সেরা রোবট। এটি কি বাবা দিবে তাকে ভালো রেজাল্ট করতে পারলেই!

আয়ানরা এমেরিকা থেকে বাবা মায়ের সাথে বাংলাদেশে এসেছে তিন দিন হল। খুব ছোটবেলায় এই দেশে একবার এসেছিল। ডিভিওগুলো ছাড়া তার নিজের কিছুই মনে নেই। কারন সে তখন খুব ছোট। বাসায় বাংলায় কথা হয় বলে সেও স্পষ্ট করে না হলেও অনেক কথাই বলতে পারে আর বুঝতে পারে প্রায় সবটা।

আয়ান নীচু গলায় বলল, ‘ফুফু মুরগীর ডিম তো চিনি। তবে ঘোড়ার ডিমটা চিনতে পারছি না।’

ফুফু বলল, ‘তুমি এটাকে আগে দেখনি?’

আয়ান নরম গলায় বলল,’ফুফু আমি এর আগে এই নাম কখনো শুনিনি।’

ফুফু একটা অদ্ভুত সুন্দর মাটির বাটিতে মুরগীর একটা ডিম দিয়ে বলল, ‘এটি ঘোড়ার ডিম।’

আয়ান খানিকটা হেসে বলল, ‘ফুফু এটা তো হাঁস বা মুরগীর ডিম!’

ফুফু হাসল। ‘ধুর বোকা এটাই ঘোড়ার ডিম। ঘোড়ার ডিম চিনে না এ কেমন ছেলে!’

আয়ান ডিম নিয়ে ঘরের বাইরে এলো। সে রীতিমত বোকা হয়ে গেছে। এটি হাঁস ব মুরগীর ডিম, এ ছাড়া অন্য কিছু হতেই পারে না। কিন্তু ফুফু কি তাকে ভুল বলবে?

এই বাড়িতে তার বয়সী বা কাছাকাছি বয়সী কেউ নেই। সবাই বড়। ভাগ্যিস এল এক্স থ্রি সাথে আছে। যদিও এখানের সবাই খুব ভালো। বড়রাও বন্ধুর মতন আচরণ করছে। সবচেয়ে যেটি অবাক লাগছে তা হচ্ছে এখানকার পোশাক। এত রং, যেন সবাই প্রজাপতি!

আয়ান মাথা নীচু করেই ডাকল,’এল এক্স থ্রি?’

এল এক্স থ্রি বলল,’ বল, আমি শুনছি।’

‘তুমি কি আমাকে বলতে পার,ঘোড়ার ডিম কি?’

‘ঘোড়ার ডিম এটি একটি প্রবাদ বাক্য।’

আয়ান অবাক হওয়া গলায় বলল,’ প্রবাদ বাক্য কি!’

এল এক্স থ্রি সাদামাটা গলায় বলল,’আয়ান তোমার কোনটা জানা জরুরী? প্রবাদ বাক্য নাকি ঘোড়ার ডিম? ‘

আয়ান বিরক্ত হয়ে রোবটটার দিকে তাকাল। অবিকল তারই মতন দেখতে রোবটটাকে প্রথম দেখাতে তার পছন্দ হয়নি। অথচ এল এক্স থ্রি নিয়ে কতই না জল্পনা কল্পনা ছিল। বাবা তাকে অবাক করতে এটি হুবাহু তার মতন করে রোবটটা ওয়াডার দিয়েছিল। কিন্তু পেকেট খুলতে এই ব্যাপারটি তার পছন্দ হয়নি। হুবাহু তার মতন দেখতে। যদিও বাবাকে সে বুঝতে দেয়নি বিষয়টা।

আমি ঘোড়ার ডিম নিয়ে জানতে চাই। দয়া করে তুমি আমার উত্তরগুলো সরাসরি দিবে।’ বলেই আয়ান বিরক্ত হয়ে ভাবছে, আর এল এক্স থ্রি কেমন করে যেন কথা বলে, একটু বেশি বুদ্ধি খাটাতে চায়। বাবাকে বলতে হবে, ওকে বদলে দিতে। এর চেয়ে আগের রোবটটাই ভালো ছিল। প্রশ্ন না করলে নিজ থেকে কোন কথা বলত না। আর এর সবকিছুতেই কৌতূহল!

এল এক্স থ্রি বলল,’ঘোড়ার ডিম বলে কিছু নেই।’

আয়ান বিরক্ত গলায় বলল,’আছে।’

‘আছে?’

‘হ্যা আছে। এই আমার হাতের মধ্যেই আছে।’

এল এক্স থ্রি উঁকি দিয়ে দেখল। সে অবাক হয়ে প্রশ্ন করল,এটি দেখতে প্রানীর ডিমের মতনই। হাঁস বা মুরগির ডিমের মতনই। আমার কাছে মনে হচ্ছে তুমি ভুল করছ।’

আয়ান ডিমের দিকে তাকিয়ে বলল,’ফুফু বলেছে।’

এল এক্স থ্রি বলল, ‘আমাকে একটু দিবে। আমার হাতে।’

আয়ান রাগ হল। ‘হাতে না নিলে তুমি বলতে পারবে না?’

‘হ্যা পারব। আমি চাইছিলাম…।’

আয়ান রেগে গিয়ে বলল, ‘তুমি বল। তুমি তো সব প্রশ্নের উত্তরই জানো।’

এল এক্স থ্রি হাসল।

আয়ান চোখ নামিয়ে রেগে বলল,’হাসছ কেন?’

এল এক্স থ্রিকে হাসতে দেখলেই সে চোখ নামিয়ে নেয়। তার মাথা ঘুরে। অবিকল তার মতন করে হাসে। বিষয়টা তার ভাল লাগে না।

এল এক্স থ্রি বলল,’এটি মুরগীর ডিম। শুরুতেই আমি বলতে চেয়েও ভেবেছি এটি তোমাকে অস্থির করছে, এটি আমার পছন্দ হয়েছে। ফুফু তোমকে বোকা বানাতে পেরেছে।’

আয়ান বলল,’আমার অস্থিরতা তোমার পছন্দ হয়েছে! এর মানে কি! তুমি বড় বেশি বেশি করছ। আমার খুব রাগ হচ্ছে।’

এলএক্স থ্রি আবার অবিকল তার মতন করে হাসল, ‘কার উপরে রাগ হয়েছে? ফুফুর উপরে, ডিমের উপরে, আমার উপরে?’

‘জানি না।’ বলে আয়ান ডিম মুখে দিল। ডিমের স্বাদ আর ঘ্রাণ একেবারেই আলাদা হলেও তার ভালো লাগল। কারন সে ডিমের ভক্ত। দিনে তার ৩/৪টা ডিম তার খেতেই হবে।

আয়ান ফুফুর কাছে চলে এলো। ‘ফুফু ঘোড়ার ডিম অনেক মজা। আমাকে কি আরেকটা ঘোড়ার ডিম দেওয়া যায়?’

ফুফু হাসল। ‘হে রে বাবা, আরেকোটা দেওয়া যায়।’ বলে ফুফু আরেকটা ডিম দিল।

একটূ সময় যেতে না যেতে আয়ান আবার ফুফুর কাছে হাজির। এবার খুব উচ্ছাসের সাথে বলল,’ফুফু ঘোড়ার ডিম মুরগীর ডিমের চেয়েও মজার। আমাকে আরেকটা কি দিবেন?

ফুফু আবার হেসে আয়ানকে আরেকটা ডিম দিল ।

 

 

October 11, 2019 5 comments
2 FacebookTwitterPinterestEmail
শিশুতোষ গল্প

বিদায় ছোট পাখি

by Admin October 2, 2019
written by Admin

মোঃ নোমান সরকার

রাতের বেলা মা নুসরাতের ঘরে এসে এসে দেখে গেল,সে বই পড়ছে কিনা। সব ঠিক আছে কিনা। সে ঘুমের আগে গল্পের বই পড়ে। তাই মা তাকে মজার মজার বই কিনে দেয়। আজ স্কুলে তার যাওয়া হয়নি। বাবার অসুখ করেছে বলে। অন্য সময় এমন হলে বা বাবার কাজ থাকলে মা নিয়ে যায়। আজ মা নিয়ে যায়নি। বাবার পাশেই ছিল।

নুসরাত ঘুমাতে যাবার আগে ঠিক করল মিনি বিড়ালকে তার কাছে নিবে। কাছে নিতে সে মিনি বিড়ালকে বিছানায় নিয়ে এলো। এতেই মিনি বিড়ালের আপত্তি। নুসরাত যতবারই তাকে বিছানায় উঠায়, মিনি বিড়াল ততোবারই বিছানা থেকে নেমে যায়। মহা মুস্কিলে পরেছে নুসরাত।

আজ মিনি বিড়ালের হয়েছেটা কি? এত দুষ্টমি বা কেন করছে! মাছের পিস দিয়েছে ৩টা, পানি খাইয়েছে। আদর করেছে। আজ তাকে বেশি বেশি করে যত্ন করেছে। আর সে কিনা এমন করছে।

নুসরাত মিনি বিড়ালটাকে আবার বিছানার নিচ থেকে ধরে এনে বলল, ‘একদম চুপ।’

মিনি বিড়াল ‘মিউ’ বলে একটা শব্দ করল।

নুসরাত শক্ত করে ধরে রেখেছে ওকে। এতেই মিনি বিড়ালের যেন জান যায় যায়। সে বুঝল নুসরাত তাকে ছাড়বে না। এক সময় সে ঘুমিয়ে পড়ল। মিনি বিড়ালকে ঘুমাতে দেখে নুসরাতও ঘুমিয়ে গেল।

মিনি বিড়ালের ঘুম ভাঙ্গতেই দেখল, নুসরাত ঘুমাচ্ছে। এই সুযোগ। আর হাতটাও আলগা আছে। কোন রকম হাতের নিচ থেকে বের হতেই লম্বা লাফ দিল। কিন্তু লাফিয়ে যেখানে পড়ল, সেটা ছিল নুসরাতের টেবিল ঘড়ি। ছিটকে সেটা মাটিতে পরতেই তার ঘুম ভেঙ্গে গেল। হঠাৎ প্রচন্ড শব্দে নুসরাতের ঘুম ভাঙ্গাতে সে ভয় পেয়ে লুম্বা একটা চিৎকার দিল। সেই চিৎকারে মিনি বিড়াল ভয়ে আরেকটা লাফ দিয়ে বারিন্দায় চলে এসে দিল প্রচন্ড গতিতে দৌড়। আগামী সাত দিন সে আর এই বাড়িতে আসবে না বলে ঠিক করে নিল, এই অবস্থায়ই।

গুনে গুনে সাত দিন পরেই মিনি বিড়াল এই বাড়িতে এলো। পাশের বাড়িগুলোতে কেউ তাকে আদর করে না, খাবার দেয় না। এই সাত দিনে সে শুকিয়ে যেন কাঠ হয়েছে।

বারিন্দা দিয়ে ঢুকেই সে দেখল নুসরাতের টেবিলে উপরে ঝুলে আছে একটা খাঁচা। আর তাতে আছে একটা ছোট পাখি। মিনি বিড়াল ঘরে ঢুকল। এই নতুন অতিথিটা দেখতে তো বেশ সুন্দর।

আর তখনই নুসরাত ঘরে ঢুকল। ঘরে ঢুকেই মিতু মিনি বিড়ালকে দেখল। মিনিকে দেখতেই সে তাড়া ফেলল। মিনি বুঝতেই পারল না সে এমন করছে কেন! তখনই মনে হল এত আদর করেছে তাকে। অথচ সে সেই আদরকে অবজ্ঞা করে সাত দিন এই বাড়িতে ফিরেনি।

মিনি একটা লম্বা লাফ দিয়ে বারিন্দায় এলো। তারপর দৌড়ে বাড়ির বাইরে চলে গেল।

বিকালে নুসরাত সাইকেল চালাতে মাঠে যায়। তার ঘরে ঢুকার একটা পথ জানা আছে। জানালার থাই গ্লাসটা সামান্য চাপ দিতেই খানিকটা ফাঁকা হয়। আর তা দিয়ে অনেক সময় সে এই ঘরে ঢুকে। এটা তার গোপন পথ। সে ছাড়া আর কেউ জানে না। নুসরাত ঘরে থাকলে সে কখনো এই পথ দিয়ে আসে না।

মিনি বিড়াল থাই গ্লাসে সামান্য চাপ দিতেই সে ঘরে ঢুকে গেল। তারপর ধীর পায়ে মিতুর টেবিলের কাছে চলে এলো। পাখিটা তাকে সেখতেই শব্দ করল। মিনি বিড়াল ঘাড় উঁচু করে ভাবল,বাহ! কি চমৎকার!

বেশ কিছুক্ষণ বসে বসে পাখিটা দেখল সে। নুসরাতের তেড়ে আসার দৃশ্যটা মনে করল। নুসরাত খুব কষ্ট পেয়েছে। সে এই বাড়িতে সাতটা দিন আসেনি। অথচ কত আদর করেছে তাকে। তাকে আদর করে কাছে নিতে চেয়েছে। সে তো অবহেলা করেছে সেই আদর। অবহেলা কেউ সহ্য করতে পারে না। কাউকে অবহেলা করতে নেই। তাই নুসরাত তার বদলে এই পাখিটা এনেছে। এখন তার আদরটা নিশ্চয়ই পাখিটা পাচ্ছে। অবহেলাত পরিনতি অশুভই হয়, আজ তা হারে হারে টের পাচ্ছে মিনি বিড়াল।

মিনি বিড়াল উঠে পরল। যা সে করেছে তার ফল তো তাকে ভোগ করতে হবে। সে জানালার থাই গ্লাসটার কাছে এলো। ঘাড় ঘুরিয়ে ছোট পাখিটাকে দেখল। কত সুন্দর একটা পাখি। থাক সব আদর তার জন্যই থাক। সে জানালা দিয়ে বের হবার আগে আবার ছোট পাখিটার দিকে তাকিয়ে মনে মনে বলল, বিদাই ছোট পাখি।

 

October 2, 2019 0 comment
3 FacebookTwitterPinterestEmail
রূপকথা

আকাশের কান্না

by Admin October 2, 2019
written by Admin

মোঃ নোমান সরকার

[১]

গাছগুলো অঝোরে কাঁদছে। প্রায় বিশ পঁচিশটা গাছ একসাথে কাঁদছে। যেন বৃষ্টি হচ্ছে। রাজকুমারী খাদিজা হতবাক হয়ে তাকিয়ে আছে অনেকখন ধরেই। গাছগুলো কাঁদতে পারে এমনটা কেবল না, ওরা কথাও বলতে পারে। কি অদ্ভূর ব্যাপারটা!

কান্না জড়িত গলায় একটা গাছ বলল, ‘তুমি রাজকুমারী, আমরা তা জানি। তুমি কি আমাদের হয়ে রাজার কাছে নালিশ করবে না? আমাদের খুব কষ্ট। দুষ্ট লোকগুলো প্রতিদিন শতশত গাছ কেটে ফেলছে। পাখিরা ঘর হারাচ্ছে। ঘর হারাচ্ছে অসংখ্য ছোট বড় প্রাণী।’

রাজকুমারী খাদিজা নিচু গলায় বলল, ‘আমি এ নিয়ে কথা বলব বাবার সাথে। কেউ গাছ কাটবে না আর। কিন্তু তোমরা কথা বলতে পার,এটি আমাকে অবাক করছে!’

আরেকটা গাছ বলল, আমরা প্রায় সব গাছই কথা বলতে পারি। আর আমাদের গাছদের একজনের সাথে আরেকজনের যোগাযোগ আছে গোটা পৃথিবীতেই। তবে খুব অল্প মানুষ আমাদের কথা শুনতে পায়, শুনতে পারে। খুব অল্প মানুষের সাথে আমাদের যোগাযোগ। পৃথিবীতে তারাও ছড়িয়ে আছে। তাদের ভিতরও আমাদের মতন নিজেদের ভিতর যোগাযোগ আছে।’

রাজকুমারী খাদিজা চঞ্চল গলায় বলল, আমার সাথে কারো কোন যোগাযোগ নেই তো।

গাছটা বলল, সময় হলেই হবে।

[২]

রাজকুমারী খাদিজা প্রাসাদে ফিরে এলো।

[চলবে]

October 2, 2019 0 comment
2 FacebookTwitterPinterestEmail
গল্প

ছোট পৃথিবী

by Admin October 1, 2019
written by Admin

মোঃ নোমান সরকার

নিতুকে বললাম, ‘চুলা জ্বালানো যাবে?’

নিতু বলল, ‘না। এখন না।’

আমি বললাম, ‘পানি গরম করতে হবে। আর তেজপাতা কোথায় রেখেছ, বলত?

‘ নিতু বিরক্ত হয়ে বলল, ‘পানি গরম করতে হবে মানে? এত ঠান্ডা তো পরেনি। নরমাল পানিতেই গোসল করো। আর তেজপাতা দিয়ে কি হবে?’

‘তেজপাতা পানিতে ডুবিয়ে সেই পানি গরম করে গোসল করব?’ আমি কথাটা বলতে বলতে মুগ্ধ চোখে নিতুকে দেখলাম। সে নীল রং এর একটা শাড়ি পরেছে। নিতু আজকাল সহজে শাড়ি পরে না। ওকে অসম্ভব সুন্দর লাগছে। আমি চোখ সরালাম না।

নিতু অবাক হয়ে বলল, ‘তোমার মাথা টাথা ঠিক আছে তো।’

আমি হাসলাম, ‘গায়ে ঘামের বাজে গন্ধ, সারাদিন আজ রোদেই কেটেছে। আর তেজপাতার পানিতে মরা চামড়া উঠে যায় সহজে। ত্বক নরম হয়। সতেজ লাগে। নেটে সার্চ দিয়ে দেখতে পার। কেবল রান্নায় না শতশত বছর ধরেই গসলের পানিতে এর ব্যবহার হচ্ছে।’

নিতু রেগে গিয়ে বলল, ‘এত সাজগোছ! বিষয় কি! আরেকটা বিয়ে করার মতলব হয়েছে। তাই না? বিয়ের বিষ নামানোর মন্ত্র আমার কাছে আছে।’

আমি কিছুক্ষন হাসলাম, ‘তেজপাতা কোথায় রেখেছ?’

নিতু তেড়ে এলো, ‘একটু আগে আমি রান্না ঘর পরিস্কার করেছি। তুমি আমার রান্না ঘর নোংরা করবে না,প্লিজ। আমার সবকিছু জায়গা মত রাখা। সংসার শুরু করার পর থেকে আজ পর্যন্ত কোন একটা জিনিশ এদিক সেদিক হয়নি। আর তুমি রান্না ঘরে ঢুকা মানেই সব এলোমেলো। আমি কিছুতেই দিব না। তুমি সরো।’

আমি বুঝে গেছি আজ আর হবে না তেজপাতা পাওয়া। আরেকটা কাজ করা যায়। কিছুক্ষন অপেক্ষা করা যায়। নিতু রাতে সব কাজ সেরে কম্পিউটারে অন লাইনে খবরের কাগজ পড়ে। খরচ বাঁচাতে দৈনিক পত্রিকা বন্ধ করেছে নিতু গত মাস থেকে। আমি বাসা থেকে সকালে বের হই, তাই এই নিয়ে মাথা ব্যাথা নেই। দৈনিক পত্রিকা অফিসেই পড়া হয়। কিন্তু নিতু তো পড়ে। মনটা এই নিয়ে খারাপ ছিল। যদিও এ নিয়ে কথা হয়নি। বলতে ইচ্ছেও করছিল না। কাগজে পাতা আর কম্পিউটারের পড়ার মধ্যে অনেক পার্থক্য। সকালের খবরের কাগজের ঘ্রাণ একেবারেই তো আলাদা।

আমি ঠিক করলাম নিতু কম্পিউটারে কাছে বসলেই সেই ফাঁকে রান্না ঘর হানা দেওয়া যাবে। আমি রান্না ঘর থেকে শোবার ঘরে ঢুকতেই নিতুও ঢুকল।

আমি নীচু গলায় বললাম, দেরি করে ফেললাম। মেয়েটা ঘুমিয়ে গেছে। ধ্যাত!

নিতু বলল, ‘বাবা! বাবা! করতে করতে ঘুমালো।’

আমি বললাম, আহ! মেয়েটা আমার ঘুমিয়ে গেছে। হুম। তোমার সাথে ছাড়া গল্প করার কেউ নেই। এসো গল্প করি। গল্পের শুরুতে তোমাকে ছুঁয়ে দেই।’

না। এই ময়লা হাতে তুমি আমাকে ছুবে না। যাও, আগে গোসল সেরে নাও।’

আমি বললাম, ‘হুম। আচ্ছা ঠান্ডা পরেছে না খুব?’

নিতু সাদামাটা গলায় বলল,’স্যারের এখন চা লাগবে। তাই না? ওসব হবে না। এখন থেকে ২কাপ চা। নাস্তার পরে আর সন্ধ্যার পর তুমি এলে। আগামী বছর থেকে ইলা যাচ্ছে স্কুলে। বাজে অভ্যাস সব ছাড়তে হবে। একটা নিয়মের ভিতর আসতেই হবে।’

আমি খানিক ভ্রু কুঁচকে বললাম, ‘সব নিয়ম কি আজ থেকে পালন করতে হবে?’

নিতু বলল, ‘গসল সেরে আসো। তারপর নিয়মগুলো নিয়ে আলোচনা করি। আর আজ থেকে শুরু করলে কেমন হয়? চা দিয়ে শুরুটা করা যাক।’

আমি বিরক্ত গলায় বললাম,’খুবই বাজে চিন্তা ভাবনা তোমার। আচ্ছা চায়ের দরকার নেই। একটু পানি গরম করি, কফি খাই।’

নিতু অবাক গলায় বলল,’কফি ফুরিয়েছে দেড় মাস আগে।’

আমিও অবাক হলাম,’বলনি তো!”

নিতু বলল,’বাজারের লিস্টে লেখা আছে। আমি বাজারের লিস্ট তোমাকে মেইল করেছি তাও ৩ দিন আগে।’

আমি পকেট থেকে দ্রুত মোবাইল ফোনটা বের করে মেইল চেক করলাম। বাজারের লিস্ট দেখে আঁতকে উঠলাম, ‘আরে চা পাতাও নেই!’

নিতু গলা নামিয়ে বলল,’তুমি চা খেতে চেয়েছ। আমি দেইনি এমনটা কি হয়েছে? আমি বলতে গিয়েও বলিনি। ভাবলাম যখন লিস্ট দেখবে সেটা তো দেখবেই।’

আমার খুব খারাপ লাগল। তার মানে সকালে আমি আজ চলে গেছি তাড়াহুড়া করে নাস্তা না খেয়ে, দেরি হয়েছিল বলে। তাহলে সকালের চা নিতু খেতে পারেনি।

নিতু পরিবেশটা হাল্কা করতে একটু অভিনয় করে বলল, ‘স্যারের আজকাল শরীরের ঘ্রাণ আর মরা চামড়া নিয়ে ভাবা হয়। কিভাবে ঘরের খবর রাখবে? সুখে আছো বাবু।’

আমি ভারী লজ্জা পেলাম। বারেন্দায় এসে দাঁড়ালাম। বারেন্দার গ্রীল্টাকে খামচে ধরে রাতের আকাশের দিকে তাকালাম। রাতের আকাশটা মেঘে ঢেকে আছে। আমি আকাশের দিকে তাকিয়েই রইলাম। আচ্ছা,আকাশটা কত বড়। আকাশ এত বড় কেন? আর আমাদের মাটির পৃথিবীটা এত ছোট কেন? এই প্রশ্নের ভিতর আমি ডুবে গেলাম।

নিতু এসে পাশে দাঁড়াল। একটা হাত রাখল আমার কাধে। আমি খুব নীচু গলায় বললাম, আকাশটা এত বড়! আর পৃথিবীটা কত ছোট! ছোট পৃথিবী!

October 1, 2019 0 comment
2 FacebookTwitterPinterestEmail
শিশুতোষ গল্প

লহরীর বায়না

by Admin October 1, 2019
written by Admin

মোঃ নোমান সরকার

লহরী দৌড়ে মায়ের কাছে ছুটে এলো। সে হাঁপাচ্ছে।

মা বল,’আরে থাম থাম। কি হয়েছে?’

লহরী বলল, ‘মা তোমার কাছে নুপুর আছে? আমি পায়ে দিব। পরলে সুন্দর লাগবে না মা?’

মা বলল, ‘হুম সুন্দর লাগবে। পরীর মতন লাগবে।’

লহরী বলল,’ মা? ওমা, তখন কি পরীরা এসে আমাকে নিয়ে যাবে?’

মা বলল, ‘আমি কি তোমাকে পরীর সাথে যেতে দিব?’

লহরী হেসে দিল। আর রহস্য ভরা গলায় বলল,’মা, সেদিন তুমি বলেছিলে পরী বলে কিছু নেই। আজ যে বললে পরী নিয়ে যাবে, তার মানে পরী আছে। তাই না মা?’

মা চুপ করে থাকতে দেখে, লহরী বলল, ‘পরী এলে আমি সত্যি সত্যি পরীর সাথে চলে যাব। দেখো কিন্তু। আচ্ছা আদরের মা আমার আগে নপুর তো দাও?’

মা আলমারি থেকে একটা বক্স বের করে সেখান থেকে একটা নুপুর বের করল। লহরী বয়স এখন ৬। নুপুরটা হাতে নিয়ে মা আনন্দ নিয়ে নুপুরটা দেখতে লাগল। ওর জন্য বানানো। অনেক কারুকাজ করা কিন্তু সরু। খুবই অদ্ভুত সুন্দর। বড় হলে পরবে আর রূপার দাম যেভাবে বাড়ছে, সেই ভাবনা থেকেই নুপুরটা বানানো হয়েছিল। কিন্তু মেয়ে আমার বড় হবার আগেই নুপুর চাইছে। তার চোখে পানি এসে গেল। মা ভাঁজ করে নুপুর নিয়ে এসে লহরী দুই পায়ে পরিয়ে দিল। বাহ! অদ্ভুত সুন্দর লাগছে। সত্যি মেয়েকে পরী পরী লাগছে।

নুপুর পেয়ে লহরী সাড়া ঘরে হেঁটে বেড়াতে লাগল আর হাসতে লাগল। বাবাটা যে কি, এই সময় কেউ বাইরে থাকে? মেয়ে নুপুর পরেছে মা কি ফোনে বলেনি বাবাকে। বাবা আসে না কেন? কখন আসবে? মাকে তাও প্রশ্ন করল না। কেবল ঘড়ি দেখল বারবার। বিকাল পেরিয়ে যায়। লহরী জানে বাবা সন্ধ্যার পরেই আসে। তবুও। মা কি বলেনি লহরী নুপুর পরেছে। বাবাটা না যেন কেমন! তবে বাবা দুষ্ট আছে। বাবা এখনো চোখে হাত দিয়ে বলে আমি লুকিয়েছি। বাবা বুঝেই না আমি অনেক বড় হয়ে গেছি। তবুও বাবাকে বুঝতে দিতে চায় না লহরী সে যে অনেক বড় হয়ে গেছে। চোখে হাত দিয়ে লুকানোটা তো ছোটদের খেলা। বাবা এই সব বুঝে না। বুঝেই না সে আর ছোট নেই। বাবা একটু বোকাও আছে।

সন্ধ্যা পেরিয়ে গেছে। লহরী পড়তে বসছে নিজে নিজে। হঠাৎ কি হলো, সে মায়ের কাছে এসে বলল, ‘মা আমাকে তোমার একটা শাড়ি পরিয়ে দাও তো। বাবা দেখুক তার মেয়ে অনেক বড় হয়েছে। সে কি ছোট? মোটেও ছোট না। দাও তো মা শাড়ি পরিয়ে।’

লহরী জন্য একটা লাল শাড়ি কিনেছিল পহেলা বৈশাখে। মা হাসতে হাসতে সেই শাড়ি ওকে পরিয়ে দিতে চাইল। কিন্তু সে সেই শাড়ি পরবে না। সে বায়না ধরেছে মায়ের শাড়ি পরবে।

মা অনেকগুলো শাড়ি বিছানা মেলে দিল। লহরী ঝামেলায় পরে গেল। মায়ের সবগুলো শাড়ি তো সুন্দর। কোনটা পরবে?

এমন সময় বাবা এলো। কলিং বেল টিপতে মা ছুটে যাচ্ছে দরজার দিকে। লহরী খুব জোরে বলল, মা এই ঘরে বাবাকে ঢুকতে দিবে না। আমি এই ঘরে শাড়ি পরব। কাপড় পাল্টানোর সময় কেউ কার ঘরে ঢুকতে হয় না। বাবা তো বোকা। এই সব নিয়ে বাবা হয়ত ভাবে না। বাবাকে এই ঘরে আসতে দিবে না।

লহরী ঘরের দরজা লাগিয়ে অনেক রাগ হলো। বাবা যখন দেরি করছে। আর একোটু দেরি করলে কি হত। মা এখন বাবাকে দেখবে নাকি তাকে শাড়ি পরাবে। আর বাবার সাথে মায়ের এত কি গল্প। বাবা এলে মা যেন আমাকেই চিনে না। পরীরা আসুক সত্যি সত্যি আমি চলে যাব। একবারে যাব না। এই দুই দিন পরীদের সাথে থেকে বাবাকে আর মাকে ভয় দেখাব। তখন আমাকে বেশি মূল্য দিতে হবে। বাবা এলেও মা আমাকে সময় বেশি দিবে।

মা তাকে নীল রং এর শাড়ি পরিয়ে দিয়েছে। কিন্তু শাড়িটা মোটা মোটা লাগছে। মাপে হবে না বলে মা কয়েক ভাঁজ করিয়ে পরিয়েছে। তবে এই শাড়িটাই তার ভালো লেগেছিল। রাতের বেলায় ঘরের ভিতর নীল আকাশ। শাড়িটা একটূ মেঘ বা সাদা সাদা থাকলে ভালো হত। সে যখন বাবার মতন অফিস করবে, তখন নিজে নিজেই এমন শাড়ি কিনে ফেলবে।

শাড়ি পরে সে বাবার কাছে এলো। আরে বাবাকে দেখে এত লজ্জা লাগছে কেন! শাড়ি পরেছে বলে?

বাবা মুগ্ধ চোখে তাকিয়ে আছে। বাবা কিছু বলার আগে লহরী বলল, ‘দেখ বাবা আমি বড় হয়ে গেছি।’

র

October 1, 2019 0 comment
2 FacebookTwitterPinterestEmail
Newer Posts
Older Posts

Categories

  • আমার ছোটবেলা
  • আমার ভাবনা
  • কিছু কথা
  • কিশোর গল্প
  • গল্প
  • ছড়া
  • জানা অজানা
  • ভূতের গল্প
  • রান্না ঘর
  • রূপকথা
  • শিশুতোষ গল্প
  • স্বাস্থ্য কথা
  • Facebook
  • Twitter

@2021 - All Right Reserved. Designed and Developed by PenciDesign


Back To Top
Samogro
  • মূলপাতা
  • সাহিত্য
    • কিশোর গল্প
    • শিশুতোষ গল্প
    • ছড়া
  • কিছু কথা
    • আমার ছোটবেলা
    • স্বাস্থ্য কথা
    • জানা অজানা
    • বিবিধ
  • তুলির আঁচড়
    • গ্যালাক্সি
  • কেনাকাটা
  • রান্না ঘর
    • রান্না ঘর

      স্পাইসি চিকেন গোজন্স

      November 16, 2019

      রান্না ঘর

      বাটার কেক

      November 11, 2019

      রান্না ঘর

      ডিমের কোরমা

      July 31, 2019

      রান্না ঘর

      কাঁকরোলের দোলমা

      July 27, 2019

      রান্না ঘর

      মিষ্টি কুমড়া দিয়ে মুরগী রান্না

      July 19, 2019

  • আমাদের কথা
  • যোগাযোগ